Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: স্পনসরের একটি অনুষ্ঠানে একমঞ্চে দেখা গেল ইস্ট-মোহন দুই দলের প্লেয়ারদের (East Bengal)।
এক মঞ্চে দুই প্রতিপক্ষ (East Bengal)
কলকাতা ডার্বির উত্তাপ যে চিরকালীন সেটা সকল ফুটবলপ্রেমী মানুষরাই জানেন। দুই দলের সমর্থকদের মধ্যেই এই হাই ভোল্টেজ ম্যাচকে ঘিরে চড়তে থাকে উত্তেজনার পারদ। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা। প্রজন্ম বদলেছে কিছু সেই বদলানো প্রজন্মের হাত ধরেই লড়াই চলেছে ঘটি-বাঙাল, ইলিশ-চিংড়ির (East Bengal)।
কলকাতার ডার্বি সম্পর্কে যে সকল ফুটবলপ্রেমী মানুষরা আছেন তাঁদের স্মরণে অন্যতম একটি ম্যাচ আইএফএ শিল্ড ফাইনাল, ১৯৭৫ সাল। কলকাতার ডার্বির ইতিহাসে এরকম একপেশে ফাইনাল বোধহয় সেইভাবে কেউই মনে করতে পারবেন না। সেই সময় ইস্টবেঙ্গল সাতের দশকে প্রায় সব ট্রফিই জিতছে। এই সময়ে কলকাতা ডার্বিতেও ছিল অপরাজেয়। ৫-০ গোলে ম্যাচে জয় পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। এই ধারের ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে মোহনবাগান সমর্থক উমাকান্ত পালধির আত্মহত্যা করেন। সেই ঘটনা ময়দানে ফেলেছিল গভীর শোকের ছায়া। সুতরাং ডার্বি যে শুধু মাত্র একটা ফুটবল ম্যাচ নয় সেটা বোঝাই যায়। এই ডার্বিকে ঘিরেই রয়েছে আবেগ, উত্তেজনা, ভালবাসার এক অন্যন্য অনুভূতি।
এমন অনেক ঘটনাই ঘটেছে ফুটবল ময়দানের ডার্বিকে কেন্দ্র করে। আবার সেই ডার্বির প্রাক লগ্নে একই মঞ্চে দেখা গেল মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল দুই দলের প্লেয়ারদের। মধ্য কলকাতার একটি হোটেলে দুই ক্লাবের স্পনসরের উদ্যোগে এক অনুষ্ঠানে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলকে দেখা যায় (East Bengal)।

রবিবার আইএসএল-এর মেগা ডার্বিতে একে অপরের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হবে দুই প্রধান। পয়েন্ট টেবিলে দুই দল যে জায়গায় রয়েছে সেখান থেকে এই ম্যাচ কার্যত একপ্রকার ফাইনাল। যে দল জিতবে তাদের হাতেই ট্রফি উঠবে। সেই কারণে সমর্থকদের মধ্যেও উন্মাদনার পারদ তুঙ্গে। সদ্য প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে ৬৩ হাজার টিকিট।
অনুষ্ঠানে লাল-হলুদ ব্রিগেডের প্রতিনিধিত্ব করতে উপস্থিত ছিলেন বিপিন সিং, এডমুন্ড এবং আন্তন সয়বার্গ। অন্যদিকে সবুজ-মেরুনের দলের তরফে ছিলেন জেমি ম্যাকলারেন, শুভাশিস বসু এবং বিশাল কাইথ। দুই দলের প্লেয়ারদের একে অপরের সঙ্গে হাসি মুখে ছবি তুলতে। তবে মাঠে যখন মুখোমুখি তখন সেটা কোনও রণক্ষেত্র থেকে কম কিছু না।
ডার্বি ম্যাচের উত্তাপে এই অনুষ্ঠানে ছিল না। দুই দলকে বাক্যবিনিময়ে জড়াতেও দেখা যায়নি। ফটোগ্রাফারদের অনুরোধে একটি বল হাতে নিয়ে দুই দল এক সঙ্গে ছবিও তুলতে দেখা যায়। তবে করমর্দনের সময় দায়সারা ভাব দেখা যায়। আসলে এটা বৃহৎ যুদ্ধের আগে প্রিলিমিনারি সতর্কতা। কারণ দুই দলের প্লেয়াররাই জানেন ছোট ছোট যেকোন পদক্ষেপ বড় বিতর্ক তৈরি করতে সময় নেবে না। রবিবার বড় ম্যাচের আগে নিজেদের মনোযোগ ধরে রাখতে এবং নার্ভের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাঁদের এই সতর্কতা।
আরও পড়ুন: Indian Railways: যাত্রীদের জন্য বড় উপহার দিল ভারতীয় রেল
এই ম্যাচ আইএসএল-এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডার্বি। দুই দলের পয়েন্ট সমান। ফলে দুই দলের উপর প্রবল চাপ রয়েছে এই ম্যাচে নামার আগে। এছাড়া সেদিন মাঠেও যেন উত্তাপের ঝড় বইবে। গ্যালারি থেকে ভেসে আসবে স্লোগান। এইসব অতিক্রম করেই দুই দল জানে নিজেদের লক্ষ্য স্থির রাখতে হবে। সেই কারণেই সৌজন্য অনুষ্ঠানেও সংযত দুই দলের ফুটবলাররা (East Bengal)।


