Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মানবিকতার একি নির্লজ্জ পরিহাস! আনন্দপুরের নাজিয়াবাদের গুদামে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে (Anandapur Fire)। সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এখনও নিখোঁজ অনেকে। সেই পুড়ে যাওয়া লাশের ছাই মারিয়ে রাজনীতির ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছে শাসক-বিরোধী যুযুধান দুই পক্ষই। গোটা ঘটনায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণের ক্ষোভ চড়ছে। তথ্য প্রমাণ নষ্ট যাতে না হয় তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে অকুস্থলের চারপাশে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে।
গোটা ঘটনায় বিরোধীদের আটকাতেই ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিরোদী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ঘটনার প্রতিবাদে মিছিলের অনুমতি না মেলায় এই নিয়ে সুর চড়িয়েছে শুভেন্দু। বৃহস্পতিবার আনন্দপুরের (Anandapur Fire) সেই ভস্মীভূত গোডাউন পরিদর্শন করে রাজ্যের শাসক দল এবং সরকারের তুলোধনা করেন শুভেন্দু। শেষে হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে এবং শর্ত মেনে শুক্রবার ইএম বাইপাস থেকে নরেন্দ্রপুর থানা পর্যন্ত পূর্ব ঘোষিত প্রতিবাদ মিছিল করে বিজেপি। মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন বিরোদী দলনেতা-সহ অনান্য গেরুয়া নেতৃত্বরা।
শুভেন্দুর প্রতিবাদ-মিছিলে বাজল ডিজে! (Anandapur Fire)
আর সেই প্রতিবাদ মিছিলের চিত্র দেখে স্তম্ভিত সকলেই। স্বজন হারানোর আর্তনাদকে ছাপিয়ে রাজ্যজুড়ে বইছে বিতর্কের ঝড়। কেন! এদিন প্রতিবাদের নামে মিছিলে রীতিমত ডিজে বাজিয়ে পুজোর ভাসানের ‘উদ্দাম’ নাচ নাচতে দেখা গেল বিজেপির মহিলা-পুরুষ কর্মী সমর্থকদের। দেখে বোঝার উপায় ছিল না, এটা মর্মান্তিক ঘটনায় প্রশাসনের ব্যর্থতার প্রতিবাদে মিছিল নাকি পুজোর ভাসান। যদিও ডিজে মিউজিকের সঙ্গে বিজেপির ‘পরিবর্তনের গান’ই বাজছিল। তবুও এইরকম একটা মর্মান্তিক ঘটনায় তাই বলে ডিজে মিউজিকের তালে হাত-পা ছুঁড়ে নাচ! সমালোচনার ঝড় বইছে সর্বত্র।
আরও পড়ুন: Anandapur Fire: কঙ্কাল আর ছাইয়ের স্তূপে ঢাকা সত্য, ডিএনএ ম্যাপিং ভাঙবে নীরবতা
দেশজুড়ে হিন্দুত্ব রক্ষার একমাত্র ‘সত্ত্ব’ নিয়েছে বিজেপি। প্রজাতন্ত্র দিবসের ভোরে নাজিরাবাদের গোডাউনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হওয়া ২৫ জনই হিন্দু (Anandapur Fire)। আর একথা নিজেই জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘটনাস্থলে না যাওয়ার জন্য তাঁকে হিন্দু বিরোধী তকমাও দিয়েছেন শুভেন্দু-সহ গোটা পদ্মশিবির। আর সেই হিন্দুদের মৃত্যুতেই বাজছে ডিজে! সঙ্গে চলছে নাচ! প্রশ্ন উঠছে বিজেপি বিরোধী শিবির গুলো থেকেও। যদিও এই নিয়ে পদ্মশিবিরের কোনও সাফাই বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সচরাচর এই ধরণের ঘটনার প্রতিবাদে মৌন বা মোমবাতি মিছিল দেখে অভ্যস্ত রাজ্যবাসী। বিজেপি-সহ সমস্ত রাজনৈতিক দলকেও অতীতে এইভাবে প্রতিবাদ মিছিল করতে দেখা গিয়েছে একাধিকবার। এক্ষেত্রে তাহলে কেন এই কদর্যতা?
এদিকে, আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শুক্রবার গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীও। মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে অর্থ-সাহায্যের ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেন নরেন্দ্র মোদি।
আর এই নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। ঘটনার ৩২ ঘণ্টা পর কেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু সেখানে পৌঁছেছিলেন, সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি-সহ বিরোধী দলগুলি। ন্যায্য প্রশ্ন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তাহলে এত বড় একটা মর্মান্তিক ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোকপ্রকাশে এত বিলম্ব কেন? পাল্টা সেই প্রশ্নও তুলছে শাসক তৃণমূল-সহ বিজেপি বিরোধী দলগুলিও।


