Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বর্ষবরণের আনন্দের মাঝেই দেশজুড়ে (Pakistani Drone) উদ্বেগ বাড়াল সীমান্তে পাকিস্তানের আরও এক নাশকতার চেষ্টা। জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলার সীমান্তবর্তী খাদি কর্মদা এলাকায় একটি ড্রোনের মাধ্যমে বিস্ফোরক-সহ একাধিক সন্দেহজনক প্যাকেট ফেলার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় বড়সড় নাশকতার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ড্রোনটি একাধিকবার চক্কর দেয় (Pakistani Drone)
জানা গিয়েছে, নববর্ষের দিন ওই ড্রোনটি প্রথমে পুঞ্চ (Pakistani Drone) জেলার খাদি কর্মদা এলাকায় ভারতীয় আকাশসীমায় প্রবেশ করে। সীমান্ত লাগোয়া এই অঞ্চলে ঢুকে ড্রোনটি একাধিকবার চক্কর দেয়। এরপর ভারতীয় ভূখণ্ডের উপর একের পর এক প্যাকেট ফেলে প্রায় পাঁচ মিনিট ওই এলাকাতেই অবস্থান করে। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, নির্দিষ্ট কোনও জঙ্গি যোগাযোগকারীর সিগন্যালের অপেক্ষাতেই ড্রোনটি সেখানে অপেক্ষা করছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। পরে ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ফের পাকিস্তানের দিকে চলে যায়।
বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ এবং নিষিদ্ধ মাদক (Pakistani Drone)
ঘটনার পরপরই এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালিয়ে ড্রোন (Pakistani Drone) থেকে ফেলা একাধিক প্যাকেট উদ্ধার করে সেনা ও কাশ্মীর পুলিশের যৌথ বাহিনী। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া প্যাকেটগুলির মধ্যে রয়েছে ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা আইইডি, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ এবং নিষিদ্ধ মাদক। এই সমস্ত সামগ্রী জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই পাঠানো হয়েছিল বলেই স্পষ্ট ধারণা নিরাপত্তা বাহিনীর।
অস্ত্র পাঠানোর ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক (Pakistani Drone)
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত পেরিয়ে ড্রোনের মাধ্যমে আইইডি ও অস্ত্র পাঠানোর ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ, এই ধরনের নাশকতা চালাতে জঙ্গিদের সরাসরি সীমান্ত পেরোতে হয় না। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। নববর্ষের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে এই প্রচেষ্টা নিরাপত্তা বাহিনীর উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
দু’টি গোষ্ঠী সক্রিয়
প্যাকেট উদ্ধারের পরেই পুঞ্চ জেলার খাদি কর্মদা এলাকা ও সংলগ্ন গ্রাম, পাহাড়ি অঞ্চল এবং বনাঞ্চল জুড়ে শুরু হয় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান। সেনা, কাশ্মীর পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর যৌথ দল গোটা এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। গ্রাউন্ড সার্চের পাশাপাশি আকাশপথে নজরদারি চালানো হচ্ছে। সন্দেহভাজনদের খোঁজে ব্যবহার করা হচ্ছে স্নিফার ডগ এবং আধুনিক নজরদারি সরঞ্জাম। এদিকে সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, পুঞ্চ ও কিশতওয়ার জেলার সীমান্তবর্তী এবং দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের ভিতরে জঙ্গি সংগঠন জৈশ-ই-মহম্মদের অন্তত দু’টি গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে বলে গোয়েন্দা তথ্য মিলেছে। প্রতিটি গোষ্ঠীতে দুই থেকে তিনজন জঙ্গি রয়েছে বলে অনুমান। এই গোষ্ঠীগুলি দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে এবং সুযোগের অপেক্ষায় ছিল বলেই মনে করা হচ্ছে।
একাধিকবার জঙ্গি সংঘর্ষ
অতীতে পুঞ্চ ও কিশতওয়ার জেলায় একাধিকবার জঙ্গি সংঘর্ষ, অনুপ্রবেশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ের ঘটনা ঘটেছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবার আরও সতর্ক রয়েছে সেনা ও পুলিশ। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ড্রোন থেকে ফেলা সামগ্রী উদ্ধারের পর জঙ্গিদের অবস্থান চিহ্নিত করার কাজ আরও জোরদার করা হয়েছে।
কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা
নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে গোটা জম্মু ও কাশ্মীর জুড়েই আগে থেকেই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সীমান্ত এলাকায় বাড়ানো হয়েছিল টহল ও নজরদারি। তার মধ্যেই সীমান্ত পেরিয়ে এই ধরনের ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। যদিও নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে বড় কোনও বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত চক্রের সন্ধানে তদন্ত চলছে। ড্রোনটির উত্স, নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি এবং এর সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি নেটওয়ার্ক খুঁজে বের করতে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার কথাও ভাবা হচ্ছে।


