Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ব্রিগেডে গীতাপাঠের মঞ্চ থেকে হিন্দি ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা বলে উল্লেখ করেছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সেই নিয়ে এবার রাজ্যপালকে কড়া আক্রমণ শানালেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। ‘হিন্দি রাষ্ট্রভাষা নয়’, রাজ্যপালকে সংবিধানের ধারা মনে করালেন কুণাল ঘোষ। রাজ্যপালের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, রাজ্যপাল ভুল বলেছেন এবং অবিলম্বে তাঁকে প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে সেই ভুল সংশোধন করতে হবে।
রবিবার ব্রিগেডে গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখার সময় তিনি বলেন, “আমি হিন্দিতে কথা বলার চেষ্টা করব। ভুল হলে ক্ষমা করবেন। হিন্দি আমাদের রাষ্ট্রভাষা। রাষ্ট্রভাষা মা হয়। ইংরেজি দাইমা বা ধাত্রী মা। দাইমা কখনওই মায়ের মতো হয় না।”
‘হিন্দি রাষ্ট্রভাষা’ মন্তব্যের বিরোধিতা (Kunal Ghosh)
রাজ্যপালের এই ‘হিন্দি রাষ্ট্রভাষা’ মন্তব্য এবং ভাষার তুলনা নিয়ে সোমবার এক ভিডিও বার্তায় কঠোর বিরোধিতা করেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) বক্তব্য, “গতকাল (রবিবার) গীতাপাঠের আসরে বিজেপি নেতাদের সামনে রাজ্যপাল বলেছেন যে হিন্দি রাষ্ট্রভাষা। আমি তার তীব্র প্রতিবাদ করছি। মাননীয় রাজ্যপালের জানা উচিত, ভারতবর্ষে কোনও রাষ্ট্রভাষা নেই। সংবিধানের অষ্টম তফসিলে ২২ টি ভাষা আছে, যাদের সমান সম্মান ও গুরুত্ব আছে। তার মধ্যে কোনওটা রাষ্ট্রভাষা নয়, সরকারের কাজ চালানোর ভাষা।”
আরও পড়ুন: Mamata Banerjee: ইন্ডিগো বিভ্রাটে কেন্দ্রকে তোপ মমতার, যাত্রীদের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি!
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকার কাজের জন্য স্বীকৃত ভাষা হিসেবে হিন্দির ব্যবহার থাকলেও তা কোনোভাবেই রাষ্ট্রভাষা নয়। “বড়জোর কাজ চালাতে ব্যবহার হতে পারে। সে তো ইংরাজিও ব্যবহার হয়। কিন্তু হিন্দি ভারতবর্ষের রাষ্ট্রভাষা – এটা কখনও বলা যাবে না,” মন্তব্য করেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক।
কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) আরও বলেন, “বাংলার রাজ্যপাল, প্রাক্তন আইএএস – এত বড় একজন, তাঁর কাছ থেকে এই ভুল প্রত্যাশিত নয়। এনিয়ে একটা সংশয় তৈরি হতে পারে – কোনটা রাষ্ট্রভাষা আর কোনটা সরকারি কাজের জন্য স্বীকৃত ভাষা।”
আরও পড়ুন: BJP: ছাব্বিশের আগে নয়া কৌশল কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের, পুরনো বিজেপি নেতাদের নিয়ে সন্মেলন কলকাতায়
ভাষাকে ‘মা’ এবং ‘ধাত্রী মা’র সঙ্গে তুলনা করে রাজ্যপাল কাকে অপমান করলেন, সেই প্রশ্নও তোলেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তৃণমূলের তরফে স্পষ্ট দাবি জানানো হয়েছে, ভারতের কোনো রাষ্ট্রভাষা নেই এবং সব ভাষারই সমান মর্যাদা আছে। কুণাল ঘোষ আশা প্রকাশ করেন, রাজ্যপাল তাঁর বক্তব্য প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে সংশোধন করে নেবেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, কলকাতার মাটিতে দাঁড়িয়ে রাজ্যপালের এই মন্তব্য বিজেপি-র রাজনৈতিক ফায়দার ইঙ্গিত দিলেও, তৃণমূলের দ্রুত প্রতিবাদ ভাষা ও সাংবিধানিক মর্যাদা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল।


