Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ডলারের তুলনার রেকর্ড পতন ঘটেছে ভারতীয় মুদ্রার। বিশ্ব জুড়ে বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজার থেকে জমা পুঁজি তুলে নেওয়ার ফলে নজিরবিহীন ভাবে তলানিতে ঠেকেছে ভারতীয় মুদ্রার দর (Rupee Depreciation)। এর পাশাপাশি আরও বেশকিছু কারণ রয়েছে। এখন এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ কী? অর্থনীতিবিদরাও বা কী ভাবছেন?
আশঙ্কা সত্যি করে দিন কয়েক আগে ডলারের তুলনার টাকার দামের পতন ঘটেছে। ৯০টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বর্তমান ১ ডলারে ভারতীয় মুদ্রায় ৮৯টাকার কিছু বেশি। কিন্তু টাকার এমন রেকর্ড পতনের (Rupee Depreciation) কারণ কী? অর্থনীতিবিদরা কিন্তু এর পিছনের একাধিক কারণের কথা উল্লেখ করছেন, একদিকে যেমন রপ্তানি কমে যাওয়ার প্রসঙ্গের কথা তাঁরা বলছেন, পাশাপাশি বিশ্বের বিনিয়োগকারিরা ভারতীয় বাজার থেকে পুঁজি তুলে নেওয়ার কারণকেও ব্যাখ্যা করছেন।
আরও পড়ুন:Jharkhand Bypass: বড় অঙ্কের ডিলের পরেই নজরে এই স্টক
পতনের মূল কারণ কী? (Rupee Depreciation)
ভারতীয় মুদ্রার এই রেকর্ড পতনের পিছনে অর্থনীতিবিদরা একাধিক কারণের কথা উল্লেখ করেছেন:
বিনিয়োগ প্রত্যাহার: বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার বাজার এবং অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে দ্রুত তাঁদের জমা পুঁজি তুলে নিচ্ছেন। এর ফলে বাজারে ডলারের সরবরাহ কমে যাচ্ছে এবং টাকার ওপর চাপ বাড়ছে।
রপ্তানি হ্রাস: অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের রপ্তানি কমে যাওয়াও টাকার মূল্য হ্রাসের একটি প্রধান কারণ। রপ্তানি কম হওয়ায় দেশে ডলারের আগমন কমে গেছে।
আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের আমদানি ব্যয় বেড়েছে। এর ফলে ডলারের চাহিদা আরও বেড়েছে, যা টাকার পতনে (Rupee Depreciation) ইন্ধন জুগিয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ ও উত্তরণের পথ
এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য দেশের অর্থনীতিবিদরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিচ্ছেন:
১. ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি: অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দেশে ডলারের সরবরাহ বাড়াতে হবে। এর জন্য প্রবাসী ভারতীয়দের মাধ্যমে বা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।
২. রপ্তানিতে জোর: রপ্তানিকে আরও সহজ এবং প্রতিযোগিতামূলক করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পায় এবং ডলারের আগমন বাড়ে।
৩. ফরেক্স রিজার্ভের ব্যবহার: রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)-কে প্রয়োজন অনুযায়ী ফরেক্স রিজার্ভ থেকে ডলার বাজারে ছেড়ে টাকার পতন সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
৪. মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: দেশের অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি, কারণ উচ্চ মুদ্রাস্ফীতিও টাকার ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
৫. বিনিয়োগ আকর্ষণ: বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য এবং ভারতীয় বাজারে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:Repo Rate: রেপো রেট কমতেই দালাল স্ট্রিট চাঙ্গা
সংশ্লিষ্ট মহলের মত, এই পরিস্থিতি রাতারাতি বদলানো সম্ভব নয়। ডলারের মূল্যের সঙ্গে টাকার যে পতন (Rupee Depreciation) হয়েছে, তা সামাল দিতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। এই মুহূর্তে সরকার এবং আরবিআই-এর সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে ভারতীয় মুদ্রাকে স্থিতিশীলতা দিতে।


