Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: গত শনিবার গভীর রাতে উত্তর গোয়ায় ঘটে গেল এক বিধ্বংসী দুর্ঘটনা (Goa Government)। বার্চ বাই রোমিও লেন নাইটক্লাবে বৈদ্যুতিক আতশবাজি থেকে আগুন লেগে মৃত্যু হয় ২৫ জনের। মৃতদের মধ্যে ছিলেন ২০ জন কর্মী ও পাঁচজন পর্যটক। গোয়ার পর্যটন ইতিহাসে এটি প্রথমবারের মতো ঘটে এমন এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। গোয়া সরকার ও প্রশাসন অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা পুনরায় না ঘটে।
জেনারেটরের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা (Goa Government)
ঘটনার চারদিন পর বুধবার গোয়া সরকার ঘোষণা করেছে, এবার থেকে নাইটক্লাব, রেস্তোরাঁ, পাব, হল বা ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানেও আতশবাজি ও বৈদ্যুতিক আতশবাজি পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। স্মোক জেনারেটরও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিশেষ অনুমতি নিয়ে কিছু অনুষ্ঠানেই সীমিতভাবে আতশবাজি ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও, তা কড়া নিয়ন্ত্রণের আওতায় থাকবে। গোয়া মুখ্যমন্ত্রী ড. প্রমোদ সাওয়ান্ত জানান, এই নিয়ম আগামী দুই মাসের জন্য প্রযোজ্য থাকবে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ধার্য করা হবে। অর্থাৎ বড়দিন থেকে বছরের শেষ পর্যন্ত গোয়ায় আলোকশোভিত উদযাপন সীমিত হবে।

বৈদ্যুতিক আতশবাজি (Goa Government)
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নাইটক্লাবের ডান্স ফ্লোরের ভিতরে বৈদ্যুতিক আতশবাজি পোড়ানো হচ্ছিল। সেই সময় নাচের মঞ্চের চারপাশে আতশবাজি ফাটছিল, যা আগুন লাগার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ডান্স ফ্লোরের উপরেই আগুনের ফুলকি দেখা দেয়, এরপর হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। গোয়া ডিজিপি জানিয়েছেন, সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে নয়, বৈদ্যুতিক আতশবাজি থেকে আগুন ছড়িয়েছে। আগুন লাগার সময় ১০০ জন পর্যটক ছিলেন। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ না থাকায় সবাই নিরাপদে পালাতে পারেননি। বেসমেন্টে আটকে থাকা অধিকাংশ মানুষ দমবন্ধ হয়ে মারা যায়।
মৃতের জাতীয়তা ও কর্মী পরিচয় (Goa Government)
মৃতদের মধ্যে ২০ জন ছিলেন কর্মী এবং পাঁচজন পর্যটক। নিহত কর্মীরা মূলত উত্তরাখণ্ড, ঝাড়খণ্ড, অসম, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। এছাড়া চারজন নেপালি নাগরিকও মারা গেছেন। গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী জানান, মৃতদেহ তাঁদের বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার (Goa Government)
ঘটনার পর থেকেই গোয়া পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। নাইটক্লাবের দুই মালিক সৌরভ ও গৌরব লুথরাকে থাইল্যান্ডে আটক করে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় তদন্তকারী দল তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, ভারত নিয়ে আসার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই তাদের পাসপোর্ট সাসপেন্ড করেছে এবং ইন্টারপোলে ব্লু কর্নার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। রবিবার তাদের বিরুদ্ধে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষার অজুহাতে তারা চার সপ্তাহের আগাম জামিন চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিল, যা বুধবার রোহিনি আদালত খারিজ করে দেয়। এর আগে গোয়া পুলিশ নাইটক্লাবের অন্য মালিক অজয় গুপ্তকে গ্রেপ্তার করেছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত মূল আউটলেট ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে নাইটক্লাবের চিফ জেনারেল ম্যানেজার রাজীব মোদক, জেনারেল ম্যানেজার বিবেক সিং, বার ম্যানেজার রাজীব সিংহানিয়া, গেট ম্যানেজার রিয়াংশু ঠাকুর এবং কর্মী ভারত কোহলি।
আরও পড়ুন: Underwater Robot Drones: নদী সেতুর নিরাপত্তায় রেলের নতুন উদ্যোগ
প্রশাসনের কঠোর সতর্কবার্তা
গোয়া সরকার ও পুলিশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই ধরনের দুর্ঘটনা পুনরায় না ঘটুক তা নিশ্চিত করার জন্য কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে। আতশবাজি ও বৈদ্যুতিক আতশবাজি ব্যবহার রোধই একমাত্র উপায়। পর্যটকরা এ ব্যাপারে সচেতন থাকবেন এবং কেউও আইন অমান্য করলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গোয়ায় সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড পর্যটক, কর্মী ও প্রশাসনের জন্য এক চরম সতর্কবার্তা। এ থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী বড় উদযাপনগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে।



