Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: একের পর এক বিকট শব্দে কেঁপে উঠেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলা (Venezuela)। শনিবার ভোররাতে রাজধানী কারাকাসে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন বিমান উড়ছে। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই সেই ধারণা ভেঙে পড়ে। এএফপি-র এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের অভিঘাতে গোটা শহর কেঁপে ওঠে। কোথা থেকে এই বিস্ফোরণ, কী তার উৎস প্রথমে তা স্পষ্ট না হলেও পরে জানা যায়, কারাকাসজুড়েই একাধিক স্থানে হামলা হয়েছে। এই বিস্ফোরণের ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন ভেনিজুয়েলা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে এই বিস্ফোরণের সঙ্গে কি ওয়াশিংটনের সামরিক তৎপরতার কোনও যোগ রয়েছে?

ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবহর (Venezuela)
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ক্যারিবীয় অঞ্চলে একটি শক্তিশালী নৌ টাস্ক ফোর্স মোতায়েন করেছেন। প্রকাশ্যেই তিনি ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে স্থল হামলার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন। যদিও কারাকাসে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণের সঙ্গে এই নৌ মোতায়েনের সরাসরি যোগ এখনও প্রমাণিত নয়, তবু সময়ের মিল আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত সোমবার ট্রাম্প দাবি করেন, ভেনিজুয়েলার মাদক পাচারকারী নৌযান ব্যবহৃত একটি ডকিং এলাকা লক্ষ্য করে মার্কিন বাহিনী অভিযান চালিয়েছে। সেই অভিযানে একাধিক নৌকা ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে অভিযানটি সামরিক বাহিনী নাকি সিআইএ পরিচালিত এ বিষয়ে তিনি মুখ খোলেননি। কোথায় এই হামলা হয়েছে, সে সম্পর্কেও স্পষ্ট করে কিছু জানাননি, শুধু বলেছেন যে আক্রমণটি “উপকূল বরাবর” হয়েছে।
ভেনিজুয়েলার মাটিতে প্রথম স্থল হামলার দাবি (Venezuela)
এই ঘটনাকে ঘিরে আরও বিতর্ক তৈরি হয়েছে এই কারণে যে, এটিকেই ভেনিজুয়েলার মাটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম স্থল হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এটি লাতিন আমেরিকায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।
মাদুরোর নীরবতা ও সহযোগিতার ইঙ্গিত (Venezuela)
ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সোমবারের হামলার বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি। তিনি না তা নিশ্চিত করেছেন, না অস্বীকার করেছেন। তবে বৃহস্পতিবার তিনি মন্তব্য করেন যে, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা মার্কিন সামরিক চাপের পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতার পথ খোলা রাখতে তিনি প্রস্তুত। এই বক্তব্য অনেকের কাছেই তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এতদিন ধরে মাদুরো প্রশাসন মার্কিন চাপের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েই এসেছে। হঠাৎ করে সহযোগিতার বার্তা দেওয়া রাজনৈতিক কৌশল নাকি বাস্তব পরিস্থিতির চাপ তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
মাদক চক্রের অভিযোগ ও তেলের রাজনীতি (Venezuela)
ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি নিকোলাস মাদুরোকে আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের “মাস্টারমাইন্ড” বলে অভিযুক্ত করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা মাদক পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেই এই সামরিক অভিযান। অন্যদিকে, বামপন্থী নেতা মাদুরো এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ওয়াশিংটন আসলে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়। কারণ ভেনিজুয়েলায় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল মজুত রয়েছে। মাদুরোর দাবি, তেল সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই মার্কিন আগ্রাসনের মূল লক্ষ্য।
আকাশসীমা বন্ধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা (Venezuela)
মার্কিন প্রশাসন ভেনিজুয়েলার উপর চাপ বাড়াতে অনানুষ্ঠানিকভাবে দেশটির আকাশসীমা বন্ধ করেছে। পাশাপাশি একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ভেনিজুয়েলার তেল বোঝাই ট্যাঙ্কার বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দিয়েছে ওয়াশিংটন। এর ফলে এমনিতেই অর্থনৈতিক সংকটে থাকা দেশটির পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
আগাম হুঁশিয়ারি ও বিস্ফোরণের যোগসূত্র (Venezuela)
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ট্রাম্প এই অঞ্চলের মাদক চক্রের বিরুদ্ধে স্থল হামলার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই হামলা “শীঘ্রই” শুরু হবে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, সোমবারের বিস্ফোরণ ছিল সেই হুঁশিয়ারির প্রথম ও সবচেয়ে স্পষ্ট বাস্তব রূপ।
আরও পড়ুন: Train : সপ্তাহের শুরুর দিনেই যাত্রী ভোগান্তি, হাওড়া ডিভিশনে বাতিল একজোড়া লোকাল
বিতর্কিত সামুদ্রিক অভিযান ও প্রাণহানি
মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে অন্তত ৩০টি প্রাণঘাতী সামুদ্রিক অভিযান চালানো হয়েছে। এই অভিযানে ন্যূনতম ১০৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে মার্কিন প্রশাসন এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে পারেনি যে, যেসব নৌযানে হামলা চালানো হয়েছে, সেগুলি সত্যিই মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ফলে এই অভিযানগুলির বৈধতা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।



