Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অষ্টমীর সন্ধ্যায় যাঁকে দেখা গিয়েছিল চেতলা অগ্রণীর মণ্ডপে, বড়দিনে তিনিই পার্ক স্ট্রিটের মায়াবী আলো গায়ে মেখে হাজির অ্যালেন পার্কে (Christmas 2025)। কলকাতার উৎসবযাপন ঠিক এমনই দিন পাল্টায়, ধর্ম পাল্টায়, কিন্তু উচ্ছ্বাস থামে না। উৎসব যেখানে মুখ্য, তাকে ঠেকায় কার সাধ্যি! যিশু পুজোর গিজগিজে ভিড়ে পাশাপাশি হাঁটলেন ক্রিস্টোফার জার্বার, উৎপল দে, আবু ওবায়েদ। ধর্ম যাঁর যাঁর, উৎসব সবার এই প্রবচন যেন ঘুরল পায়ে পায়ে। রাসেল স্ট্রিট, চৌরঙ্গি, কিড স্ট্রিট হয়ে জনসমুদ্র চষে ফেলল সাহেবপাড়া। সেলফি উঠল একের পর এক, রিচ ফ্রুট কেকে কামড় বসাল অনেকে। মাথায় প্লাস্টিকের বলগা হরিণের সিং, তরুণীদের চিলচিৎকার “লেটস পার্টি!”

পার্টির সংজ্ঞা বদলায় সময়ের সঙ্গে (Christmas 2025)
ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেল ‘পার্টি’র সংজ্ঞা। সকালের দিকে বিনোদন পার্ক, চিড়িয়াখানা, জাদুঘরে দমবন্ধ ভিড়। আলিপুর চিড়িয়াখানা সূত্রে খবর, বড়দিনে ৪৪ হাজারেরও বেশি মানুষের পা পড়েছিল সেখানে। ইকো পার্ক চিড়িয়াখানায় দর্শক সংখ্যা ছিল প্রায় পাঁচ হাজার। ভারতীয় জাদুঘরেও ঠাসাঠাসি ভিড়। ইতিহাস, বিজ্ঞান আর বিনোদনের মেলবন্ধনে বড়দিনের সকাল কাটিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
পিকনিক মুডে শহরের ঐতিহ্যবাহী প্রাঙ্গণ (Christmas 2025)
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, সায়েন্স সিটি সারা দুপুর জুড়ে পরিবার নিয়ে জমজমাট পিকনিক। ভিক্টোরিয়ায় পা রেখেছেন ৩৪,১৫১ জন, ইকো পার্কে সেই সংখ্যা ছুঁয়েছে ৫০,৭০০। শীতের রোদ, খোলা আকাশ আর ছুটির আমেজ সব মিলিয়ে শহরের ঐতিহ্যবাহী প্রাঙ্গণগুলি যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছিল।

রাত বাড়তেই নৈশজীবনের ডাক (Christmas 2025)
দিনের আলো ফুরোতেই শহরের নৈশ ক্লাবগুলিতে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার হাতছানি। জেনারেশন জেডের জটলা সেখানেই। চাকরিসূত্রে বিদেশে থাকা অনেকেই বছরের এই সময়টায় ফেরেন ঘরে। তায় আবার মরশুমের শীতলতম দিন এমন মাহেন্দ্রক্ষণে ঘরে থাকা যেন বাঙালির স্বভাববিরুদ্ধ। টিনএজাররা সকাল সকাল বেরিয়ে পড়েছিল। ময়দান থেকে পার্ক স্ট্রিট শহরের প্রতিটি ক্যাফে, রেস্তরাঁয় ছিল ঠাসাঠাসি ভিড়।
সাহেবি উৎসব, সাহেবি প্রাতঃরাশ (Christmas 2025)
সাহেবি ফেস্টিভ্যালে ‘ইংলিশ ব্রেকফাস্ট’ যেন মাস্ট। মঞ্জিরাকে নিয়ে অমিত লাইনে দাঁড়িয়েছিল পার্ক স্ট্রিটের শতাব্দীপ্রাচীন রেস্তরাঁ ফ্লুরিজে। সকাল দশটায় ভিন্টেজ রেস্তরাঁর বাইরে জনসমুদ্র স্পষ্ট করে দিচ্ছিল ঘরে অলস বসে থাকতে রাজি নয় কেউই। যাঁরা পার্ক স্ট্রিটের অ্যান্টিক রেস্তরাঁয় জায়গা পাননি, তাঁরা নিজের পাড়ার ক্যাফেতেই সেরেছেন সসেজ, বেকন, গ্রিলড টম্যাটো দিয়ে সাহেবি প্রাতঃরাশ।

পরিবহণ ব্যবস্থার চাপে পরীক্ষা
যাত্রীরা যাতে পার্ক স্ট্রিট ও ময়দান স্টেশনে নেমে নির্দিষ্ট দিক দিয়ে বেরোতে পারেন, তার জন্য আগেই প্রবেশ ও প্রস্থান পথ আলাদা করে দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। সেই পরিকল্পনাতেই বড়দিনে সাহেবপাড়ার বিপুল চাপ সামাল দিল মেট্রো। বড়দিন উপলক্ষে প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত বাস চলেছে। তবে সুযোগ বুঝে মানুষের পকেট কেটেছে ট্যাক্সি ও অ্যাপ ক্যাব। হলুদ ট্যাক্সিতে ছিল মাত্রাছাড়া ভাড়া। ফলে বাড়ি ফিরতে ভুগতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে।



