Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: গোয়ার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে আঞ্জুনা এলাকার ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ নাইটক্লাবের মালিক সৌরভ ও গৌরব লুথরার গ্রেফতার ও পুলিশ হেফাজত(Goa Fire)। একসময় বিলাসবহুল জীবনে অভ্যস্ত এই দুই ভাই বুধবার রাত কাটান আঞ্জুনা থানার লক-আপে মেঝেতে শুয়ে, ম্যাট্রেস বা কম্বল ছাড়াই। খাবার ছিল সাধারণ ভাত, ডাল ও আচার। ৬ ডিসেম্বরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ আরও জোরদার হয়েছে।
বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা (Goa Fire)
উত্তর গোয়ার একটি আদালত লুথরা ভাইদের পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন, অবৈধ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত কীভাবে এই বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠল। একইসঙ্গে গোয়ার নাইটলাইফ হাবগুলোতে নিরাপত্তায় ব্যর্থতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সতর্কতা সত্ত্বেও যেখানে ভিড়, অস্থায়ী কাঠামো ও ফায়ার শো নিয়মিত হয়ে উঠেছে।
লুথরা ভাইদের পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ (Goa Fire)
গোয়া পুলিশ ৮০টিরও বেশি বিষয়ে লুথরা ভাইদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। ক্লাব পরিচালনা, আর্থিক বন্দোবস্ত, ইভেন্টের অনুমতি এবং সহযোগী, ম্যানেজার ও আয়োজকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। আগুনের রাতে ফায়ার শোর অনুমোদন কে দিয়েছিল, নিরাপত্তা ছাড়পত্র কীভাবে নেওয়া হয়েছিল এবং বাণিজ্যিক স্বার্থ কোন মৌলিক সতর্কতাকে ছাপিয়ে গিয়েছিল এসবই তদন্তে উঠে আসছে।
বিশেষ সুবিধার আবেদন নাকচ
আদালতে হাজিরার সময় অভিযুক্তরা স্বাস্থ্য সমস্যার কথা বলে বিশেষ সুবিধা চান। বিচারক উত্তর গোয়া জেলা হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। চিকিৎসকরা ফিট ঘোষণা করলে আদালত লক-আপে বিশেষ সুবিধার আবেদন নাকচ করে। নিহতদের পরিবারের আইনজীবীরা বলেন, এত বড় ট্র্যাজেডিতে অভিযুক্তদের কোনও বিশেষ ছাড় দেওয়া যায় না।
ফুকেট থেকে ইন্টারপোলের সহায়তায় ফেরত (Goa Fire)
আগুনের পরপরই দেশ ছাড়ার চেষ্টা করা লুথরা ভাইদের থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে ইন্টারপোলের সহায়তায় ফেরানো হয়। দিল্লি হয়ে পুলিশ হেফাজতে গোয়ায় আনা হয় তাদের। এতে নথি ও প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানের বাইরে গিয়ে মূল নিয়ন্ত্রকদের জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ মিলেছে।
বড় প্রশ্নের মুখে গোয়ার নাইটলাইফ (Goa Fire)
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, খেজুরপাতা ও কাঠের অস্থায়ী ছাদে ইলেকট্রিক ফায়ারক্র্যাকার লাগায় আগুন দ্রুত ছড়ায়। অভিযোগ, ক্লাবের লাইসেন্স ২০২৪ থেকেই নবীকরণ হয়নি এবং প্রায় ১৮ মাস ধরে অবৈধভাবে চলছিল। ব্যাকওয়াটারে অবস্থান, সংকীর্ণ রাস্তা ও ঢোকা বেরনোর রাস্তা ছোট হওয়ায় উদ্ধারকাজে দেরি হয়। লুথরা ভাইদের বিরুদ্ধে হত্যা ও অবহেলার অভিযোগে মামলা হয়েছে। তদন্তে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা এবং দায়ও খতিয়ে দেখা হবে। গোয়ার নাইটলাইফ কি এবার সত্যিই নিরাপত্তা মানতে বাধ্য হবে, সেটাই বড় প্রশ্ন।



