Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সিঙ্গুর ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সম্পর্ক যে শুধুই রাজনৈতিক নয়, বরং আবেগ ও আন্দোলনের ইতিহাসে বাঁধা-তা নতুন করে মনে করিয়ে দিল বুধবারের জনসভা। ২০০৬ সালে সিঙ্গুরের কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালে রাজ্যের ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। দুই দশক পর ফের ভোটমুখী বাংলায় সিঙ্গুর থেকে কী বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী, সেদিকেই তাকিয়ে ছিল রাজনৈতিক মহল।
কর্মসংস্থানের লক্ষ্যেই শিল্প (Mamata Banerjee)
এদিন সিঙ্গুরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কর্মসংস্থানের (Mamata Banerjee) লক্ষ্যেই রাজ্য সরকার সেখানে শিল্প পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে। তাঁর কথায়, সিঙ্গুরে ৮ একর জমির উপর ইতিমধ্যেই একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরি হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, শিল্প হবে কিন্তু কৃষিজমি ব্যবহার করে নয়। টাটা প্রকল্প ঘিরে পুরনো বিতর্ক উসকে দিয়ে মমতা বলেন, কৃষিজমি রক্ষার প্রশ্নে তাঁর অবস্থান বদলায়নি এবং ভবিষ্যতেও বদলাবে না।

আন্দোলনের দিনগুলির স্মৃতিচারণা (Mamata Banerjee)
সভামঞ্চ থেকে সিঙ্গুর আন্দোলনের দিনগুলির স্মৃতিচারণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ২৬ দিনের অনশন, কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই এবং শেষ পর্যন্ত জমি ফেরানোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেই তিনি নিজের জীবন পর্যন্ত বাজি রাখতে প্রস্তুত ছিলেন। বাম সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি জানান, তখন ফসলি জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে অনিচ্ছুক কৃষকরাই আন্দোলনে নেমেছিলেন, আর তাঁদের পাশে “ঘরের মেয়ের মতো” দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: Penguin: পেঙ্গুইনের উল্টো পথে হাঁটা! সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়
কেন্দ্র সরকারকেও আক্রমণ
এদিন কেন্দ্র সরকারকেও আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বড় বড় প্রতিশ্রুতি ছাড়া কেন্দ্র সিঙ্গুরে বাস্তবে কোনও কাজ করেনি। শিল্প পরিকাঠামো থেকে রেল প্রকল্প-সব ক্ষেত্রেই রাজ্যই উদ্যোগী হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সব মিলিয়ে, সিঙ্গুরের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও স্পষ্ট করে দিলেন-শিল্পায়ন ও কৃষি রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রেখেই এগোবে রাজ্য।


