Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারত–আমেরিকা সম্পর্ক বরাবরই কৌশলগত ও বহুমাত্রিক (Donald Trump)। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কূটনীতি থেকে শুরু করে বাণিজ্য সব ক্ষেত্রেই এই সম্পর্কের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু সম্প্রতি সেই সম্পর্কের উপরেই যেন গভীর ছায়া ফেলেছে এক বিস্ফোরক অভিযোগ। মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘একগুঁয়েমি’ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন না করার সিদ্ধান্তের জেরেই ভারতের উপর চাপানো হয়েছে ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক। এই দাবি সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠছে এ কি কূটনৈতিক প্রোটোকল লঙ্ঘনের ফল, না কি ব্যক্তিগত অহংবোধের সংঘাত?

পডকাস্টে বিস্ফোরক দাবি হাওয়ার্ড লুটনিকের (Donald Trump)
একটি পডকাস্ট আলোচনায় ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলে মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক স্পষ্ট ভাষায় জানান, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। কাগজে–কলমে সব আলোচনা শেষ, শুধু বাকি ছিল শেষ সিলমোহর। লুটনিকের দাবি অনুযায়ী, সেই শেষ ধাপের একমাত্র শর্ত ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করতে হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। ট্রাম্পের কাছে সেই ফোন গেলেই চুক্তি চূড়ান্ত হতো। কিন্তু সেই ফোন আর আসেনি।
‘ফোন কল’ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল? (Donald Trump)
সাধারণভাবে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে রাষ্ট্রনেতাদের ফোনালাপ নতুন কিছু নয়। বহু চুক্তির আগে বা পরে রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে সৌজন্যমূলক বা কৌশলগত কথোপকথন হয়ে থাকে। কিন্তু লুটনিকের বক্তব্য অনুযায়ী, এখানে ফোন কলটি নিছক সৌজন্য নয় বরং চুক্তির পূর্বশর্ত হিসেবেই ধরা হয়েছিল। মার্কিন বাণিজ্য সচিবের অভিযোগ, ভারতীয় আধিকারিকরা এই শর্ত মানতে চাননি। তাঁদের মতে, চুক্তি রাষ্ট্রীয় স্তরে হচ্ছে, ব্যক্তিগত ফোনালাপ তার শর্ত হতে পারে না। এই অবস্থানেই অনড় থাকে ভারত।

মোদির ফোন না পাওয়ায় ট্রাম্পের ‘ইগোতে’ আঘাত? (Donald Trump)
লুটনিকের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে একটি শব্দ ইগো। তাঁর দাবি, মোদির ফোন না পেয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে অপমানিত বোধ করেন। সেই মুহূর্ত থেকেই ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনা কার্যত থমকে যায়। পরবর্তী সময়ে আলোচনার চেষ্টা হলেও আর কোনও চুক্তি সই হয়নি। উল্টে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নেয়, যা ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য মারাত্মক ধাক্কা।
রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য (Donald Trump)
এখানেই শেষ নয়। লুটনিক আরও জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এমন একটি বিলে অনুমোদন দিয়েছেন, যাতে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলির উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানো যেতে পারে। ভারত যেহেতু রাশিয়ার সঙ্গে শক্তি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, তাই ভবিষ্যতে ভারতের উপর আরও বড় শুল্কের বোঝা চাপার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ভারত পিছিয়ে? (Donald Trump)
লুটনিকের আরেকটি মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর কথায়, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলি বাণিজ্য আলোচনায় ভারতের তুলনায় অনেক পিছিয়ে ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারাই আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি সই করতে পেরেছে। অন্যদিকে ভারত যাকে এতদিন আমেরিকার ‘কৌশলগত অংশীদার’ বলা হতো তাদের সঙ্গে আপাতত আর বাণিজ্যচুক্তিতে আগ্রহী নয় ওয়াশিংটন।
আরও পড়ুন: Internet Blackout: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি! ইরান সরকারের ঘুম কাড়বে
ব্যক্তিগত সমীকরণে ফাটল?
দিনকয়েক আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, “আমাকে খুশি করাটা মোদির কাছে গুরুত্বপূর্ণ”। সেই মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই লুটনিকের এই বিস্ফোরক দাবি সামনে এল। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, ভারতীয় কূটনীতি কি ইচ্ছাকৃতভাবেই ব্যক্তিগত তোষণের রাজনীতি এড়িয়ে চলেছে? না কি আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় ব্যক্তিগত সম্পর্কের গুরুত্বকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে? ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ভারতের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সম্পর্ক কোন পথে এগোবে?



