Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ফের একবার অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি (Internet Blackout)। টানা বারো দিনের খামেইনি-বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। তেহরান থেকে তাবরিজ, শহর থেকে গ্রাম প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। এরই মধ্যে প্রয়াত রেজা শাহের নির্বাসিত পুত্র, ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি প্রকাশ্যে খামেইনি শাসনের বিরুদ্ধে গণ-বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। সেই ডাকের পরই বৃহস্পতিবার রাতে গোটা ইরান জুড়ে কার্যত অন্ধকার বন্ধ ইন্টারনেট, টেলিফোন লাইন ও ডিজিটাল যোগাযোগ।

দেশজুড়ে ডিজিটাল অবরোধ (Internet Blackout)
পাহলভির আহ্বানের পর ইরান সরকার দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেয়। আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, একাধিক পরিষেবা প্রদানকারীর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দেশের বিরাট অংশ কার্যত অফলাইনে চলে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনও প্রযুক্তিগত বিভ্রাট নয়, বরং পরিকল্পিত ডিজিটাল সেন্সরশিপ। বিক্ষোভকারীদের সংগঠিত হওয়া, ভিডিও বা তথ্য বাইরে পাঠানো ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাহলভির আশঙ্কা, প্রয়োজনে সরকার স্যাটেলাইট সিগন্যালও আটকে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
বিক্ষোভে রক্তক্ষয়, মৃত অন্তত ৩৯ (Internet Blackout)
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে ইরানে শুরু হয়েছে কড়া দমননীতি। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবহার করছে গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল। এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী নিহত: কমপক্ষে ৩৯ জন, আটক: ২,২৬০ জনেরও বেশি মার্কিন মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম অবশ্য বলছে, নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্যও আহত বা নিহত হয়েছেন।

বিমান চলাচল ব্যাহত, জারি NOTAM (Internet Blackout)
অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে ইরানের বিমান পরিষেবাতেও। তাবরিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়ান ওঠা-নামা আপাতত স্থগিত। একাধিক জায়গায় জারি করা হয়েছে NOTAM, যা নিরাপত্তাজনিত গুরুতর ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিক্ষোভ শুধুমাত্র রাস্তায় সীমাবদ্ধ নেই দেশের সামগ্রিক পরিকাঠামোও চাপের মুখে।
‘এটাই শেষ যুদ্ধ’ (Internet Blackout)
নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৮টায় রাস্তায় নামার ডাক দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, সময় হতেই তেহরান ও আশপাশের এলাকা স্লোগানে ফেটে পড়ে। রাস্তায় শোনা যায়, “স্বৈরশাসকের মৃত্যু!” “ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের মৃত্যু!”, “এটাই শেষ যুদ্ধ, পাহলভি ফিরে আসবে!” হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। বহু জায়গায় বাজার বন্ধ রেখে বিক্ষোভে সমর্থন জানানো হয়।
‘বিশ্ব তোমাদের দিকে তাকিয়ে’ (Internet Blackout)
এক বিবৃতিতে পাহলভি বলেন,“ইরানের মহান জাতি, বিশ্বের চোখ আজ তোমাদের উপর। রাস্তায় নেমে এসো, ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের দাবি তুলে ধরো।” তিনি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র, খামেইনি এবং বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীকে সতর্ক করে বলেন, “বিশ্ব এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তোমাদের দিকে কড়া নজর রাখছে। জনগণের উপর দমন-পীড়ন আর চলবে না।”
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, পাহলভির কৃতজ্ঞতা (Internet Blackout)
ইরান পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “যদি ইরানের কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের হত্যা শুরু করে, তবে আমেরিকা কঠোর ব্যবস্থা নেবে।” ট্রাম্পের এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন পাহলভি। এক্স-এ তিনি ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, মুক্ত বিশ্বের নেতাদের এখন নীরবতা ভেঙে ইরানের জনগণের পাশে দাঁড়ানো উচিত। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয়, ট্রাম্প এখনও পর্যন্ত পাহলভির সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতে রাজি হননি।
আরও পড়ুন: Oppo New Phone: বাজারে আসতে চলেছে ওপ্পোর নতুন ফোন, থাকছে বিশেষ ক্যামেরা
তবু দিক বদলাতে পারে কি পাহলভির ভূমিকা?
বর্তমান বিক্ষোভের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হল এটি মূলত নেতৃত্বহীন। কোনও একক সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের ছায়ায় এই আন্দোলন গড়ে ওঠেনি। ফলে পাহলভির ডাক আদৌ আন্দোলনের গতি ও দিক বদলাতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। কট্টরপন্থী সংবাদপত্র কাইহান জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের শনাক্ত করতে ড্রোন ব্যবহার করা হবে। যদিও প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।



