Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: হিন্দুধর্মের প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রগুলির (Signs Before Death) মধ্যে গরুড় পুরাণের স্থান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। জন্ম থেকে মৃত্যু, মৃত্যুর পর আত্মার যাত্রা, কর্মফল এবং পুনর্জন্ম-এই সব বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে এই পুরাণে। সেই কারণেই হিন্দু সমাজে কারও মৃত্যু হলে টানা তেরো দিন ধরে গরুড় পুরাণ পাঠের রীতি প্রচলিত। বিশ্বাস করা হয়, এই পুরাণ শ্রবণ করলে বিদেহী আত্মা শান্তি লাভ করে এবং পরলোকের পথে তার যাত্রা সহজ হয়।
যেমন কর্ম, তেমন ফল (Signs Before Death)
গরুড় পুরাণ অনুযায়ী, মানুষের জীবনে যেমন (Signs Before Death) কর্ম, তেমনই মৃত্যুর পর তার ফল ভোগ করতে হয়। তবে শুধু মৃত্যুর পর নয়, মৃত্যুর আগেও মানুষ কিছু অদ্ভুত সংকেত অনুভব করে বলে এই শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে। এই সংকেতগুলিকে স্বয়ং যমরাজের পাঠানো বার্তা হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ, এই লক্ষণগুলি দেখা দিলে বুঝতে হবে জীবনের অন্তিম সময় খুব কাছাকাছি এসে গিয়েছে।
নিজের ছায়া দেখতে না পাওয়া (Signs Before Death)
গরুড় পুরাণে বলা হয়েছে, মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলে প্রথম যে (Signs Before Death) অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতা হয়, তা হলো নিজের ছায়া দেখতে না পাওয়া। জল, তেল বা কাঁচের মতো প্রতিফলনশীল বস্তুর মধ্যেও তখন আর নিজের প্রতিবিম্ব স্পষ্ট দেখা যায় না। এর অর্থ হিসেবে বলা হয়, শরীরের সঙ্গে আত্মার বন্ধন ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং আয়ু প্রায় শেষের পথে।

পূর্বপুরুষদের দর্শন (Signs Before Death)
আরও একটি উল্লেখযোগ্য সংকেত হলো পূর্বপুরুষদের (Signs Before Death) দর্শন। মৃত্যুর কিছু আগে অনেকেই স্বপ্নে বা জাগ্রত অবস্থায় প্রয়াত আত্মীয়স্বজন কিংবা পূর্বপুরুষদের দেখতে পান। কখনও মনে হয় তাঁরা ডাকছেন বা কাছে আসতে বলছেন। গরুড় পুরাণ অনুযায়ী, এই অভিজ্ঞতা ইঙ্গিত দেয় যে আত্মা শীঘ্রই পার্থিব জগত ছেড়ে অন্য যাত্রার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।
যমদূতদের উপস্থিতি অনুভূত
শাস্ত্র মতে, যখন মৃত্যুর সময় একেবারে সন্নিকটে এসে যায়, তখন যমদূতদের উপস্থিতিও অনুভূত হতে পারে। মৃত্যুপথযাত্রীর চারপাশে এক ধরনের অন্ধকার ছায়া বা ভারী নেগেটিভ শক্তির আবরণ তৈরি হয় বলে বর্ণনা রয়েছে। অনেকের মনে হয়, কেউ নিঃশব্দে কাছেই দাঁড়িয়ে আছে, যদিও চোখে স্পষ্টভাবে কিছু দেখা যায় না।

জীবনের শেষ হিসেব-নিকেশ
গরুড় পুরাণে আরও বলা হয়েছে, মৃত্যুর অল্প আগে মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলি চোখের সামনে দ্রুত ভেসে ওঠে। সুখ, দুঃখ, সাফল্য, ব্যর্থতা-সব মিলিয়ে যেন গোটা জীবনটাই এক মুহূর্তে স্মৃতির পর্দায় ফুটে ওঠে। একে জীবনের শেষ হিসেব-নিকেশ বলেও ধরা হয়।
আরও পড়ুন: Saraswati Puja 2026: বীণাপাণির অঞ্জলি ঠিক ক’টায়? কোন সময়ে প্রসন্ন হবেন দেবী?
এছাড়াও, মৃত্যুর দিকে এগোলে হাতের রেখা ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যায় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে। হস্তরেখাগুলি ঝাপসা হয়ে যাওয়াকে শরীর ও প্রাণশক্তির ক্ষয়ের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। সবশেষে, মৃত্যুর ঠিক আগমুহূর্তে চোখের সামনে এক রহস্যময় আলো ও দরজার মতো কোনও পথ দেখা যেতে পারে। এই দরজা বা পথ দেখার অর্থ, আত্মা দেহ ত্যাগের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।


