Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ছত্তিসগড়ে মাওবাদী দমন অভিযানে নজিরবিহীন সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী (Chhattisgarh)। রাজ্যের সুকমা ও বিজাপুর এই দুই মাওবাদী-প্রবণ জেলায় শনিবার পৃথক দুটি সংঘর্ষে মোট ১৪ জন মাওবাদী নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। এর পাশাপাশি মোস্ট ওয়ান্টেড মাওবাদী নেতা দেবা বারসের আত্মসমর্পণ এই অভিযানের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সুকমায় বড়সড় অভিযান (Chhattisgarh)
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, সুকমা জেলার গভীর কিস্তাওয়ার জঙ্গল সংলগ্ন পামলুর গ্রামে মাওবাদীদের একটি বড় সশস্ত্র দলের উপস্থিতি সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য আসে। এই তথ্য পাওয়ার পরই জেলা পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর যৌথ অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার ভোরে পুরো গ্রাম ও সংলগ্ন জঙ্গল এলাকা ঘিরে ফেলেন নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানরা। নিজেদের ঘেরাও বুঝতে পেরেই মাওবাদীরা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। পাল্টা জবাব দেয় বাহিনীও। দীর্ঘ সময় ধরে চলে তীব্র গুলির লড়াই।
সংঘর্ষ শেষে উদ্ধার ১২ মাওবাদীর দেহ (Chhattisgarh)
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে মাওবাদীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গভীর জঙ্গলে পালিয়ে যায়। পরে গোটা এলাকা তল্লাশি চালিয়ে ১২ জন মাওবাদীর দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয় একাধিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক সামগ্রী। সুকমার পুলিশ সুপার কিরণ চৌহান জানান, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কুখ্যাত কন্তা এরিয়া কমিটির সম্পাদক মাংডু। দীর্ঘদিন ধরে একাধিক নাশকতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলার ঘটনায় যুক্ত ছিলেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছিল। বাকি নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ চলছে।
বিজাপুরেও গুলির লড়াই, নিহত ২ শীর্ষ মাওবাদী (Chhattisgarh)
একই দিনে ছত্তিসগড়ের আর এক মাওবাদী-প্রবণ জেলা বিজাপুরেও যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পুলিশের গুলিতে সেখানে ২ জন মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন শীর্ষ মাওবাদী নেতা হুঙ্গা মাদকাম। ঘটনাস্থল থেকে একটি এসএলআর রাইফেল ও একটি ১২ বোর আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এই সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর কোনও সদস্য হতাহত হননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গোটা এলাকায় তল্লাশি অভিযান জারি (Chhattisgarh)
বস্তার রেঞ্জের আইজি পি সুন্দররাজ জানান, এখনও গোটা এলাকা জুড়ে তল্লাশি অভিযান চলছে। আশপাশের জঙ্গল এলাকায় আরও কিছু মাওবাদী লুকিয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে অভিযান আরও বিস্তৃত করা হবে।
পরিসংখ্যানে ধরা পড়ছে মাওবাদীদের দুর্বলতা (Chhattisgarh)
পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর থেকে এখনও পর্যন্ত ছত্তিসগড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মোট ২৮৫ জন মাওবাদী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বস্তার ও বিজাপুর জেলাতেই খতম করা হয়েছে ২৫৭ জন মাওবাদীকে। রায়পুর ডিভিশনে নিহত হয়েছেন আরও ২৭ জন। নিরাপত্তা মহলের মতে, এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে রাজ্যে মাওবাদী সংগঠন ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছে।
দেবা বারসের মূল স্রোতে ফেরা (Chhattisgarh)
নিরাপত্তা বাহিনীর সাফল্যের মাঝেই মাওবাদী সংগঠনের জন্য আরও বড় ধাক্কা আসে শনিবার। হায়দরাবাদে আত্মসমর্পণ করেন মোস্ট ওয়ান্টেড মাওবাদী নেতা দেবা বারসে। তাঁর সঙ্গে আরও ২০ জন মাওবাদী হিংসার পথ ছেড়ে মূল স্রোতে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবা বারসে ও তাঁর অনুগামীরা তেলঙ্গানার মুলুগু এলাকায় পৌঁছনোর পর সেখান থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাঁদের হায়দরাবাদে নিয়ে আসা হয়। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন একাধিক সক্রিয় কমান্ডার ও সশস্ত্র ক্যাডার।

আরও পড়ুন: Train : সপ্তাহের শুরুর দিনেই যাত্রী ভোগান্তি, হাওড়া ডিভিশনে বাতিল একজোড়া লোকাল
অভিযানে প্রশাসনের কড়া বার্তা
নিরাপত্তা মহলের পর্যবেক্ষণে, একদিকে টানা অভিযানে শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের আত্মসমর্পণ এই দুইয়ের সম্মিলিত প্রভাবে ছত্তিসগড়ে মাওবাদী সংগঠনের সাংগঠনিক শক্তি বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। প্রশাসনের স্পষ্ট ইঙ্গিত, আগামী দিনে মাওবাদী দমন অভিযান আরও জোরদার হবে। রাজ্যে শান্তি ও স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনতেই এই ধারাবাহিক ও সমন্বিত অভিযানে কোনও রকম শিথিলতা রাখা হবে না।



