Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২০২৪ সালে কেরল বিধানসভায় পাশ হওয়া নামবদলের প্রস্তাবে ভোটের মুখে ছাড়পত্র দিল ভারত সরকার–এর নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি সরকার (Kerala Name Change)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি–র এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বলে অভিহিত করছেন। কারণ, এই নামবদল কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি মালয়ালি অস্মিতা, ভাষাগত আত্মপরিচয় ও দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক দাবির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তবে ভারতের প্রেক্ষাপটে রাজ্যের নাম পরিবর্তন কোনও নতুন ঘটনা নয়। স্বাধীনতার পর থেকেই ভাষা, সংস্কৃতি, ভৌগোলিক পরিচিতি এবং স্থানীয় জনগণের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে একাধিক রাজ্যের নাম পরিবর্তিত হয়েছে। কেরলের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই দীর্ঘ ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতারই অংশ।

স্বাধীনতার পর প্রথম নামবদল (Kerala Name Change)
স্বাধীনতার পর ভারতে প্রথম বড় রাজ্য হিসেবে নাম বদলায় উত্তরপ্রদেশ। ব্রিটিশ আমলে এই রাজ্যের নাম ছিল ‘ইউনাইটেড প্রভিন্স অব আগরা অ্যান্ড অউধ’। ১৯৫০ সালের ২৫ জানুয়ারি, সংবিধান কার্যকর হওয়ার প্রাক্কালে, রাজ্যের নতুন নাম রাখা হয় উত্তরপ্রদেশ। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী দেশের উত্তরাংশে অবস্থিত বলেই এই নামকরণ।
হায়দরাবাদ থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ (Kerala Name Change)
স্বাধীনতার পরে ‘হায়দরাবাদ’ ছিল একটি পৃথক দেশীয় রাজ্য। ১৯৪৮ সালে তা ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হয়। পরে ভাষাভিত্তিক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় তেলুগুভাষী অঞ্চলগুলি নিয়ে ১৯৫৬ সালে গঠিত হয় অন্ধ্রপ্রদেশ। পরবর্তীকালে আঞ্চলিক অস্মিতার প্রশ্নে দীর্ঘ আন্দোলনের পর ২০১৪ সালে অন্ধ্রপ্রদেশ ভেঙে সৃষ্টি হয় তেলেঙ্গানা। এই ঘটনাও প্রমাণ করে, ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে রাজ্যের সীমানা ও নাম দু’টিই পরিবর্তনশীল।

মধ্যভারত থেকে মধ্যপ্রদেশ (Kerala Name Change)
বর্তমান মধ্যপ্রদেশ একসময়ে ‘মধ্যভারত’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৫৬ সালে রাজ্য পুনর্গঠনের সময় বিন্ধ্য প্রদেশ ও ভোপাল অঞ্চলকে যুক্ত করে নতুন রাজ্যের নাম রাখা হয় মধ্যপ্রদেশ। দেশের প্রায় মধ্যভাগে অবস্থান করায় এই নামকরণ যথার্থতা পায়।
মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির ভাঙন (Kerala Name Change)
ব্রিটিশ আমলের ‘মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি’ স্বাধীনতার পর ‘মাদ্রাজ রাজ্য’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৫৩ সালে তেলুগুভাষী অঞ্চল আলাদা হয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ গঠিত হয়। ১৯৫৬ সালের রাজ্য পুনর্গঠন আইনের মাধ্যমে আরও বিভাজনের পর কেরল ও মহীশূর (বর্তমান কর্নাটক) গড়ে ওঠে। শেষপর্যন্ত ১৯৬৮ সালে ‘মাদ্রাজ’ নাম বদলে রাখা হয় তামিলনাড়ু যার অর্থ ‘তামিলদের দেশ’। এটি ছিল ভাষাভিত্তিক আত্মপরিচয়ের স্পষ্ট স্বীকৃতি।

মহীশূর থেকে কর্নাটক (Kerala Name Change)
১৯৫৬ সালে ‘মহীশূর’ রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় কর্নাটক। কর্ণাট অঞ্চলের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে তুলে ধরতেই এই নাম নির্বাচন করা হয়।
উত্তরাঞ্চল থেকে উত্তরাখণ্ড (Kerala Name Change)
২০০০ সালে গঠিত রাজ্যটির প্রথম নাম ছিল ‘উত্তরাঞ্চল’। পরে আঞ্চলিক দাবির ভিত্তিতে ২০০৬ সালে নাম বদলে রাখা হয় উত্তরাখণ্ড। ‘খণ্ড’ শব্দটি ঐতিহাসিক-পুরাণপ্রসিদ্ধ দেবভূমির পরিচয় বহন করে।
উড়িষ্যা থেকে ওড়িশা (Kerala Name Change)
ভাষাগত শুদ্ধতার দাবিতে ২০১০ সালে ‘উড়িষ্যা’ নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ওড়িশা। ওড়িয়া ভাষার উচ্চারণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এই পরিবর্তন আনা হয়। একইসঙ্গে রাজ্যের সরকারি ভাষার নামও ‘ওড়িয়া’ থেকে ‘ওଡିଆ’ করা হয়।

নর্থ ইস্ট ফ্রন্টিয়ার এজেন্সি থেকে অরুণাচল প্রদেশ
বর্তমান অরুণাচল প্রদেশ একসময় ‘নর্থ ইস্ট ফ্রন্টিয়ার এজেন্সি’ (NEFA) নামে পরিচিত ছিল। ১৯৭২ সালে নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন পরিচয় পায় এই রাজ্য। ‘অরুণাচল’ শব্দের অর্থ সূর্যোদয়ের পর্বতভূমি যা তার ভৌগোলিক অবস্থানকেই ইঙ্গিত করে।
আরও পড়ুন: Naihati Boro Maa: দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান? বড়মার দর্শনে চালু হচ্ছে নো-লাইন নিয়ম
ঐতিহ্য ও অস্মিতার পুনরুচ্চারণ
কেরলের ক্ষেত্রেও নামবদল মূলত ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রশ্নে। মালয়ালি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, রাজ্যের নাম এমনভাবে স্বীকৃত হোক যা তাদের ভাষা ও ঐতিহ্যের যথার্থ প্রতিফলন ঘটায়। রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ। দক্ষিণ ভারতে সংগঠনগতভাবে শক্তিশালী হতে চাওয়া বিজেপির পক্ষে এটি কৌশলগত পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখলে, এটি ভারতের ফেডারেল কাঠামোর এক স্বাভাবিক প্রক্রিয়া যেখানে স্থানীয় পরিচয় ও ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে মর্যাদা দেওয়া হয়।



