Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর (Post Poll Violence) থেকে বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ মহানির্দেশক (DGP) সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানান, নির্বাচনে হার-জিত যাই হোক না কেন, আইন নিজের হাতে তুলে নিলে পুলিশ কোনোভাবেই রেয়াত করবে না।
পরিসংখ্যান ও গ্রেফতারি (Post Poll Violence)
ডিজিপি জানান, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে (Post Poll Violence) রাজ্যে অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যেই ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:
- রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় হিংসার ঘটনায় ২০০-র বেশি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে।
- এই অভিযোগের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত ৪৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
- এছাড়াও শান্তি বিঘ্নিত করার আশঙ্কায় প্রিভেন্টিভ সেকশনে ১১০০-র বেশি জনকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে।
- তিনি আরও জানান, আসানসোল, কোচবিহার, পূর্ব বর্ধমান, বারুইপুর এবং বসিরহাটের মতো এলাকাগুলো থেকে অশান্তির খবর বেশি এসেছে। তবে আজ সকাল থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এবং নতুন করে কোনো বড় হিংসার খবর নেই।
বসিরহাটে পুলিশের ওপর হামলা
বসিরহাটের ন্যাজাট এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডিজিপি। তিনি জানান, গতকাল একদল দুষ্কৃতী অন্য একটি গোষ্ঠীর ওপর হামলা করার উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) সেখানে পৌঁছলে দুষ্কৃতীরা গুলি চালায়। এতে নাজত থানার ওসি সহ পাঁচ জন আহত হন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিরাপত্তা ও কেন্দ্রীয় বাহিনী
রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন নিয়ে জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে স্মৃতিনাথ গুপ্তা জানান, বর্তমানে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। এছাড়াও ইভিএম পাহারা দেওয়ার জন্য আরও ২০০ কোম্পানি মোতায়েন আছে। আগামী দিনে আরও বাহিনী আসার কথা। রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের জন্য রাজ্য ও জেলা স্তরে জয়েন্ট কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
ভিআইপি নিরাপত্তা ও বুলডোজার বিতর্ক
নেতাদের নিরাপত্তা
নেতাদের নিরাপত্তা কমানো প্রসঙ্গে ডিজিপি স্পষ্ট করেন যে, যাঁদের জেড প্লাস (Z+) নিরাপত্তা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ‘ইয়েলো বুক’ প্রটোকল পুরোপুরি মানা হচ্ছে। শুধুমাত্র প্রটোকলের বাইরের অতিরিক্ত বাহিনী প্রত্যাহার করে আইন-শৃঙ্খলার কাজে লাগানো হয়েছে। এছাড়া রাজ্যে বুলডোজার নিয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক র্যালি বা প্রদর্শনীর অনুমতি দেওয়া হবে না বলেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন।
আরও পড়ুন: Close Fight Election Results: হাড্ডাহাড্ডি লড়াই থেকে একতরফা জয়, নজর কাড়ল ব্যবধানের ফারাক!
সাধারণ মানুষের প্রতি বার্তা
ডিজিপি-র আবেদন, “কারোর কোনো অভিযোগ বা ক্ষোভ থাকলে সরাসরি থানায় এসে এফআইআর করুন। পুলিশকে কাজ করতে দিন। কোনোভাবেই নিজের হাতে আইন তুলে নেবেন না।” তিনি সব থানার ইনচার্জদের (OC/IC) নির্দেশ দিয়েছেন যেন কোনো অশান্তির খবর পাওয়া মাত্রই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।


