Last Updated on [modified_date_only] by Ananya Dey
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় (Beldanga) সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনার তদন্তভার জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র হাতে তুলে দিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। শনিবার সকালে এনআইএ-র ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বেলডাঙা থানায় পৌঁছে কেস ডায়েরি ও সংশ্লিষ্ট নথি খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। তদন্তকারী দলে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরাও রয়েছেন। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা এনআইএ-কে পাঠিয়েছেন।
পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বেলডাঙায় উত্তেজনা (Beldanga)
গত ১৬ জানুয়ারি ঝাড়খণ্ডে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বেলডাঙায় (Beldanga) উত্তেজনা ছড়ায়। তাঁর দেহ এলাকায় পৌঁছনোর পর ভিন্রাজ্যে বাংলার শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। অভিযোগ ওঠে, বাঙালি হওয়ায় বাংলাদেশি সন্দেহে তাঁকে খুন করা হয়েছে। যদিও ঝাড়খণ্ড পুলিশ সেই অভিযোগ অস্বীকার করে আত্মহত্যার প্রাথমিক দাবি জানায়।
জাতীয় সড়ক অবরোধ, টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ (Beldanga)
ওই দিন জাতীয় সড়ক অবরোধ, টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ এবং শিয়ালদহ–লালগোলা রেল চলাচল ব্যাহত হয়। বিক্ষোভের সময় এক মহিলা সাংবাদিক আক্রান্ত হন। পরদিন, ১৭ জানুয়ারি ফের অশান্তি ছড়ায় বেলডাঙায় (Beldanga)। দ্বিতীয় দফার বিক্ষোভে আরও এক সাংবাদিকের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। টানা দু’দিন ধরে পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত ছিল বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
আরও পড়ুন : Prativa Ganguli: বইয়ের বাইরের শিক্ষাই গড়ে তোলে প্রকৃত মানুষ
পরিকল্পিত অশান্তির অভিযোগ !
পুলিশের দাবি, প্রথম দিনের বিক্ষোভ আংশিকভাবে স্বতঃস্ফূর্ত হলেও দ্বিতীয় দিনের অশান্তি ছিল পরিকল্পিত। তদন্তে উঠে আসে সংগঠিত উসকানির তথ্যও। অভিযোগ, সামাজিক মাধ্যমে উস্কানিমূলক পোস্ট করে ভিড় জমায় উৎসাহ জোগানো হয়েছিল। এই ঘটনায় জালালপুর এলাকার বাসিন্দা সওকত আলি-সহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত চারটি মামলা রুজু হয়েছে এবং মোট গ্রেপ্তারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ জনে।
আরও পড়ুন : Cooch Behar: ভারী ডাম্পারের চাপেই ভেঙে পড়ল সেতু
শুরু এনআইএ তদন্ত
এই মামলার শুনানিতে হাই কোর্ট জানিয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে এনআইএ-কে দিয়ে তদন্ত করাতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তা নিতে পারে রাজ্য। আদালতের পর্যবেক্ষণের পরই তদন্তভার কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হল। এনআইএ ইতিমধ্যেই এফআইআর রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে এবং ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।


