Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আইপ্যাকে তল্লাশি নিয়ে ইডি ও তৃণমূলের জোড়া মামলার শুনানি ঘিরে আদালতে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল (Samik Bhattacharya), তা নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, ওইদিন দুটি মামলা একসঙ্গে তালিকাভুক্ত ছিল। এর ফলে আদালতকক্ষে আইনজীবীদের ভিড় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, বিচারপতি একাধিকবার আইনজীবীদের অনুরোধ করেন, যাতে অপ্রয়োজনীয় ভিড় কমানো হয় এবং শুধুমাত্র যাঁরা সরাসরি মামলার সঙ্গে যুক্ত, তাঁরাই আদালতে উপস্থিত থাকেন। তিনি নিজেও বিচারপতির নির্দেশ মেনে নিজের আসনে বসেন এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করেন। তা সত্ত্বেও অতিরিক্ত ভিড় ও হৈচৈয়ের কারণে বিচারপতি মামলার শুনানি নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন এবং পরবর্তী তারিখে শুনানির সিদ্ধান্ত নেন।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জোর দিয়ে বলেন, বিচারপতি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেছিলেন। তবে বিচারপতি যেভাবে শুনানি পরিচালনা করবেন, সেটাই চূড়ান্ত। আদালতে কীভাবে মামলা চলবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র অধিকার বিচারপতির।

ইডির চিঠি প্রসঙ্গে আইনজীবীর অবস্থান (Samik Bhattacharya)
ইডি নাকি প্রধান বিচারপতি বা অ্যাটর্নি জেনারেলকে চিঠি দিয়ে দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়েছে (Samik Bhattacharya), এই প্রসঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে জানান, এই বিষয়ে তাঁর কোনও তথ্য নেই। তিনি বলেন, কে কী চিঠি পাঠিয়েছে বা প্রশাসনিক স্তরে কী যোগাযোগ হয়েছে, সে সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে পারবেন না। চিফ জাস্টিস এই বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা নিয়েও মন্তব্য করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
মামলার বিষয়বস্তু নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্যে অনীহা (Samik Bhattacharya)
ইডির আবেদনপত্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম থাকার বিষয়টি নিয়েও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও প্রকাশ্য মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, মামলার যুক্তি সংবাদমাধ্যমে নয়, আদালতেই উপস্থাপন করা উচিত। তিনি স্পষ্ট করে দেন, একজন আইনজীবী হিসেবে তাঁর দায়িত্ব আদালতে সওয়াল করা, কোনও টেলিভিশন চ্যানেলে মামলার কৌশল ব্যাখ্যা করা নয়।
পরবর্তী তারিখ প্রসঙ্গে মন্তব্য (Samik Bhattacharya)
শুনানি পিছিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ নিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এতে তাঁর ব্যক্তিগত খুশি বা অখুশির কোনও ভূমিকা নেই। বিচারপতি যে তারিখ ও সময় নির্ধারণ করবেন, সেটাই সব পক্ষকে মেনে নিতে হবে। আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, সেখানে আইনজীবীর ব্যক্তিগত মতামতের কোনও গুরুত্ব নেই।

বিচারপতির সিদ্ধান্ত, (Samik Bhattacharya)
আদালতকক্ষে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিকে বিশৃঙ্খলা বলা যাবে কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কোনটা বিশৃঙ্খলা আর কোনটা শৃঙ্খলা এই মূল্যায়ন করার অধিকার তাঁর নেই। আইনজীবীরা মামলার বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন বলেই আদালতে ভিড় বেড়েছিল। বিচারপতি শুনানি নিতে চাননি এই তথ্যটুকুই তিনি জানাতে পারেন। বাকিটা বিচারপতির বিচার্য বিষয়।
বিজেপির পাল্টা অভিযোগ (Samik Bhattacharya)
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য তীব্র ভাষায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গ শুধুমাত্র সাংবিধানিক সংকটের মুখে নয়, বরং রাজ্যের সাংবিধানিক ব্যবস্থাই ভেঙে পড়েছে।
শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী একজন প্রশাসনিক প্রধান হয়েও সাংবিধানিক রীতিনীতি উপেক্ষা করে সরকারি অফিসারদের উপর চাপ সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁদের কাছ থেকে ফাইল নিয়ে গিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, কয়লা পাচার ও হাওয়ালা কাণ্ডে অভিযুক্তদের রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইডি সংক্রান্ত মামলার শুনানির দিন আদালতকক্ষে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের লয়ার সেলের সদস্যদের ঢুকিয়ে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। এর ফলেই শুনানি পিছিয়ে যায়। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে শুধু গণতন্ত্রই নয়, বিচার ব্যবস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

রাজনৈতিক সংঘাত বনাম বিচার ব্যবস্থা
একদিকে তৃণমূলের আইনজীবী আদালতের শৃঙ্খলা ও বিচারপতির সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন, অন্যদিকে বিজেপি অভিযোগ তুলছে বিচার ব্যবস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের। ইডি মামলা ঘিরে এই টানাপোড়েন রাজ্যের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে।



