Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের মুখে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ চড়ছে পশ্চিমবঙ্গে (Mamata Banerjee)। এখনও নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা না হলেও রাজ্যজুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ ও বাকযুদ্ধ। এই আবহেই বাঁকুড়ার বড়জোড়া থেকে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষ করে এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) প্রক্রিয়া ঘিরে বিজেপির অবস্থান এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন তিনি।

“অনুপ্রবেশকারী কি শুধু বাংলাতেই?” (Mamata Banerjee)
জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দাবি অনুযায়ী নাকি অনুপ্রবেশকারী শুধু বাংলাতেই রয়েছে, কাশ্মীরে কিংবা দেশের অন্য প্রান্তে নেই। এই দাবি মানতে নারাজ তৃণমূল সুপ্রিমো। সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “যদি বাংলাতেই শুধু অনুপ্রবেশকারী থাকে, তাহলে পহেলগাঁওয়ের ঘটনা কে ঘটাল? দিল্লিতে কিছুদিন আগে যে ঘটনা ঘটল, সেগুলো কারা করল?” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাস বা হিংসাত্মক ঘটনার দায় শুধুমাত্র বাংলার ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
“দুই মাসে কেন তাড়াহুড়ো?” (Mamata Banerjee)
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েই এদিন মূলত আক্রমণের সুর চড়ান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। কিন্তু মমতার অভিযোগ, এই তাড়াহুড়োর আড়ালে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কেন মাত্র দু’মাসের মধ্যে এসআইআর শেষ করার জন্য এত তাড়াহুড়ো? কাদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে?” এমনকি এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে এখনও পর্যন্ত ৫৮ থেকে ৬০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এই মৃত্যুর দায় নির্বাচন কমিশনের ঘাড়েই বর্তায় বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
ভিনরাজ্যে বাংলার শ্রমিকরা নিরাপদ নন? (Mamata Banerjee)
জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেন, উত্তর প্রদেশ, অসম, ওড়িশা ও রাজস্থানের মতো রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, “বাংলায় প্রায় দেড় কোটি পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন। আমরা তো কাউকে অত্যাচার করি না।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলির বিরুদ্ধে শ্রমিক নিগ্রহের অভিযোগ এনে রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

বাঁকুড়ায় তৃণমূলের লড়াই (Mamata Banerjee)
প্রসঙ্গত, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া জেলার ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৮টিই হাতছাড়া হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনেও জেলার দুই আসনের মধ্যে বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রে জয়ের মুখ দেখেনি শাসকদল। এই প্রেক্ষাপটেই বড়জোড়ার বীরসিংহপুর ময়দানে মমতার জনসভাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়ায় ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে তৃণমূল যে মরিয়া, এদিনের সভা তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত।
আরও পড়ুন: Kolkata : বর্ষবরণে মাতোয়ারা শহর কলকাতা, উৎসবের আনন্দে নিরাপত্তার কড়া বলয়
উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরার কৌশল
বক্তব্যের শুরুতে গত ১৪ বছরে তৃণমূল সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, একসময় মাওবাদী আতঙ্কে বাঁকুড়ায় আসতে ভয় পেত পর্যটকরা। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। পাশাপাশি বাঁকুড়া জেলার পড়ুয়াদের ভালো ফল এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।



