Last Updated on [modified_date_only] by Ananya Dey
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : নিউ ইয়ার মানেই উচ্ছ্বাস, আলো, গান আর রাতভর উদযাপন। তবে উৎসব যত বড়, দায়িত্বও তত বেশি—এই বার্তাকে সামনে রেখেই বর্ষবরণে কলকাতা (Kolkata) জুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে লালবাজার। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহরকে কার্যত নিরাপত্তার দুর্গে পরিণত করা হচ্ছে।
শহরজুড়ে নিরাপত্তার কড়া বলয় (Kolkata)
৩১ ডিসেম্বর ও ১ লা জানুয়ারি—এই ২ দিন শহরজুড়ে মোতায়েন থাকবে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ পুলিশ কর্মী। এর মধ্যে ৩১ ডিসেম্বর থাকবেন ২ হাজার ৫০০ জন এবং ১ জানুয়ারি মোতায়েন থাকবেন ২ হাজার ৪০০ জন পুলিশ। বিশেষ করে বর্ষবরণের মূল আকর্ষণ পার্ক স্ট্রিট (Kolkata) এলাকাকে ৬ টি সেক্টরে ভাগ করে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। সেখানে দায়িত্বে থাকবেন ৮ থেকে ১০ জন ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার অফিসার। তাঁদের অধীনে থাকবেন অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনার, ইন্সপেক্টর, সাব-ইন্সপেক্টর ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ কর্মী।
শহরজুড়ে ১৫টি ওয়াচ টাওয়ার (Kolkata)
বর্ষবরণের (Kolkata) রাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির জন্য শহরজুড়ে তৈরি করা হচ্ছে ১৫টি ওয়াচ টাওয়ার। এর মধ্যে শুধুমাত্র পার্ক স্ট্রিট এলাকাতেই থাকবে ৫টি ওয়াচ টাওয়ার। পাশাপাশি এই এলাকায় মোতায়েন থাকবে কুইক রেসপন্স টিম বা কিউআরটি। শহরজুড়ে থাকবে প্রায় ৪০টি পুলিশ অ্যাসিস্ট্যান্স বুথ, হেভি রেডিও ফ্লাইং স্কোয়াড এবং নিয়মিত পেট্রোলিং।
প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি
প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিতেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কলকাতা পুলিশ। পার্ক স্ট্রিট এলাকা প্রায় ৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরায় মোড়া থাকবে। পাশাপাশি চলবে ড্রোনের নজরদারি। লালবাজারের হেড কোয়ার্টার থেকেই সার্বিক পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হবে।
নারী নিরাপত্তা
নারীদের নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশের উইনার্স টিমের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন থাকবে মহিলা পুলিশ ও সাদা পোশাকের পুলিশ। পার্ক স্ট্রিটসহ যেখানে বেশি ভিড় হবে, সেখানে থাকবে বাড়তি পুলিশি নজরদারি।
স্পেশ্যাল নাকা চেকিং
বর্ষবরণের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা মাথায় রেখে শহরের ১৫টি জায়গায় স্পেশ্যাল নাকা চেকিং চালানো হবে। মা ফ্লাইওভারে টু-হুইলারের জন্য কোনও নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও গতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। একই সঙ্গে সর্বদা প্রস্তুত থাকবে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ টিম। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, চিড়িয়াখানা, তারামণ্ডল, চার্চ এবং শহরের সমস্ত পিকনিক স্পটে মোতায়েন থাকছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একজন ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার অফিসার দায়িত্বে থাকবেন। পাশাপাশি মোটরবাইকে টহল দিয়ে ছিনতাই, মোবাইল চুরি ও শ্লীলতাহানির মতো ঘটনা রুখতে বিশেষ অভিযান চলবে।
অগ্নিকাণ্ড রুখতেও কড়া পদক্ষেপ
অগ্নিকাণ্ড রুখতেও নেওয়া হয়েছে কড়া পদক্ষেপ। বর্ষবরণ উপলক্ষে শহরের ২৬টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে ফায়ার ব্রিগেড। রুফটপে বাজি ফাটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee: খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ মুখ্যমন্ত্রী
শহরের হোটেলগুলিতেও কড়া নজরদারি
সম্প্রতি অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শহরের হোটেলগুলিতেও বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। বৈধ পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে না পারলে কোনও অতিথিকে হোটেলে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা পুলিশ।
আরও পড়ুন : Birati Fire: দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন, পুড়ে ছাই যদুবাবুর বাজার!
সব মিলিয়ে, বর্ষবরণের আনন্দ যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার ছায়ায় ঢাকা না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই এই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। লালবাজারের বার্তা স্পষ্ট—নিয়ম মেনে, নিরাপদে এবং শান্তিপূর্ণভাবে নতুন বছরকে স্বাগত জানাক কলকাতা।


