Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘জোয়ারভাঁটা’-তে নিশা চরিত্রে অভিনয় করে ইতিমধ্যেই দর্শকদের নজর কেড়েছেন অভিনেত্রী শ্রুতি দাস (Shruti Das)। চরিত্রের গভীরতা, আবেগ এবং সাহসী উপস্থিতি তাঁকে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে। সম্প্রতি ধারাবাহিকের এক বিশেষ পর্বে শ্রুতিকে দেখা গিয়েছে ছদ্মবেশে এক বৃদ্ধার লুকে। সেই দৃশ্যে একটি দৌড়ের অংশ ছিল, আর সেই দৌড়ই হয়ে উঠেছে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।

একটি দৃশ্য, অসংখ্য মন্তব্য (Shruti Das)
বৃদ্ধার সাজে দৌড়ানোর দৃশ্যটি সম্প্রচারিত হওয়ার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় নানা মন্তব্য। কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, “এ কেমন দৌড়?” কেউ আবার কটাক্ষ করে লিখেছেন, “নায়িকার ওজন বেড়েছে বলেই দৌড়াতে পারেন না”, “কচ্ছপের মতো দৌড়”। একটি দৃশ্য, একটি মুহূর্ত, তার ভিত্তিতেই অভিনেত্রীর শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে রীতিমতো রায় ঘোষণা করে বসেছেন অনেকে।
নীরবতা ভেঙে শ্রুতির স্পষ্ট বক্তব্য (Shruti Das)
সাধারণত ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কখনওই প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দিতে দেখা যায় না শ্রুতি দাসকে। কিন্তু এইবার ব্যতিক্রম। ‘জোয়ারভাঁটা’ ও নিশা চরিত্রকে ঘিরে দর্শকদের অতিরিক্ত আগ্রহ ও ভালোবাসাই তাঁকে কলম ধরতে বাধ্য করেছে। শ্রুতি নিজেই জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে কাটোয়ায় ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ বাইক দুর্ঘটনা তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সেই দুর্ঘটনায় তাঁর বাঁ পায়ে মারাত্মক সফট টিস্যু ইনজুরি হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা চলেছে, এখনও মাঝে মাঝে ফিজিওথেরাপির প্রয়োজন হয়। চিকিৎসকের ভাষায়, এই সমস্যা সম্পূর্ণভাবে আর সারার নয়।

শারীরিক সীমাবদ্ধতা, অথচ অভিনয়ের লড়াই (Shruti Das)
শ্রুতি তাঁর লেখায় অকপটে স্বীকার করেছেন, বাঁ পায়ে ব্যালান্সের সমস্যা, কোমরের L4–L5 অংশে গ্যাপ, পা বেঁকে যাওয়া, শিরায় টান, পা ফুলে যাওয়া, নীল হয়ে যাওয়া, এই সমস্ত কষ্ট নিয়েই তাঁকে কাজ চালিয়ে যেতে হয়। বিশেষ করে শীতকালে এই যন্ত্রণা আরও বেড়ে যায়। অনেক কাজই রয়েছে যা তাঁর জন্য চিকিৎসাগতভাবে নিষিদ্ধ, তবুও অভিনয়ের দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে যান না তিনি। দাঁতে দাঁত চেপে, শরীরের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করেই ক্যামেরার সামনে সাবলীল থাকার চেষ্টা করেন।
অভিনেত্রীর যন্ত্রণা (Shruti Das)
শ্রুতি নিজেই বলেছেন, দর্শকরা নিশাকে এতটাই ভালোবাসেন যে তাঁরা চান নিশার সবকিছুই নিখুঁত হোক, এমনকি দৌড়টাও। কিন্তু সেই নিখুঁততার সীমা যে একজন মানুষের শরীর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে না, সেটাই অনেক সময় ভুলে যাওয়া হয়। একটি চরিত্রের জন্য দর্শকের আবেগ যেমন সত্যি, তেমনই সত্যি সেই চরিত্রের আড়ালে থাকা মানুষের লড়াই, ক্ষত, সীমাবদ্ধতা।
২০১৮ যে বছর এখনও পিছু ছাড়ে না (Shruti Das)
শ্রুতির কথায় স্পষ্ট, ২০১৮ সাল তাঁকে বহু দিক থেকে ভেঙে দিয়েছে। সেই ক্ষতির মাশুল তাঁকে আজও প্রতিদিন দিতে হয়। তবুও সেই অধ্যায় তিনি এতদিন প্রকাশ্যে আনেননি। কিন্তু নিশাকে নিয়ে যাঁরা এতটা কনসার্নড, তাঁদের কাছে শ্রুতিকে চেনাটাও জরুরি বলেই মনে করেছেন অভিনেত্রী। এটা কোনও সহানুভূতি চাওয়ার পোস্ট নয় এটা বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহসী স্বীকারোক্তি।

আরও পড়ুন: Thalapathy Vijay: আর বড়ো পর্দায় ফিরবেন না থলপতি বিজয়?
সোশ্যাল মিডিয়ার রায় বনাম দায়বদ্ধতা
এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তোলে, আমরা কি খুব সহজেই মানুষকে বিচার করে ফেলছি না? একটি দৃশ্য, একটি ক্লিপ, কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও দেখে কি কারও জীবন, শরীর, লড়াই সম্পর্কে মন্তব্য করার অধিকার আমাদের আছে? শ্রুতি দাসের এই বক্তব্য কেবল একজন অভিনেত্রীর আত্মপক্ষ সমর্থন নয়, বরং সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে একটি প্রয়োজনীয় দলিল।



