Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা (India Bangladesh Border Security) ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে কেন্দ্র সরকার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘদিন ধরে প্রায় অব্যবহৃত থাকা পাঁচটি বিমান ঘাঁটি পুনরায় সচল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় বিমান বাহিনী। একই সঙ্গে সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় নতুন সেনা ক্যান্টনমেন্ট গড়ে তুলে স্থল প্রতিরক্ষাও আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। সরকারি সূত্রের খবর, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেন নেক’-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মাত্র কয়েক কিলোমিটার চওড়া এই করিডরই উত্তর-পূর্ব ভারতের আটটি রাজ্যের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র সংযোগ পথ। ফলে আকাশ ও স্থল—দু’দিক থেকেই এই এলাকার নিরাপত্তা ভারতের কৌশলগত পরিকল্পনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যে পাঁচটি বিমান ঘাঁটি পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে… (India Bangladesh Border Security)
যে পাঁচটি বিমান ঘাঁটি পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত (India Bangladesh Border Security) নেওয়া হয়েছে, সেগুলি হল, পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার আমবাড়ি ও পাঙ্গা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, মালদহের ঝালিহালিয়া এবং অসমের ধুবড়ি বিমান ঘাঁটি। এই বিমান ঘাঁটিগুলি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে সেগুলি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। এর আগে এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া পশ্চিমবঙ্গের এই বিমান ঘাঁটিগুলি রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দিয়েছিল অসামরিক বিমান ও হেলিকপ্টার পরিষেবা চালুর উদ্দেশ্যে। কিন্তু সাম্প্রতিক কৌশলগত পরিস্থিতির পরিবর্তনের ফলে কেন্দ্র সরকার ফের এই ঘাঁটিগুলি ভারতীয় বিমান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিমান ঘাঁটিগুলির সীমিত ব্যবহার (India Bangladesh Border Security)
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ১৯৭১ সালের ভারত-পাক যুদ্ধের (India Bangladesh Border Security) সময় এই বিমান ঘাঁটিগুলির সীমিত ব্যবহার হয়েছিল। সেই সময় মূলত যুদ্ধ সামগ্রী পরিবহণ এবং রসদ সরবরাহের জন্য পণ্যবাহী বিমান ওঠানামা করত। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর সেই প্রয়োজনও ধীরে ধীরে ফুরিয়ে যায়। ফলে পরবর্তী কয়েক দশক ধরে বিমান ঘাঁটিগুলি প্রায় অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে। তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে কেন্দ্র সরকার। তারই অঙ্গ হিসেবে ফের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আকাশ প্রতিরক্ষার পাশাপাশি স্থল নিরাপত্তার সমান গুরুত্ব (India Bangladesh Border Security)
আকাশ প্রতিরক্ষার পাশাপাশি স্থল নিরাপত্তাও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের রায়গঞ্জ, বিহারের কিশানগঞ্জ এবং অসমের ধুবড়িতে নতুন সেনা ক্যান্টনমেন্ট তৈরি করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এই সেনা ছাউনিগুলি বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

পরিত্যক্ত বিমান ঘাঁটি ইতিমধ্যেই পুনরায় সচল
এছাড়াও অসমে বেশ কয়েকটি পরিত্যক্ত বিমান ঘাঁটি ইতিমধ্যেই পুনরায় সচল করা হয়েছে। ত্রিপুরাতেও একটি বিমান ঘাঁটি নতুন করে চালু করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারি সূত্রের দাবি, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক অবনতি এই সিদ্ধান্তকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। বাংলাদেশ সরকারও তাদের দুটি পরিত্যক্ত সামরিক বিমান ঘাঁটি—লালমনিরহাট এবং ঠাকুরগাঁও—পুনরায় সচল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আরও পড়ুন: Thailand Train Accident: চলন্ত ট্রেনের উপর ভেঙে পড়ল বিশাল ক্রেন, নিহত কমপক্ষে ২২
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত লালমনিরহাটের বিমান ঘাঁটিটি আয়তনে এশিয়ার বৃহত্তমগুলির মধ্যে অন্যতম বলে পরিচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই ঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ১৯৭১ সালের ভারত-পাক যুদ্ধের সময় পাকিস্তান বিমান বাহিনীও এই ঘাঁটি ব্যবহার করে। স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন ধরে এই ঘাঁটি কার্যত অচল ছিল। ঠাকুরগাঁওয়ের বিমান ঘাঁটিটিও বহু বছর ধরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ব্যবহার করেনি। সেটিও ফের চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশ সীমান্তের দুই পারে একের পর এক সামরিক তৎপরতার ফলে নতুন নিরাপত্তা সমীকরণ তৈরি হচ্ছে উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতে। আকাশ ও স্থল—দুই ক্ষেত্রেই প্রতিরক্ষা জোরদার করে যে কোনও সম্ভাব্য পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে চাইছে ভারত সরকার। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে কেন্দ্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। সীমান্ত অঞ্চলে বাড়তি নজরদারি এবং কৌশলগত প্রস্তুতির এই অধ্যায় আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের দিকেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


