Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আমেরিকার কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়, বোল্ডারে (University of Colorado Boulder) পড়াশোনার সময় ভারতীয় খাবারের গন্ধকে কেন্দ্র করে বৈষম্যের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে জয় পেলেন দুই ভারতীয় পিএইচডি পড়ুয়া। প্রায় ২ লক্ষ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১.৮ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ ও সম্মান ফিরে পেলেন আদিত্য প্রকাশ ও তাঁর সঙ্গী উর্মি ভট্টাচার্য (US University)।
‘পালক পনির’-এর গন্ধে আপত্তি (US University)
ঘটনাটি ২০২৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বরের। অ্যানথ্রোপলজি বিভাগের পিএইচডি পড়ুয়া আদিত্য প্রকাশ তখন বিভাগের মাইক্রোওয়েভে নিজের দুপুরের খাবার ‘পালক পনির’ গরম করছিলেন। সেই সময় এক মহিলা কর্মী এসে খাবারের “তীব্র গন্ধ” নিয়ে আপত্তি তোলেন এবং তাঁকে মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার না করার নির্দেশ দেন। আদিত্য জানান, এটি একটি কমন স্পেস এবং সেখানে তাঁরও সমান অধিকার রয়েছে।
খাবারের গন্ধ সংস্কৃতিনির্ভর
আদিত্য বলেন, “আমার খাবার আমার গর্ব। কী ভাল গন্ধ আর কী খারাপ গন্ধ এটা সংস্কৃতিনির্ভর।” তিনি আরও জানান, তাঁকে বলা হয়েছিল ব্রকোলির মতো খাবারও নাকি গরম করা নিষিদ্ধ, কারণ তারও গন্ধ হয়। এর জবাবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ব্রকোলি খাওয়ার জন্য কজন মানুষ বর্ণবৈষম্যের শিকার হয়?”
প্রতিহিংসামূলক আচরণ শুরু
এই ঘটনার পর বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। আদিত্যর পাশে দাঁড়ান তাঁর সঙ্গী উর্মি ভট্টাচার্য। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক আচরণ শুরু হয়। আদিত্যকে বারবার সিনিয়র ফ্যাকাল্টিদের সামনে হাজির হতে হয়, অভিযোগ তোলা হয় যে তিনি নাকি ওই কর্মীকে “অনিরাপদ” অনুভব করিয়েছেন। অন্যদিকে, উর্মিকে কোনও ব্যাখ্যা ছাড়াই তাঁর টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে গভীর প্রাতিষ্ঠানিক পক্ষপাত (US University)
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ ছিল দু’জনকেই পিএইচডির পথে প্রাপ্য মাস্টার্স ডিগ্রি দেওয়া হয়নি। এরপরই তাঁরা আইনের দ্বারস্থ হন। মামলায় দাবি করা হয়, আন্তর্জাতিক ছাত্রদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ে গভীর প্রাতিষ্ঠানিক পক্ষপাত রয়েছে।
২ লক্ষ ডলার ক্ষতিপূরণ (US University)
শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয় ২ লক্ষ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে এবং তাঁদের মাস্টার্স ডিগ্রি প্রদান করতে সম্মত হয়। যদিও ভবিষ্যতে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা বা চাকরির সুযোগ তাঁদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
‘অন্যায়ের কাছে নতিস্বীকার নয়’ (US University)
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে উর্মি লেখেন, “আমি লড়েছি নিজের খাবার বেছে নেওয়ার স্বাধীনতার জন্য, নিজের কণ্ঠস্বরের জন্য। অন্যায়ের কাছে আমি নত হব না, নীরব থাকব না।” এই জয় শুধু আইনি নয়, সাংস্কৃতিক মর্যাদারও এক বড় স্বীকৃতি।



