Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর মতোই জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার সময় উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানানোর প্রস্তাব ভারতের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিসরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে (National Anthem)। কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জাতীয় গানের প্রোটোকলে পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি, তবু প্রস্তাবের ইঙ্গিতই যথেষ্ট কারণ ‘বন্দে মাতরম’ কেবল একটি গান নয়, এটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের আবেগ, ইতিহাস ও মতাদর্শের প্রতীক।

সাহিত্য থেকে জাতীয় চেতনা (National Anthem)
১৮৭৫ সালে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কলমে রচিত ‘বন্দে মাতরম’ প্রথম প্রকাশ পায় উপন্যাস আনন্দমঠ-এ। পরবর্তীকালে এই গান হয়ে ওঠে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রেরণাসূত্র। বিপ্লবী থেকে সাধারণ মানুষ সবাই এক কণ্ঠে উচ্চারণ করেছিলেন এই মন্ত্রসদৃশ পংক্তি। ১৯৫০ সালে ভারতীয় সংবিধান গৃহীত হওয়ার বছরেই ‘বন্দে মাতরম’ জাতীয় গানের মর্যাদা পায়। যদিও এটি জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা পায়নি, তবুও রাষ্ট্র স্বীকৃত জাতীয় আবেগের অংশ হিসেবে এর অবস্থান সুদৃঢ়।
কী চাইছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক? (National Anthem)
বর্তমানে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের সময় কোনও বাধ্যতামূলক বিধি নেই। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রাথমিক ভাবনায় উঠে এসেছে, গান চলাকালীন উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানানো, উপস্থিত সকলের অংশগ্রহণ, জাতীয় সঙ্গীতের মতোই অসম্মান করলে আইনি শাস্তির বিধান, বর্তমানে জাতীয় সঙ্গীতের অসম্মান করলে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। সেই ধরনের নিয়ম ‘বন্দে মাতরম’-এর ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করার কথা ভাবা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। এই ভাবনা বাস্তবায়িত হলে, ‘বন্দে মাতরম’ কার্যত জাতীয় সঙ্গীতের সমতুল্য প্রোটোকল পাবে যা স্বাধীন ভারতের সাংস্কৃতিক নীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

১৫০ বছর পূর্তি ও বিশেষ গুরুত্ব (National Anthem)
২০২৫ সালে ‘বন্দে মাতরম’ রচনার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে কেন্দ্রের তরফে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বঙ্কিমচন্দ্রের এই সৃষ্টিকে। শীতকালীন অধিবেশনে এ উপলক্ষে বিশেষ সেশনের আয়োজন করে মোদী সরকার। তবে সেই সেশনেই বিতর্ক তৈরি হয়, যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বক্তব্য রাখতে গিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করেন। এই সম্বোধনকে অসম্মানজনক বলে দাবি করে প্রতিবাদে সরব হয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা। বিষয়টি রাজনৈতিক তরজার নতুন মাত্রা যোগ করে।
আরও পড়ুন: Mamdani: আমেরিকাজুড়ে ব্যাপক তুষারঝড় : নিউইয়র্কে শহরবাসীর পাশে নতুন মেয়র মামদানি
প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা
বিতর্কের মাঝেই কেন্দ্রের উদ্যোগে ‘বন্দে মাতরম’-কে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরার প্রচেষ্টা স্পষ্ট। চলতি বছরে কর্তব্য পথে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে থিম সং হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে ‘বন্দে মাতরম’। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এর পিছনে সাংস্কৃতিক সম্মানের পাশাপাশি রাজনৈতিক হিসাবও স্পষ্ট। সামনেই বাংলার বিধানসভা নির্বাচন। বাঙালি মনীষী বঙ্কিমচন্দ্রের সৃষ্টি ও বাঙালি আবেগকে সামনে রেখে ভোটব্যাঙ্ক মজবুত করার কৌশল হিসেবে দেখছেন অনেকেই এই উদ্যোগকে। অন্যদিকে, সমর্থকদের দাবি জাতীয় চেতনাকে আরও দৃঢ় করতে ঐতিহাসিক সৃষ্টিকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়াই সরকারের উদ্দেশ্য।



