Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বেহালা নারী নির্যাতন কাণ্ডে অবশেষে বড়সড় মোড় (Influencer Nonsane)। জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও ইউটিউবার শমীক অধিকারী, যিনি নেটদুনিয়ায় ‘ননসেন’ নামেই পরিচিত, পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। দীর্ঘ সময় পলাতক থাকার পর বুধবার গভীর রাতে নাগেরবাজার এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে বেহালা থানার পুলিশ। এই ঘটনায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে ধর্ষণের গুরুতর ধারা, যা গোটা বিষয়টিকে আরও ভয়াবহ রূপ দিয়েছে।

বেহালা থানায় আনা হলো অভিযুক্তকে (Influencer Nonsane)
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই শমীক অধিকারী পলাতক ছিলেন। বুধবার রাতে নাগেরবাজারের দক্ষিণদাঁড়ি রোডে নিজের মাসির বাড়ির সামনে থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁকে দমদম হয়ে বেহালা থানায় নিয়ে আসা হয়। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তের প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি তাঁকে আলিপুর আদালতে পেশ করা হবে এবং পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হতে পারে।
নতুন ধারায় বদলালো মামলার অভিমুখ (Influencer Nonsane)
প্রাথমিক এফআইআরে শ্লীলতাহানির অভিযোগ থাকলেও, নির্যাতিতা তরুণী পুলিশের কাছে পুনরায় বিস্তারিত বয়ান দেওয়ার পর মামলার চরিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায়। অভিযোগকারিণীর নতুন বয়ানের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতাএর ৬৪ নম্বর ধারা, অর্থাৎ ধর্ষণের অভিযোগ যুক্ত করেছে পুলিশ। নির্যাতিতার দাবি, গত ৩ ফেব্রুয়ারি তাঁকে একটি ফ্ল্যাটে আটকে রেখে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে penetrative sexual assault করা হয়। এই অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করেই তদন্তের গতি আরও জোরদার করেছে পুলিশ।
২৪ ঘণ্টা বন্দি করে নির্যাতন (Influencer Nonsane)
অভিযোগকারিণী গঙ্গোত্রী রায়ের দাবি অনুযায়ী, গত ২ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল পর্যন্ত তাঁকে শমীকের ফ্ল্যাটে আটকে রাখা হয়। অভিযোগ, ওই সময়ের মধ্যে বেধড়ক মারধর, শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালানো হয় তাঁর উপর। খুনের হুমকি দেওয়া হয়, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং বাইরের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে চলা নির্যাতনের ফলে মুখ, আঙুল-সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগে। এমনকি পরদিন সকালে চোখও ঠিকভাবে খুলতে পারছিলেন না বলেও পুলিশকে জানান তিনি।
অভিভাবকদের উপস্থিতিতেই ঘটেছে ঘটনা? (Influencer Nonsane)
নির্যাতিতার অভিযোগকে আরও চাঞ্চল্যকর করে তুলেছে একটি বিশেষ দাবি। তাঁর বক্তব্য, শমীক অধিকারীর অভিভাবকরা ফ্ল্যাটে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও এই নির্যাতন চলেছে। বারবার অনুরোধ করা হলেও কেউ কোনওভাবে বাধা দেননি বলে অভিযোগ। এই দিকটি তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ।
‘সব অভিযোগ মিথ্যা’ (Influencer Nonsane)
ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসার পর শমীক অধিকারী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি দাবি করেন, নির্যাতিতা তাঁর দীর্ঘদিনের প্রেমিকা এবং সম্পর্কের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতেই ছিল। তাঁর কথায়, সম্পর্কের মধ্যে সাম্প্রতিক অশান্তির জেরেই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র অভিযুক্তের বক্তব্য নয়, নির্যাতিতার মেডিক্যাল রিপোর্ট, বয়ান ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতেই তদন্ত এগোচ্ছে।
আরও পড়ুন: Basanti Firing: প্রেমের জেরে বচসা, ঝগড়া দেখতে গিয়ে বাসন্তীতে গুলিবিদ্ধ যুবক
রাজ্য মহিলা কমিশনের কড়া বার্তা
এই প্রসঙ্গে রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন লীনা গঙ্গোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “অভিযুক্ত যেই হোন না কেন, এই ধরনের কাজ বরদাস্ত করা যায় না। অভিযোগের সত্যতা থাকলে অবশ্যই উপযুক্ত তদন্ত ও কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।” তিনি আরও জানান, অভিযোগকারিণী যদি কমিশনের কাছে কোনও সাহায্য চান, তাহলে কমিশন তাঁর পাশে থাকবে।



