Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দীর্ঘ টানাপোড়েন ও টালবাহানার পর অবশেষে ভারতের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে (Trade Deal)। ভারতীয় পণ্যের উপর আমেরিকার আরোপিত শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একে ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের জয় বলে দাবি করেছেন। কিন্তু এই শুল্কছাড়ের নেপথ্যে কী শর্ত ছিল তা প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।

শুল্কছাড়ের বদলে তেলনীতি বদলাচ্ছে ভারত? (Trade Deal)
বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করে চাঞ্চল্য ছড়ান। সেখানে তিনি দাবি করেন, শুল্ক সমঝোতার বিনিময়ে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। পরিবর্তে আমেরিকার কাছ থেকে অনেক বেশি পরিমাণে তেল কিনবে ভারত। ট্রাম্প আরও বলেন, সম্ভবত ভেনেজুয়েলার কাছ থেকেও তেল আমদানি বাড়াতে পারে দিল্লি। ট্রাম্পের এই বক্তব্য ঘিরেই মূল বিতর্ক। কারণ রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়ার তেল কেনা ভারতের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে এতদিন তুলে ধরা হচ্ছিল। সেই অবস্থান কি এবার বদলাতে চলেছে এই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।
কতটা লাভ, কতটা দায়? (Trade Deal)
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি অনুযায়ী, শুল্ক কমানোর বদলে ভারত আমেরিকা থেকে প্রায় ৫০ হাজার কোটি ডলারের (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৫ লক্ষ ২৫ হাজার ৬২২ কোটি টাকা) পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শক্তি, প্রযুক্তি, কয়লা, কৃষিজ পণ্য-সহ একাধিক ক্ষেত্রের সামগ্রী। সরকারি শিবিরের বক্তব্য, এই চুক্তির ফলে ভারতের রপ্তানি বাড়বে, কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। তবে সমালোচকদের মতে, এত বিপুল অঙ্কের আমদানি প্রতিশ্রুতি ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়াতে পারে।
মোদি–ট্রাম্প ফোনালাপ ও কূটনৈতিক বার্তা (Trade Deal)
সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ফোনালাপ হয়। সেই কথোপকথনের কথা নিজেই প্রকাশ্যে আনেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, শুল্ক সমঝোতার জন্য মোদিই অনুরোধ করেছিলেন এবং ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার কারণেই তিনি দ্রুত চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদি এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ লেখেন, ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে পেরে তিনি আনন্দিত এবং শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তের জন্য ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই পারস্পরিক সৌজন্যের বার্তা কূটনৈতিক স্তরে ইতিবাচক হলেও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন তুলেছে এই ‘বন্ধুত্বের রাজনীতি’ কি ভারতের দরকষাকষির ক্ষমতাকে দুর্বল করছে?
শুল্ক কমেছে, কিন্তু সম্মান? (Trade Deal)
ইন্দো-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তিকে ঘিরে সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলির তরফে। তাঁদের অভিযোগ, শুল্ক কমার বিনিময়ে দেশ তার কৌশলগত স্বাধীনতা বিসর্জন দিচ্ছে। কংগ্রেসের বক্তব্য, “শুল্ক কমেছে ঠিকই, কিন্তু তার দাম দিতে হচ্ছে রাষ্ট্রের সম্মান বিক্রি করে।” বিরোধীদের আরও দাবি, ডোনাল্ড ট্রাম্প কার্যত ভারতকে ‘পুতুলের মতো’ নাচাচ্ছেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তোষামোদ করতেই ব্যস্ত। তাঁদের মতে, মোদি জমানায় ভারত ক্রমশ ট্রাম্প-নির্ভর হয়ে পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের পররাষ্ট্রনীতির জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
আরও পড়ুন: Anandapur Fire: শুভেন্দুর প্রতিবাদ মিছিলে ডিজের তালে ‘উদ্দাম’ নাচ! পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী
রায় দেবে সময়ই
ইন্দো-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি নিঃসন্দেহে ভারতের অর্থনীতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়। একদিকে শুল্কছাড়, রপ্তানির সুযোগ ও আন্তর্জাতিক বাজারে স্বস্তি অন্যদিকে তেলনীতি ও বিপুল আমদানির প্রতিশ্রুতি ঘিরে প্রশ্ন। সরকার একে কূটনৈতিক জয় হিসেবে তুলে ধরলেও বিরোধীরা দেখছে শর্তসাপেক্ষ আপস হিসেবে।



