Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অদিতি সিংহের (Aditi Singha) লেখা “বারো অধ্যায়ে একটি মৃত্যু?” একেবারেই সাধারণ কোনো গল্পের বই নয়। এটি এমন এক সাহিত্যসৃষ্টি, যেখানে বাস্তব, কল্পনা, স্বপ্ন আর অবচেতনের সীমারেখা ধীরে ধীরে মুছে যায়। বইটির নামেই রয়েছে প্রশ্নচিহ্ন, যা পাঠককে প্রথম থেকেই ভাবতে বাধ্য করে-এখানে মৃত্যু কি সত্যিই মৃত্যু, নাকি অন্য কিছু? কার মৃত্যুর কথা বলতে চাইছেন লেখিকা?
মৃত্যুর কারণ কী? (Aditi Singha)
এই বইয়ে মোট বারোটি অধ্যায়, আর প্রতিটি অধ্যায়েই রয়েছে (Aditi Singha) মৃত্যু। কিন্তু সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হল-এই মৃত্যুগুলোর নেপথ্যে কোনো নির্দিষ্ট মানুষ নেই। এখানে মৃত্যুর কারণ হয়ে ওঠে সময়, পরিস্থিতি, মানসিক অস্থিরতা এবং মানুষের ভেতরের না বলা কথাগুলো। লেখিকা খুব সহজ ভাষায় মানুষের একাকীত্ব, বিষণ্নতা আর চাপা থাকা যন্ত্রণাকে গল্পের আকারে তুলে ধরেছেন। কলকাতা শহর এই বইয়ের একটি নীরব চরিত্র। ট্রামলাইন, নদীর জল, বন্ধ সিনেমা হল, পুরোনো বই-সব মিলিয়ে শহরের অবচেতন মন যেন নিজেই কথা বলে। গল্পগুলো পড়তে পড়তে মনে হয়, এই খুন মানে কেবল রক্তপাত নয়; বরং নিজেকে নতুন করে চেনার এক কঠিন যাত্রা।

আরও পড়ুন: Kolkata Book Fair 2026: বিদ্রোহ আর ভালোবাসার মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে ‘শিরোনামহীন’
সৃষ্টি ও স্রষ্টা (Aditi Singha)
লেখিকার এটিই প্রথম বই নয়। অদিতি সিংহের অষ্টম সৃষ্টি এটি। ৪৯ তম কলকাতা বইমেলা প্রাঙ্গণের ৫৯০ স্টলে, অনুভূতি প্রকাশনে এই বইটি উপলব্ধ। এর আগে তার সৃষ্টির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘মৃত্যু মিছিল’, ‘কলমে কথা’, ‘কলকাতার কলতান’ ইত্যাদি।

কিছুটা গল্প
বইয়ের গল্পে একটি ফাউন্টেন পেন যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। সেই পেন লেখে, দেখে এবং একসময় মৃত হয়ে মৃত্যুর সাক্ষী হয়ে যায়। বাস্তব আর পরাবাস্তবতার এই মেলবন্ধন বইটিকে আরও গভীর করে তোলে। যাঁরা মনস্তাত্ত্বিক, পরাবাস্তব কিংবা ভাবনাচিন্তায় ভরপুর গল্প পড়তে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য “বারো অধ্যায়ে একটি মৃত্যু?” নিঃসন্দেহে একটি আলাদা অভিজ্ঞতা। এই বই আপনাকে শুধু গল্প শোনাবে না, নিজের ভেতরের অস্থিরতার মুখোমুখিও দাঁড় করাবে। রূঢ় বাস্তবের সঙ্গে সম্মুখ সমরে নামতে হবে আপনাকেও।


