Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (Amartya Sen) প্রক্রিয়া ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। এই প্রেক্ষাপটে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও ভারতরত্ন অমর্ত্য সেনের মন্তব্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে তাঁর এই বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামো নিয়েই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে।

এসআইআর নোটিস ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা (Amartya Sen)
চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে প্রবাসী অমর্ত্য সেন নিজেও এসআইআর প্রক্রিয়ার আওতায় নোটিস পেয়েছিলেন (Amartya Sen) । বিদেশে থাকায় তিনি সশরীরে শুনানিতে হাজির থাকতে না পারলেও, শান্তিনিকেতনের বাসভবনে তাঁর হয়ে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন তাঁর ভাই। এই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বুঝতে পেরেছেন, শুধুমাত্র সাধারণ মানুষ নয় একজন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যক্তিত্বও এই প্রক্রিয়ায় নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারেন। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অমর্ত্য সেন জানান, তাঁর নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য সরকারি নথিতে দীর্ঘদিন ধরে নথিভুক্ত থাকা সত্ত্বেও জন্ম সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এমনকি তাঁর মায়ের বয়স নিয়েও সংশয় প্রকাশ করা হয়েছিল, যদিও তাঁর মায়ের সমস্ত তথ্যও ভোটার তালিকার অফিসিয়াল রেকর্ডে ছিল।
‘অযথা তাড়াহুড়ো’ ও সময়ের অভাব (Amartya Sen)
বস্টন থেকে সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অমর্ত্য সেন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে, তাতে অযথা তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে। তাঁর মতে, ভোটার তালিকা সংশোধন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যা সতর্কতা ও পর্যাপ্ত সময় নিয়ে করা উচিত। অমর্ত্য সেন বলেন, “সতর্ক হয়ে যত্ন সহকারে সময় নিয়ে ভোটার তালিকার সংশোধন ভাল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হয়ে উঠতে পারে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সেটা হচ্ছে না।” তাঁর অভিযোগ, মানুষকে নিজেদের ভোটার হিসেবে প্রমাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার যথেষ্ট সময় দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে বহু প্রকৃত ভোটার অনিচ্ছাকৃতভাবে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

নির্বাচন আধিকারিকদের উপর চাপ (Amartya Sen)
এই প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র সাধারণ মানুষ নয়, নির্বাচন আধিকারিকদের উপরও প্রবল সময়ের চাপ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন অমর্ত্য সেন। তাঁর কথায়, অনেক সময় নির্বাচন কমিশনের কর্তারা নিজেরাই পর্যাপ্ত সময়ের অভাব বোধ করেন। এর ফলে যাচাই প্রক্রিয়ায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে, যা শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ত্রুটিপূর্ণ ও তাড়াহুড়ো করা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কখনওই একটি সুস্থ ভোট ব্যবস্থার পরিচায়ক হতে পারে না।
জন্ম সনদের বাস্তবতা (Amartya Sen)
অমর্ত্য সেনের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভারতের এক বড় সামাজিক বাস্তবতাও। তিনি বলেন, গ্রামীণ ভারতে জন্মানো বহু মানুষের মতো তাঁরও জন্ম সনদ নেই। ফলে নাগরিকত্ব বা ভোটার হওয়ার যোগ্যতা প্রমাণ করতে একাধিক বিকল্প নথি জমা দিতে হয়। নিজের ক্ষেত্রে তিনি এই বাধা অতিক্রম করতে পেরেছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর উদ্বেগ অন্যদের জন্য, “আমি হয়তো পেরেছি, কিন্তু যাঁদের আমার মতো বিশ্বস্ত বন্ধু নেই, তাঁদের জন্য চিন্তা হচ্ছে।” এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, সামাজিক পুঁজি ও প্রভাব না থাকলে এই প্রক্রিয়া কতটা কঠিন হয়ে উঠতে পারে প্রান্তিক মানুষের জন্য।
প্রান্তিক মানুষের আশঙ্কা
এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল লাভবান হবে কি না এই প্রশ্নে অমর্ত্য সেন কোনও সরাসরি মন্তব্য না করলেও, তিনি জোর দিয়ে বলেন, আসল সমস্যা হল ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনা। এই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হতে পারেন সংখ্যালঘু, গরিব ও প্রান্তিক মানুষ। তাঁর মতে, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া বা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানেই কাউকে গণতন্ত্রের মূল স্রোত থেকে ছিটকে দেওয়া। এটি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আরও পড়ুন: Mamata Banerjee: মনীষীদের অসম্মান করার চেষ্টা, নেতাজির জন্মদিনে গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী
নির্বাচন কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা
অমর্ত্য সেন মনে করেন, এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। তাঁদের নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনও প্রাপ্তবয়স্ক ভারতীয় নাগরিক শুধুমাত্র প্রশাসনিক ত্রুটি বা সময়ের অভাবে ভোটার হওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন। তিনি বলেন, “আমাদের গর্বিত গণতন্ত্রকে অপ্রয়োজনীয় ভুল করতে বাধ্য করা উচিত নয় তাতে যে-ই লাভবান হোক না কেন।”



