Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: গাড়ি থামিয়ে গরু উদ্ধার, খাবার ও জলের ব্যবস্থাও করলেন নিজে, উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের দুলদুলি ফেরিঘাট এলাকায় অবৈধভাবে গরু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে (Rekha Patra)। স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়িকা রেখা পাত্র। সেখানে পৌঁছেই তিনি অভিযোগ ওঠা গরু বোঝাই গাড়িগুলি আটকে দেন এবং গরুগুলিকে গাড়ি থেকে নামানোর নির্দেশ দেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষও বিধায়িকার এই পদক্ষেপকে ঘিরে কৌতূহলী হয়ে পড়েন। এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, গরুগুলিকে অবৈধভাবে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছিল। সেই খবর পাওয়ার পরই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে তৎপরতা শুরু হয়।

গরুগুলির নিরাপত্তায় মানবিক উদ্যোগ (Rekha Patra)
শুধু গাড়ি আটকানোই নয়, উদ্ধার হওয়া গরুগুলির প্রতি মানবিক আচরণেরও নজির দেখা যায় বিধায়িকার উদ্যোগে। গরুগুলিকে রাস্তার পাশে একটি বড় গাছের ছায়ায় বেঁধে রাখা হয়, যাতে তারা রোদে কষ্ট না পায়। পাশাপাশি তাদের জন্য বিচুলি এবং পানীয় জলের ব্যবস্থাও করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে গরুগুলিকে গাড়িতে গাদাগাদি করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ফলে পশুগুলি অত্যন্ত ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সেই অবস্থায় তাদের খাবার ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করায় এলাকাবাসীর একাংশ বিধায়িকার প্রশংসা করেন।
“অবৈধ গরু ব্যবসার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা” (Rekha Patra)
ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে বিধায়িকা রেখা পাত্র জানান, রাজ্যে অবৈধ গরু পাচার ও ব্যবসার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। তাঁর দাবি, বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari বারবার অবৈধ গরু ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন এবং সেই নির্দেশ মেনেই তিনি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় এখনও গোপনে গরু পাচারের চেষ্টা চলছে। প্রশাসন ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এলাকায় উত্তেজনা, নজর প্রশাসনের (Rekha Patra)
ঘটনার পর দুলদুলি ফেরিঘাট এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয়দের ভিড় জমে যায় ঘটনাস্থলে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধার হওয়া গরুগুলির বৈধ কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও সূত্রের খবর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ গরু পাচার নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। একদিকে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতাদের সরাসরি হস্তক্ষেপও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন:Mamata Banerjee: ২৬টি কবিতায় কি ২৬-এর ভোটের অঙ্ক কষলেন মমতা
সীমান্ত এলাকায় বাড়ছে নজরদারির দাবি
হিঙ্গলগঞ্জ ও সংলগ্ন নদীপথ দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান ও অবৈধ পাচারের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের দাবি, নদীপথ ও ফেরিঘাটগুলিতে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। নিয়মিত পুলিশি টহল এবং প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো হলে এ ধরনের ঘটনা অনেকটাই রোখা সম্ভব হবে।



