Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বড়দিন মানেই কলকাতাবাসীর কাছে আনন্দের কিছু বিশেষ মুহূর্ত (Christmas Celebration)। ডিসেম্বর এলেই শহরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। পার্ক স্ট্রিট ও সংলগ্ন সাহেবপাড়ার রেস্তোরাঁয় উপচে পড়া ভিড়, আলোর মালা, সুরা আর নানা ধরনের খাবারের উৎসব সব মিলিয়ে এক অনন্য পরিবেশ তৈরি হয়। শুধু খ্রিস্টান সম্প্রদায় নয়, এখন বড়দিন কলকাতার সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।

বড়দিনের উদযাপনের ঐতিহাসিক সূত্রধর (Christmas Celebration)
ইতিহাস বলছে, যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন পালনের রীতি প্রথমদিকে কেবল খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। খ্রিস্টাব্দের চতুর্থ শতাব্দীতে ইউরোপের খ্রিস্টান রাষ্ট্রগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ২৫ ডিসেম্বর দিনটি যিশুর জন্মোৎসব হিসেবে পালন শুরু করে। পরে ধর্মপ্রচার ও উপনিবেশ বিস্তারের হাত ধরে এই উৎসব ছড়িয়ে পড়ে সারা পৃথিবীতে।
খ্রিস্টধর্মের বিস্তার (Christmas Celebration)
ষোড়শ শতকে পর্তুগিজ বণিকদের ভারতে আগমন এবং পরে ব্রিটিশদের উপনিবেশ স্থাপনের পর দেশে খ্রিস্টধর্মের প্রচার আরও সুদৃঢ় হয়। বাণিজ্যিক সংস্থার সঙ্গে মিশনারিরা এশিয়া ও আফ্রিকার নানা দেশে গিয়ে যিশুর উপদেশ ছড়িয়ে দেন। কলকাতা ছিল ব্রিটিশ ভারতের প্রথম রাজধানী ফলে এখানে বড়দিন ছিল সাহেব ও ইউরেশিয়ান সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎসব।
বড়দিনের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ (Christmas Celebration)
কলকাতায় বড়দিন পালনের প্রচলন মূলত ব্রিটিশ আমলেই শুরু। পরবর্তীকালে ব্রাহ্মসমাজের উদ্যোগে ২৫ ডিসেম্বর ‘খ্রিস্টোৎসব’ পালন জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে হিন্দু সমাজ এবং পরে শহরের সাধারণ মানুষও এই উৎসবে অংশ নিতে শুরু করেন। গ্রেগরিয়ান নববর্ষের উদযাপনও একই পথে সর্বজনীনতা লাভ করে।
‘গোরস্তান কা রাস্তা’ (Christmas Celebration)
আজ যে পার্ক স্ট্রিট বড়দিনের কেন্দ্রবিন্দু, তার অতীত কিন্তু একদম ভিন্ন। ১৭৬২ সালে তৈরি এই রাস্তার পূর্বদিকে ছিল একাধিক খ্রিস্টান কবরস্থান। তাই রাস্তাটির নাম ছিল ‘গোরস্তান কা রাস্তা’ বা ‘Burial Ground Road’। ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে ‘লটারি কমিটি’ দরিদ্র মানুষদের সরিয়ে ইউরোপীয়দের আবাস তৈরি করে সেই সময় থেকেই অঞ্চলটি ‘সাহেবপাড়া’ নামে পরিচিতি পায়। শীতের রাতে বড়দিন উদযাপন তখনই শুরু হয়, যা ক্রমে বিশাল আকার ধারণ করে।
কলকাতার উৎসবমুখরতা (Christmas Celebration)
বর্তমানে বড়দিন মানেই পার্ক স্ট্রিটে আলোকমালা, অ্যালেন পার্কে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, এবং এলাকার রেস্তোরাঁয় বিশেষ খাবার। এ যেন শহরের সবচেয়ে উজ্জ্বল উৎসব। খ্রিস্টান পরিবার থেকে শুরু করে সব সম্প্রদায়ের মানুষ সকলেই আজ বড়দিনের আনন্দে সামিল হন। কলকাতার ক্রিসমাস এখন ইউরোপীয় ঐতিহ্য ও বাঙালি উৎসব-প্রীতির এক চমৎকার মিশেল।
আরও পড়ুন: India: যশস্বীর শতরানে সিরিজ জয় ভারতের! রো-কো জুটির কামব্যাকে মান বাঁচল গম্ভীরের
কলকাতার বড়দিন
একসময় কেবল খ্রিস্টান সম্প্রদায়েই সীমাবদ্ধ ছিল বড়দিন, আজ তা শহরের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরিবার, বন্ধু, প্রেমিক-প্রেমিকা সবাই মেতে ওঠে আলোর ঝলক, কেকের গন্ধ আর উচ্ছ্বাসে। ফলে বড়দিন আজ আর শুধু ধর্মীয় উৎসব নয় এটি কলকাতার এক সর্বজনীন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।



