Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মালদহের রাজনীতিতে এক তাৎপর্যপূর্ণ পুনর্বিন্যাস চোখে পড়ল (Mousam Benjir Noor)। দীর্ঘদিন পরে আবার একজোট হয়ে কংগ্রেসের ঝান্ডা ধরল মালদহের কোতওয়ালি পরিবার। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে পুরনো দলে প্রত্যাবর্তন করলেন রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম বেনজির নূর। এই সিদ্ধান্ত শুধু ব্যক্তিগত দলবদল নয়, বরং মালদহের রাজনীতিতে গণিখান চৌধুরী পরিবারের ঐতিহাসিক ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ কৌশলের প্রতিফলন।

দিল্লিতে যোগদান ও বক্তব্য (Mousam Benjir Noor)
শনিবার দিল্লির কংগ্রেস দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান পর্ব সম্পন্ন করেন মৌসম বেনজির নূর। যোগদানের পর তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট এটি কোনও আবেগপ্রসূত মোহভঙ্গ নয়, বরং পারিবারিক ও রাজনৈতিকভাবে নেওয়া সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, কংগ্রেস তাঁর রাজনৈতিক পরিবার, তৃণমূলে কয়েক বছর কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন, কিন্তু এখন ফের কংগ্রেসের আদর্শ সেক্যুলারিজম, উন্নয়ন ও শান্তির পথে কাজ করতে চান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পদত্যাগপত্র পাঠানোর কথাও তিনি জানান এবং রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা করেন।
কংগ্রেস থেকে তৃণমূল, তারপর আবার ‘হাত’ (Mousam Benjir Noor)
মৌসম বেনজির নূরের রাজনৈতিক যাত্রাপথ আসলে মালদহের সাম্প্রতিক ইতিহাসেরই প্রতিচ্ছবি। ২০০৯ ও ২০১৪ দু’বারই কংগ্রেসের প্রতীকে মালদহ উত্তর থেকে লোকসভায় জয়ী হন তিনি। কিন্তু ২০১৯ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলের প্রতীকে লড়াই করাই তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। ত্রিমুখী লড়াইয়ে ভোট ভাগাভাগির সুযোগ নিয়ে বিজেপির খগেন মুর্মু জয়ী হন, আর মৌসম হারান নিজের পুরনো আসন। এরপর তৃণমূল তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ মনোনীত করলেও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কিংবা ২০২১ সালের বিধানসভায় তাঁকে প্রার্থী করা হয়নি।

গণিখান চৌধুরী (Mousam Benjir Noor)
মালদহের রাজনীতিতে গণিখান চৌধুরী শুধুমাত্র একজন নেতা নন, তিনি একটি মিথ। উন্নয়ন, সংখ্যালঘু রাজনীতি ও কংগ্রেসি রাজনীতির সঙ্গে তাঁর নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে। মৌসম বেনজির নূরের রাজনৈতিক পরিচিতিও মূলত এই পারিবারিক উত্তরাধিকারের ফল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের বাইরের রাজনৈতিক জমি তৈরি করতে না পারার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে। তবু গণিখান পরিবারের নাম এখনও মালদহের রাজনীতিতে আবেগ ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িত।
ঈশা খান চৌধুরী ও পারিবারিক সমীকরণ (Mousam Benjir Noor)
বর্তমানে গণিখান পরিবারের আর এক সদস্য ঈশা খান চৌধুরী কংগ্রেসের টিকিটে দক্ষিণ মালদহের সাংসদ। রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই পারিবারিক উপস্থিতিই সম্ভবত মৌসমের কংগ্রেসে ফেরার অন্যতম কারণ। পরিবার একসঙ্গে থাকলে সংগঠনকে নতুন করে চাঙা করা সম্ভব এই বিশ্বাস থেকেই কোতওয়ালি পরিবারের পুনর্মিলন।
মরা গাঙে বাণ? (Mousam Benjir Noor)
মালদহে কংগ্রেসের সংগঠন বহুদিন ধরেই দুর্বল। মৌসমের ‘ঘর ওয়াপসি’তে তাই দলের অন্দরে আশার সঞ্চার হয়েছে—মরা গাঙে কি তবে বাণ আসবে? গণিখান পরিবারের ঐতিহ্য, আবেগ ও পরিচিতি কি ফের ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলতে পারবে? যদিও দলেরই একাংশ মনে করছে, শুধুমাত্র নামের জোরে সংগঠন চাঙ্গা করা সম্ভব নয়; মাঠে দীর্ঘমেয়াদি কাজই আসল চ্যালেঞ্জ।
আরও পড়ুন: Train : সপ্তাহের শুরুর দিনেই যাত্রী ভোগান্তি, হাওড়া ডিভিশনে বাতিল একজোড়া লোকাল
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক গুরুত্ব
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস মৌসমের দলত্যাগকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, এটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, সংগঠনে এর বড় প্রভাব পড়বে না। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাব্বিশের আগে এই দলবদল বিরোধী শিবিরের সমীকরণে একটি মনস্তাত্ত্বিক বার্তা দিচ্ছে বিশেষ করে মালদহের মতো সীমান্তবর্তী ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলায়।



