Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সঞ্জীব মল্লিক,বাঁকুড়া: স্কুলে ৮৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে (Insufficient Teacher) পাস মাত্র ৮ জন, সর্বোচ্চ নম্বর মাত্র ৩০ শতাংশ। স্কুলে নেই অঙ্ক, ভৌতবিজ্ঞান ও ভূগোলের শিক্ষক, হতদরিদ্র এলাকায় চোখের জলে স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রনা ছাত্র ছাত্রী থেকে শুরু করে অভিভাবকদের ।
মাত্র ৮ জন পাস (Insufficient Teacher)
মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্য জুড়ে পাসের হার প্রায় (Insufficient Teacher) ৮৭ শতাংশ। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রদীপের এই উজ্জ্বল আলোর নীচেই জমে থাকা ঘুটঘুটে অন্ধকারের নজির বাঁকুড়ার পুনিশোল গ্রামের উপরডাঙ্গা হাইস্কুলের ছবি। চলতি বছর স্কুলের ৮৩ জন মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর মধ্যে এবার পাস করেছে মাত্র ৮ জন। স্কুলের সর্বোচ্চ প্রাপ্ত নম্বর ২১০ অর্থাৎ মাত্র ৩০ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরে অঙ্ক, ভৌত বিজ্ঞান ও ভূগোলের শিক্ষকহীন উপরডাঙ্গা হাইস্কুল জুড়ে আপাতত অকৃতকার্য পড়ুয়াদের চোখের জলে শুধুই স্বপ্ন ভঙ্গের যন্ত্রণা।
বঞ্চিত ছাত্রছাত্রীরা (Insufficient Teacher)
বাঁকুড়ার ওন্দা ব্লকের পুনিশোল গ্রাম একশো শতাংশ (Insufficient Teacher) সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। গ্রামের একটা বড় অংশের মানুষের পেশা ফেরিওয়ালা। অনেকে দিনমজুরি করে সংসার চালান। দিন আনি দিন খাই-পরিবারগুলির কাছে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া একপ্রকার বিলাসিতাই। কিন্তু তারপরেও শুধুমাত্র সরকারি স্কুলের উপর ভরসা রেখে পরিবারের ছেলেমেয়েদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলেন গ্রামের অনেক অভিভাবকই। ভর্তি করেছিলেন গ্রামের উপরডাঙ্গা হাইস্কুলে। কিন্তু সেখানে সময় যত গড়িয়েছে পড়ুয়াদের প্রতি সরকারি বঞ্চনার তালিকা ততই দীর্ঘ হয়েছে।
নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক
সাড়ে পাঁচশো পড়ুয়ার স্কুলে বরাদ্দ চার জন শিক্ষকের মধ্যে দুজন দিনের পর দিন ব্যস্ত থেকেছেন মিড ডে মিল আর বিভিন্ন ধরনের প্রকল্পের নথিপত্র তৈরীর কাজে। বাকি ২ জন শিক্ষক কোনোক্রমে সামাল ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর পড়ুয়াদের পঠন পাঠন। স্কুলে অঙ্ক, ভৌতবিজ্ঞান বা ভূগোলের কোনো শিক্ষক না থাকায় সেসব ক্লাস চলে যায় বাদের খাতায়। পড়ুয়াদের অধিকাংশই হতদরিদ্র পরিবারের হওয়ায় বাইরে টিউশানি নেওয়ার সুযোগও ছিল না তাদের কাছে। ফলে অশিক্ষার অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরার তাগিদে স্কুলগামী পড়ুয়াদের কাছে অঙ্ক, ভৌত বিজ্ঞান বা ভূগোলের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে গেছে আনটাচড।
জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় হোঁচট
আর তারই ফল পড়েছে স্কুলের এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায়। শুধুমাত্র স্কুলের শিক্ষকদের পঠন পাঠনে ভরসা রেখে যে পড়ুয়ারা রাজ্যের অন্যান্য স্কুলের পড়ুয়াদের সঙ্গে টেক্কা দিতে পারতো সমানে সমানে, তাদের একটা বড় অংশই হোঁচট খেয়ে গেলো জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায়। ৮৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কোনোক্রমে পাস করল মাত্র ৮ জন পরীক্ষার্থী। স্বাভাবিকভাবেই এখন চোখের জলে স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা নিয়ে দিন কাটাচ্ছে ওই স্কুলের পড়ুয়ারা।
আরও পড়ুন: Daspara Clash: সাবমার্সিবলের তাঁর ছিঁড়ল তৃণমূলের লোকেরা! ঘটনায় উত্তপ্ত সিউড়ির দাসপাড়া
স্কুলের হাল ফিরবে?
পড়ুয়াদের দাবি শুধুমাত্র সরকারি বঞ্চনায় তাদের যেভাবে ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ডুবে গেছে আগামী দিনের পড়ুয়ারা যেন তার থেকে রেহাই পায়। রাজ্যে সরকারের পালাবদলের পর স্কুলের হাল ফিরবে বলে আশাবাদী অভিভাবক ও প্রাক্তন পড়ুয়ারাও। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি সংশ্লিষ্ট দফতরে বারংবার আবেদনের পরেও শিক্ষক মেলেনি। স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী থাকলে আজ এই অত্যন্ত লজ্জাজনক পরিস্থিতির মুখে পড়তে হত না স্কুলটিকে। স্কুলের এই ফলাফলের জন্য শিক্ষকের অপ্রতুলতার কথা স্বীকার করে নিয়ে স্কুল শিক্ষা দফতরের দাবি দ্রুত ওই স্কুলে যাতে ৩ টি শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ করা যায় তার চেষ্টা চলছে।


