Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আকাশপথে যাত্রীবাহী বিমানের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা মানেই বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক, উৎকণ্ঠা আর অজানা আশঙ্কা (Indonesian Plane)। ২০১৪ সালে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের এমএইচ-৩৭০ উড়ানের রহস্য আজও পুরোপুরি উদ্ঘাটিত হয়নি। সেই ভয়াবহ স্মৃতিই যেন আবার ফিরে এল। শনিবার ইন্দোনেশিয়ায় একটি যাত্রীবাহী বিমানের হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।

উড়ানের পরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন (Indonesian Plane)
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বেলায় এটিআর ৪২-৫০০ মডেলের ওই বিমানটি ইন্দোনেশিয়ার যোগকার্তা বিমানবন্দর থেকে মাকাসারের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। উড়ানটিতে মোট ১১ জন যাত্রী ছিলেন, যাঁদের মধ্যে ‘ত্রু’ নামে পরিচিত এক যাত্রীও ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। কিন্তু ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটির সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সমস্ত যোগাযোগ আচমকা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই আকস্মিক যোগাযোগ বিচ্ছেদের পর থেকেই বিমানটি কোথায় রয়েছে, তার কোনও স্পষ্ট তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে কি না, নাকি অন্য কোনও যান্ত্রিক বা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে যোগাযোগ ছিন্ন হয়েছে তা নিয়েই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

বিমানসংস্থার নীরবতা, সরকারের তৎপরতা (Indonesian Plane)
এই ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিমানসংস্থা কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রক বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে। মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নিখোঁজ বিমানের সন্ধানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। সম্ভাব্য সব রাডার ডেটা, স্যাটেলাইট তথ্য ও উড়ানের শেষ অবস্থান বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সরকারি সূত্রের দাবি, সমস্ত তথ্য যাচাইয়ের পরেই বিমানসংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দেবে। আপাতত উদ্ধারকারী দল, উপকূলরক্ষী বাহিনী ও বিমানবাহিনী যৌথভাবে তল্লাশি চালাচ্ছে।
আগের বছরের রুশ বিমান দুর্ঘটনার স্মৃতি (Indonesian Plane)
এই ঘটনার সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকেই গত বছর জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া এক রুশ বিমানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার সঙ্গে। সেই সময় সাইবেরিয়ার আঙ্গারা এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমান ৫০ জন যাত্রী নিয়ে রাশিয়ার পূর্ব প্রান্তের আমুর প্রদেশের টিন্ডা শহরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। মাঝ আকাশে হঠাৎ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সেই বিমানটির। দীর্ঘ সময় কোনও খোঁজ না মেলায় উদ্বেগ বাড়ে। পরে একটি হেলিকপ্টারের সাহায্যে তল্লাশি চালিয়ে দুর্গম এলাকায় বিমানটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় প্রাণহানিও ঘটে।

আকাশযাত্রার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন
বারবার এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি আকাশযাত্রার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত রাডার ও স্যাটেলাইট নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একটি যাত্রীবাহী বিমান হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরাও। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের উড়ানগুলির ক্ষেত্রে আবহাওয়া, যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা মানবিক ভুল সব দিক খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের।



