Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভোটের প্রাক্কালে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবন্ধন সংশোধন (Soumitrisha Kundu) প্রক্রিয়া ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই সেই তালিকায় যুক্ত হল টেলিদর্শকদের প্রিয় মুখ, অভিনেত্রী সৌমিতৃষা কুণ্ডু। ‘মিঠাই’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে ঘরে ঘরে জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী সঠিক নথিপত্র জমা দিয়েও এসআইআর শুনানিতে ডাকা হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন গোটা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও পরিকল্পনা নিয়ে।

নথি ঠিক, তবু শুনানির ডাক—কারণ কী? (Soumitrisha Kundu)
সৌমিতৃষা কুণ্ডুর দাবি অনুযায়ী, তাঁর জমা দেওয়া নথিতে কোনওরকম ত্রুটি নেই। বয়স অনুযায়ী ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম থাকা সম্ভব নয়, এই বাস্তবতা স্বীকার করলেও, তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে তাঁর মা-বাবার নাম সেই তালিকায় রয়েছে। অথচ নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকা নথিতে তাঁর বাবার নামের বানানে ভুল থাকায় তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। এই প্রশাসনিক ভুলের কারণেই কম নোটিস পিরিয়ডে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে এসআইআর শুনানিতে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। অভিনেত্রীর প্রশ্ন যে ভুল তাঁর নয়, তার দায় কেন তাঁকে বহন করতে হবে?
নির্বাচন কমিশনের ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে ক্ষোভ (Soumitrisha Kundu)
এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা না করলেও, যেভাবে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সৌমিতৃষা। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য প্রতিদিন বদলাচ্ছে। একদিন বলা হচ্ছে মাধ্যমিকের নথি গ্রহণযোগ্য নয়, আবার তার আগের দিনই বলা হয়েছিল যে কোনও বৈধ নথি দিলেই চলবে। এই অনিশ্চয়তা ও তাড়াহুড়োকে তিনি কার্যত ‘ছেলেখেলা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ভোটের ঠিক আগে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া সুপরিকল্পিতভাবে না করে তড়িঘড়ি চালানো হচ্ছে কেন এই প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী।

কম নোটিস, বাড়তি চাপ (Soumitrisha Kundu)
নির্বাচন কমিশনের তালিকায় ভুল থাকার কারণেই চারদিনের মধ্যে শুনানিতে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সৌমিতৃষাকে। তাঁর বক্তব্য, এমন ক্ষেত্রে সময়সীমা বাড়ানো যেতেই পারে। প্রশাসনিক ভুলের জন্য নাগরিকদের উপর অতিরিক্ত মানসিক ও শারীরিক চাপ চাপানো কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
প্রবীণ নাগরিকদের হয়রানি নিয়ে গভীর উদ্বেগ (Soumitrisha Kundu)
নিজের সমস্যার পাশাপাশি সৌমিতৃষা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন প্রবীণ নাগরিকদের কথা ভেবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাঁর বয়স কম, তিনি শারীরিকভাবে সক্ষম। কিন্তু যাঁরা প্রবীণ, যাঁদের অনেকের আর্থিক স্বচ্ছলতাও নেই, তাঁদের বারবার অটো-টোটো ভাড়া করে দূরে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানো কার্যত হয়রানির শামিল। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে এই দৌড়ঝাঁপ বহু প্রবীণ মানুষকে অসুস্থ করে তুলছে বলেও মত অভিনেত্রীর।
আরও পড়ুন: Indo US : “পুরুষ কি গর্ভবতী হতে পারে?” প্রশ্নেই ভাইরাল ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন চিকিৎসক
দায়িত্ববান নাগরিক বনাম প্রশাসনিক দায়
সৌমিতৃষার বক্তব্যে উঠে এসেছে নাগরিক দায়িত্ববোধের প্রসঙ্গও। তিনি বলেছেন, নাগরিকরা নিয়ম মেনে কর দেন, কর্তব্য পালন করেন। সেই জায়গা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া, যাতে প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে বাড়িতে গিয়ে যাচাই বা নথি সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়। তাতে একদিকে যেমন আতঙ্ক কমবে, তেমনই অসুস্থতা ও হয়রানি থেকেও রেহাই পাবেন বহু মানুষ।



