Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: এক্সে সম্প্রতি এমন একটি ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে (Elon Musk), যেখানে ব্যবহারকারীরা গ্রক চ্যাটবটকে কমান্ড দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির বিশেষত মহিলাদের স্বল্পবসনা বা বিকিনি পরিহিত ছবি তৈরি করাচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, অনেক ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতি ছাড়াই এমন ছবি বানানো হচ্ছে। ফলে বিষয়টি নিছক বিনোদন ছাড়িয়ে গোপনীয়তা, সম্মতি ও ডিজিটাল সুরক্ষার প্রশ্নে গিয়ে ঠেকেছে। এই প্রবণতাকে ঘিরে নেটদুনিয়ায় ক্ষোভ ক্রমশ বাড়তে থাকে। বহু ব্যবহারকারী একে ‘বিপজ্জনক’ ও ‘অনৈতিক’ ট্রেন্ড বলে আখ্যা দেন। বিশেষ করে নারীদের শরীরকে এভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ইচ্ছেমতো উপস্থাপন করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অনেকেই।

সমালোচনার জবাব না ব্যঙ্গ? (Elon Musk)
এই আবহেই এলন মাস্ক নিজেই গ্রক ব্যবহার করে নিজের একটি বিকিনি পরিহিত ছবি পোস্ট করেন (Elon Musk)। শুধু তাই নয়, সেই ছবিকে তিনি ‘পারফেক্ট’ বলে প্রশংসা করেন এবং যাঁরা তা শেয়ার করেছিলেন, তাঁদের পোস্টও রিটুইট করেন। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এটি ছিল সমালোচনার বিরুদ্ধে এক ধরনের ব্যঙ্গাত্মক জবাব। অর্থাৎ, নিজেকেই ট্রেন্ডের অংশ করে দেখিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন এই বিষয়টি তাঁর কাছে হালকা মেজাজের, এতে আপত্তিকর কিছু তিনি দেখছেন না। সমালোচনার মুখে আত্মরক্ষার বদলে বিষয়টিকে ‘আমুদে’ ভঙ্গিতে উড়িয়ে দেওয়ার কৌশল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
হালকাভাব বনাম গভীর উদ্বেগ (Elon Musk)
মাস্কের এই পদক্ষেপ নেটদুনিয়ায় দ্বিমুখী প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। একদিকে তাঁর অনুরাগীরা বলছেন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই বিতর্ককে হালকা করে দেখাতে চেয়েছেন এবং সেন্সরশিপের বিপক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, এভাবে বিষয়টিকে তুচ্ছ করা আসলে সমস্যার গভীরতাকে অস্বীকার করার শামিল। কারণ, অনেক মহিলা নিজে কৌতূহল বা সাহসিকতা থেকে এমন ছবি দেখতে চাইছেন এটা এক দিক। কিন্তু তার বাইরেও বহু ক্ষেত্রে অন্যের পরিচয় ও মুখাবয়ব ব্যবহার করে অর্ধনগ্ন বা নগ্ন ছবি তৈরি করা হচ্ছে, যা স্পষ্টতই সম্মতির সীমা লঙ্ঘন করছে।
আরও পড়ুন: Dilip Ghosh: ‘ঘরছাড়া’ দিলীপই কি ফের ছাব্বিশে বিজেপির তুরুপের তাস?
আমুদে’ ভাবের মূল্য কতটা?
চ্যাটজিপিটি ও জেমিনির মতো এআই প্ল্যাটফর্মকে টক্কর দিতেই গ্রককে আনা হয়েছিল ভিন্ন স্বাদের চ্যাটবট হিসেবে যেখানে থাকবে তীক্ষ্ণ রসবোধ, খানিকটা বেপরোয়া ভাষা। কিন্তু সেই ‘আমুদে’ ভাব এখন বিতর্কের কেন্দ্রে। অশ্লীল ভাষা বা আপত্তিকর ছবি তৈরির অভিযোগ গ্রকের বিরুদ্ধে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে এআই যদি সীমারেখা না মানে, তবে তার দায় কার? নির্মাতার, নাকি ব্যবহারকারীর? এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনও অধরা।



