Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সুন্দরবনের নোনা বাতাস আর অভাবের সংসারে যেখানে অনেক সময় শিক্ষার আলো পৌঁছাতে হিমশিম খায়, সেখানেই এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন গঙ্গাসাগর (Gangasagar) দ্বীপের এক প্রধান শিক্ষক। নিজের বেতনের টাকা খরচ করে গরিব ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের হাতে পড়াশোনার খরচ তুলে দিয়ে সমাজের সামনে শিক্ষকতার এক নতুন সংজ্ঞা লিখলেন কচুবেড়িয়া ঘাট সংলগ্ন ফুলবাড়ি শীতলা হাইস্কুল (উচ্চ মাধ্যমিক)-এর প্রধান শিক্ষক ভোলানাথ দাস।
শিক্ষকের মানবিক দৃষ্টান্ত (Gangasagar)
সম্প্রতি সরস্বতী পুজো উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয়েছিল ‘শিশু ক্ষমতায়ন ও কৃতি সম্মাননা অনুষ্ঠান – ২০২৬’। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত এমন সব পড়ুয়াদের পুরস্কৃত করা হয়, যারা পড়াশোনা ছাড়াও নিয়মিত উপস্থিতি, উন্নত চরিত্র গঠন এবং সহ-পাঠক্রমিক কাজে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে (Gangasagar)। কিন্তু অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় চমক ছিল প্রধান শিক্ষক মহাশয়ের ব্যক্তিগত উদ্যোগ।
আরও পড়ুন: Ultadanga Area: সরস্বতী পুজোর সকালে রক্তাক্ত হল উল্টোডাঙ্গা
বিদ্যালয় সূত্রে খবর, সুন্দরবনের এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু পড়ুয়াই চরম আর্থিক অনটনের শিকার। অনেক ক্ষেত্রে অভাবের তাড়নায় পড়াশোনা মাঝপথে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয় (Gangasagar)। সেই অন্ধকার কাটাতে ভোলানাথ বাবু তাঁর নিজের বেতনের একটি বড় অংশ আর্থিক অনুদান হিসেবে এই পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দেন। এই অর্থ পেয়ে যেমন পড়ুয়ারা উচ্চশিক্ষার নতুন স্বপ্ন দেখছে, তেমনই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরাও। এক অভিভাবকের কথায়, “প্রধান শিক্ষক মহাশয় শুধু টাকাই দেননি, আমাদের সন্তানদের সাহস জুগিয়েছেন। এমন মানুষ আছেন বলেই আজও গরিব ঘরের ছেলে-মেয়েরা বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারে।”
এই মানবিক উদ্যোগ প্রসঙ্গে (Gangasagar) প্রধান শিক্ষক ভোলানাথ দাস অত্যন্ত বিনম্রভাবে জানান, “শিক্ষা শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়, একে অপরের পাশে দাঁড়ানোটাও শিক্ষার অঙ্গ। আমি এ বছর থেকে এই উদ্যোগ শুরু করলাম। আমি অঙ্গীকার করছি, যতদিন এই বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকব, প্রতি বছর আমার সাধ্যমতো এই পিছিয়ে পড়া সন্তানদের পাশে দাঁড়াব যাতে অর্থের অভাবে কারও পড়াশোনা বন্ধ না হয়।”
আরও পড়ুন:Jessore Road: ১৫ কিলোমিটার দূরে হিয়ারিং সেন্টার, কার স্বার্থে এই নিয়ম?
সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে প্রতিকূলতা নিত্যসঙ্গী, সেখানে একজন শিক্ষকের এই ত্যাগ এবং মানবিকতা কেবল এককালীন সহায়তা নয়, বরং সুস্থ সমাজ গঠনের এক শক্তিশালী হাতিয়ার। ফুলবাড়ি শীতলা হাইস্কুলের এই প্রয়াস আগামী দিনে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছেও এক বড় প্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।


