Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শুক্রবার, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় দিনে টলিউড ইন্ডাস্ট্রির এক অভূতপূর্ব ছবি ধরা পড়ল লালবাজারে (Tollywood Industry)। সাইবার অপরাধদমন শাখার দফতরে একযোগে উপস্থিত হলেন বাংলা চলচ্চিত্র জগতের প্রথম সারির শিল্পী, প্রযোজক ও পরিচালকরা। উদ্দেশ্য একটাই লাগাতার সাইবার হেনস্থা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ও অনৈতিক ডিজিটাল আক্রমণের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
.jpg.webp)
টলিউডের শীর্ষ মুখেরা লালবাজারে (Tollywood Industry)
এ দিন লালবাজার সাইবার অপরাধদমন শাখায় উপস্থিত ছিলেন স্ক্রিনিং কমিটির সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত, ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন শ্রীকান্ত মোহতা, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, আবীর চট্টোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, নিসপাল সিংহ রানে, নীলরতন দত্ত, রানা সরকার, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-সহ টলিউডের একাধিক বিশিষ্ট প্রতিনিধি। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সাইবার অপরাধদমন শাখার আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক চলে। বৈঠকে টলিউডের ডিজিটাল নিরাপত্তা, শিল্পীদের ব্যক্তিগত সম্মান এবং ছবির বাণিজ্যিক স্বার্থ এই তিনটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পায়।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি স্বরূপ বিশ্বাস (Tollywood Industry)
সাইবার অপরাধদমন শাখার দফতরে যাওয়ার আগে লালবাজারের সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। তিনি বলেন, “লাগাতার অকারণ হেনস্থার বিরুদ্ধে আমরা পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধ করতেই আজ সবাই লালবাজারে এসেছি।” তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত বিবৃতি জমা দেওয়া হবে, যেখানে টলিউডের সমস্ত প্রতিনিধির স্বাক্ষর রয়েছে। এই বিবৃতির মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে কড়া ও সুস্পষ্ট পদক্ষেপের দাবি জানানো হবে।
বৈঠকশেষে যৌথ বার্তা (Tollywood Industry)
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে আসেন পিয়া সেনগুপ্ত, স্বরূপ বিশ্বাস, শ্রীকান্ত মোহতা, যিশু সেনগুপ্ত, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, নিসপাল সিংহ এবং রানা সরকার। তাঁরা একযোগে জানান, “আমরা নগরপাল এবং সাইবার অপরাধদমন শাখার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। সাইবার হেনস্থা, ম্যানিপুলেশন করে ছবির রেটিং কমিয়ে দেওয়া, বিকৃত ছবি ও তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া এসব কোনওভাবেই কাম্য নয়।”

রেটিং ম্যানিপুলেশন থেকে বিকৃত ছবি (Tollywood Industry)
টলিউডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ছবির ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অনলাইন রেটিং কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিল্পীদের বিকৃত ছবি ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তাঁদের সামাজিক ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে।
এই ধরনের ডিজিটাল আক্রমণ শুধুমাত্র ব্যক্তি নয়, গোটা ইন্ডাস্ট্রির আর্থিক ও সৃজনশীল পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলেই দাবি টলিউডের।
ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তায় প্রশাসনের সহযোগিতা (Tollywood Industry)
টলিউড প্রতিনিধিদের বক্তব্য অনুযায়ী, লালবাজার কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। সাইবার অপরাধদমন শাখা আশ্বাস দিয়েছে, এই ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

আরও পড়ুন: Dilip Ghosh: ‘ঘরছাড়া’ দিলীপই কি ফের ছাব্বিশে বিজেপির তুরুপের তাস?
টলিউডের ঐক্যই বড় বার্তা
এই ঘটনায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক টলিউডের অভ্যন্তরীণ ঐক্য। মতপার্থক্য ভুলে, বিভিন্ন শাখার শিল্পী ও প্রযোজকরা এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট করে দিলেন, ডিজিটাল সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ইন্ডাস্ট্রি আর চুপ থাকবে না। সাইবার দুনিয়ায় সৃজনশীলতার স্বাধীনতা বজায় রাখতে এবং শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই লালবাজার অভিযান এমনটাই বার্তা দিল টলিউড।



