Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলার রাজনীতিতে কিছু নাম থাকে, যাঁরা ভোটের ফলের চেয়েও সংগঠন (Shamik Bhattacharya), আদর্শ ও দীর্ঘ রাজনৈতিক সাধনার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শমীক ভট্টাচার্য সেই বিরল রাজনীতিকদের অন্যতম। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বিজেপি ও তার আদর্শিক মূল সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সঙ্গে যুক্ত এই নেতা আজ বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর কাঁধে ভর করেই ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার করতে চাইছে রাজ্য বিজেপি।

ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির হাতেখড়ি (Shamik Bhattacharya)
শমীক ভট্টাচার্যের রাজনীতিতে হাতেখড়ি খুব অল্প বয়সেই। কিশোর বয়সে হাওড়া জেলা থেকেই তিনি জনসংঘের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৭১ সাল থেকে তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রচারক হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেই সময় থেকেই তাঁর জীবনের লক্ষ্য স্থির সংগঠন, আদর্শ এবং রাজনৈতিক কর্মযজ্ঞ। প্রচারক হিসেবে কাজ করার সময়ই তাঁর প্রথম সাংগঠনিক দায়িত্ব আসে। বিজেপির যুব মোর্চার দক্ষিণ হাওড়া মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব কাঁধে তুলে দেওয়া হয় তাঁর ওপর। এখান থেকেই শুরু হয় এক দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা।
সংগঠনের ভিত মজবুত করা নেতা (Shamik Bhattacharya)
শমীক ভট্টাচার্য বরাবরই ‘সংগঠনের মানুষ’। প্রায় ৪৪ বছর বিজেপির সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন।টানা ১১ বছর বিজেপি যুব মোর্চার রাজ্য সম্পাদক, ৩ দফায় রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক, ২০১৯ সালে রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র, সংগঠন পরিচালনায় তাঁর দক্ষতা, ধৈর্য ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দলীয় স্তরে বারবার প্রশংসিত হয়েছে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বৌদ্ধিক চর্চা (Shamik Bhattacharya)
অনেকের কাছেই অজানা, শমীক ভট্টাচার্যের শিক্ষাগত যোগ্যতা। তাঁর নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, তিনি স্নাতক স্তর পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। ১৯৮৮ সালে তিনি সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে বি.এ পাশ করেন। শুধু শিক্ষাগত ডিগ্রি নয়, তাঁর সাহিত্যচর্চা ও রাজনৈতিক ইতিহাস বিষয়ে গভীর জ্ঞান তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। বিভিন্ন বিতর্ক সভায় তাঁর যুক্তির আঙ্গিকে বারবার উঠে এসেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শক্তি চট্টোপাধ্যায় যা বাংলার বুদ্ধিজীবী মহলেও তাঁকে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
বিধানসভা ও লোকসভায় লড়াই (Shamik Bhattacharya)
২০১৪ সাল শমীক ভট্টাচার্যের রাজনৈতিক জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ২০১৪ সালে প্রথম উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে বসিরহাট দক্ষিণ থেকে বিধায়ক হন, বাদল ভট্টাচার্যের পর তিনিই বাংলায় বিজেপির দ্বিতীয় বিধায়ক, তবে রাজনীতির পথ সবসময় মসৃণ ছিল না। ২০১৬ সালে বসিরহাট দক্ষিণে দীপেন্দু বিশ্বাসের কাছে পরাজয়, ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে দমদম থেকে লড়ে সৌগত রায়ের কাছে হার, ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে রাজারহাট গোপালপুরে অদিতি মুন্সির কাছে পরাজয় বারবার পরাজয়ের মুখোমুখি হলেও শমীক থেমে থাকেননি। সংগঠনের কাজে তাঁর ভূমিকা কখনওই কমেনি।
জাতীয় স্তরে উত্থান (Shamik Bhattacharya)
২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যসভার সাংসদ হন। বাংলা থেকে কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি রাজ্যসভায় যান।
অনন্ত মহারাজের পর তিনিই বাংলার দ্বিতীয় বিজেপি রাজ্যসভার সাংসদ। রাজ্যসভায় তাঁর উপস্থিতি বিজেপির জন্য শুধু সাংসদ সংখ্যা বৃদ্ধিই নয়, বরং এক অভিজ্ঞ কণ্ঠস্বরের সংযোজন।
আরও পড়ুন: TMC: প্রধানমন্ত্রীর সভার বিজ্ঞাপনে বানান ভুল, বিজেপিকে নিশানা তৃণমূলের
বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি
রাজ্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শমীক ভট্টাচার্য একের পর এক নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছেন। বিশেষ করে মুসলিম সমাজের উদ্দেশে তাঁর বার্তা রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ একে কৌশলগত পদক্ষেপ বলছেন, আবার কেউ সমালোচনাও করছেন। তবে সমর্থকরা মনে করছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও আদর্শিক দৃঢ়তাই তাঁকে এই দায়িত্বের জন্য যোগ্য করে তুলেছে।



