Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: লোকসভা নির্বাচনের আগে ফের মুর্শিদাবাদে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার জেলার একাধিক কর্মসূচিতে যোগ দেন তিনি। সভামঞ্চ থেকেই রাজ্যের চলমান পরিস্থিতি, প্রশাসনিক কাজ এবং রাজনৈতিক উত্তাপ-সবকিছু নিয়েই মুখ খোলেন তৃণমূল নেত্রী। অন্যদিকে একই দিনে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে দল সাসপেন্ড করেছে। তিনি মমতার সভায় হাজির হলেও বক্তৃতার সময় মঞ্চে ওঠেননি। তাই আজ মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে নিয়ে কী মন্তব্য করেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
নদীভাঙন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা (Mamata Banerjee)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এদিন নদীভাঙন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি জানান, গঙ্গার ভাঙন রুখতে বারবার কেন্দ্রকে অনুরোধ জানানো হলেও কোনও সাড়া মেলেনি। ফরাক্কা ব্যারেজ এলাকায় ড্রেজিংয়ের কথা কেন্দ্র বলেছিল, কিন্তু প্রতিশ্রুত অর্থ এখনও রাজ্য পায়নি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ভাঙন রোধে রাজ্য সরকার দেড় হাজার কোটির প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠিয়েছে, কিন্তু তারও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “নদীভাঙন মানুষের জীবনে বড় সংকট। আমরা ১৭টি প্রকল্প চালু করেছি। এই খাতে ইতিমধ্যেই ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি।”

সাম্প্রদায়িকতা ইস্যুতেও কড়া বার্তা (Mamata Banerjee)
সাম্প্রদায়িকতা ইস্যুতেও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। দেশের রাজনৈতিক আবহে যাঁরা ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন, তাঁদের সতর্ক হতে বলেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলার ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক সাফল্যের প্রসঙ্গও আসে তাঁর বক্তব্যে। মমতা জানান, সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের বিখ্যাত ছানাবড়া জিআই ট্যাগ পেয়েছে-যা রাজ্যের গর্ব বাড়িয়েছে। তাঁর কথায়, “আমাদের সময়ে প্রায় চল্লিশটিরও বেশি জিআই ট্যাগ পেয়েছে বাংলার পণ্য।”

সুপার ইউনিট চালুর প্রস্তুতি
এদিন সাগরদিঘি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেখানে ৬৬০ মেগাওয়াটের সুপার ইউনিট চালুর প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়েছে। ২০১৭ সালে এই প্রকল্পের ঘোষণা হয়েছিল, এখন তা বাস্তবায়িত হতে চলেছে। ১০ ডিসেম্বর থেকে ইউনিটটি বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে বলে আশা। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই প্রকল্পের ফলে প্রায় ২৬ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রসঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী ফের পুরনো স্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাবাসাহেব আম্বেদকর বাংলা থেকেই নির্বাচিত হয়ে সংসদে গিয়েছিলেন-যা রাজ্যের জন্য গর্বের। পাশাপাশি গান্ধিজীর সঙ্গে বাংলার সম্পর্ক, নেতাজীর সহযোদ্ধা শাহনাওয়াজ খানের মতো ব্যক্তিত্বদের গুরুত্বও স্মরণ করেন তিনি। সম্প্রতি রাজ্যসভার একটি নোটিফিকেশন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে-যেখানে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া নিয়ে বিতর্কের ইঙ্গিত রয়েছে বলে তাঁর দাবি।


