Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শনি-রবি ছুটি, তার সঙ্গে সোমবার সাধারণতন্ত্র দিবস টানা তিনদিনের ছুটিতে স্বাভাবিকভাবেই উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছিল বাঙালি (Meat)। কোথাও চড়ুইভাতি, কোথাও পিকনিক, কোথাও আবার বহুদিন পর পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে জমিয়ে খাওয়াদাওয়া। কিন্তু এই আনন্দের আবহেই নিঃশব্দে মাথা তুলে দাঁড়াল এক মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। যখন শহরের মানুষ ছুটির মুডে, ঠিক তখনই কলকাতার সরকারি হাসপাতালগুলির ইএনটি বিভাগে কার্যত হিমশিম দশা। বিশেষ করে এসএসকেএম হাসপাতালের ইনস্টিটিউট অফ অটো রাইনো ল্যারিঙ্গোলজি হেড অ্যান্ড নেক সার্জারি বিভাগে গত দু’-তিন দিনে ভিড় জমাল এক বিশেষ সমস্যার রোগীরা।
কী এই ‘মিট বোলাস’ সমস্যা? (Meat)
এসএসকেএম হাসপাতালের ওই বিভাগের চিকিৎসক ডা. মৈনাক মৈত্র জানাচ্ছেন, ছুটির দিনগুলিতে যেসব রোগী হাসপাতালে আসছেন, তাঁদের অধিকাংশেরই সমস্যা এক মাংসের বড় টুকরো গলায় আটকে যাওয়া। চিকিৎসা পরিভাষায় একে বলা হয় ‘মিট বোলাস’। মূলত রেড মিট বা লাল মাংস ঠিকমতো না চিবিয়ে গিলে ফেললেই এই বিপদ ঘটে। বড় টুকরো মাংস খাদ্যনালিতে আটকে গিয়ে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয় যে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের মতো চিকিৎসা করতে হয়।

দাঁতের সমস্যায় প্রবীণদের ঝুঁকি বেশি (Meat)
চিকিৎসকদের মতে, প্রবীণদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা যাচ্ছে। যাঁদের দাঁত নেই বা দাঁতের সমস্যা রয়েছে, তাঁরা মাংস ভালো করে চিবোতে পারেন না। ফলে বড় টুকরো গিলতে গিয়ে খাদ্যনালিতে আটকে যাচ্ছে মাংস। যেমনটা হয়েছিল বছর সত্তরের আনিসুর রহমানের (নাম পরিবর্তিত)। রবিবার পরিবারের সঙ্গে দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় বড়সড় গরুর মাংসের টুকরো গলায় আটকে যায় তাঁর। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় তীব্র শ্বাসকষ্ট। পরিবারের লোকজন দ্রুত তাঁকে নিয়ে যান এসএসকেএম হাসপাতালে।
ছুটির দিনেও ছুটে এলেন চিকিৎসকরা (Meat)
রবিবার, ছুটির দিন হলেও পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গে ওটিতে নিয়ে যাওয়া হয় রোগীকে। ইসোফেগাসস্কোপের সাহায্যে খাদ্যনালি থেকে বের করা হয় দলা পাকানো মাংসখণ্ড। সেদিন অন ডিউটিতে ছিলেন ডা. মৈনাক মৈত্র, ডা. হীরক চৌধুরী ও ডা. সপ্তর্ষি ঘোষের টিম। তাঁদের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও চিকিৎসাতেই প্রাণ বাঁচে প্রবীণ ওই রোগীর।

রেড মিটেই বিপদ সবচেয়ে বেশি কেন? (Meat)
চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রেড মিট শক্ত এবং আঁশযুক্ত হওয়ায় সহজে ভাঙে না। ফলে গলায় আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। অন্যদিকে মুরগির মাংস তুলনামূলকভাবে নরম। গিলতে গিয়ে সহজেই ভেঙে যায়, খাদ্যনালিতে আটকে থাকার ঝুঁকি কম। এই কারণেই পিকনিক বা চড়ুইভাতির মরশুমে, কিংবা ইদের সময় রেড মিট সংক্রান্ত এই ধরনের দুর্ঘটনার সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যায়।
মোবাইল দেখতে দেখতে খাওয়া (Meat)
চমকে দেওয়ার মতো বিষয় হল, শুধু প্রবীণ নয় বছর চোদ্দো-পনেরোর কিশোর-কিশোরীরাও এই সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, এর অন্যতম কারণ মোবাইল দেখতে দেখতে খাওয়া। অন্যমনস্ক অবস্থায় ঠিকমতো চিবোনো হয় না। তাড়াহুড়ো করে খাবার গিলে ফেলার প্রবণতাই ডেকে আনছে বড় বিপদ। চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন, এভাবে রেড মিট গিলে ফেললে শুধু শ্বাসকষ্ট নয়, জীবনহানিও হতে পারে।
আরও পড়ুন: Bank: ধাক্কা ব্যাঙ্কিং পরিষেবায়, ৫ দিনের কাজের দাবিতে ডাক ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের
সাবধানতাই একমাত্র পথ
এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের স্পষ্ট পরামর্শ খাওয়ার সময় সচেতন হতে হবে। মুখে মাংসের বড় টুকরো পড়লে ন্যূনতম ১৫ সেকেন্ড ভালো করে চিবোনো অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে প্রবীণ ব্যক্তি, দাঁতের সমস্যা রয়েছে এমন মানুষ এবং কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। খাবার খাওয়ার সময় মোবাইল, টিভি বা অন্য কোনও দিকে মন না দিয়ে শুধুমাত্র খাবারের দিকেই মনোযোগ দেওয়া উচিত।



