Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: টলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে চলা অসন্তোষ এবার প্রকাশ্যে এল সাংবাদিক সম্মেলনের মঞ্চে (Bengali Cinema)। Federation of Cine Technicians & Workers of Eastern India (FCTWEI)-এর অন্তর্গত affiliated guild ও association-গুলির অন্যতম Eastern India Cinematographers’ Association (EICA)-এর সদস্যবৃন্দ এবং টলিউডের বিভিন্ন টেকনিশিয়ান ও কলাকুশলী সংগঠনের প্রতিনিধিরা ২৮শে মে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন। এই সম্মেলনে সংগঠনের ভিতরে চলা একাধিক অনিয়ম, আর্থিক তছরুপ, পক্ষপাতমূলক আচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রতিবাদী সদস্যদের বিরুদ্ধে ‘silent ban’-এর মতো গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে আনা হয়। উপস্থিত সদস্যরা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং ভিন্নমত পোষণকারীদের পরিকল্পিতভাবে কোণঠাসা করা হচ্ছে।

আর্থিক তছরুপ থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার (Bengali Cinema)
সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সংগঠনের আর্থিক লেনদেন এবং প্রশাসনিক কার্যকলাপে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে। সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, সংগঠনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে নেওয়া হয়নি এবং বহু ক্ষেত্রেই সাধারণ সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে (Bengali Cinema)। এছাড়াও অভিযোগ ওঠে, নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হয়েছে। কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা আইনি নোটিশ পাঠিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টাও হয়েছে বলে দাবি করা হয়। প্রতিবাদী বা প্রশ্ন তোলা সদস্যদের বিরুদ্ধে কাজের সুযোগ কমিয়ে দেওয়া, বিভিন্ন প্রজেক্ট থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া এবং কার্যত ‘silent ban’ জারি করার অভিযোগও সামনে আসে।
স্বপন মজুমদারকে ঘিরে বিস্ফোরক দাবি (Bengali Cinema)
সম্মেলনে বিশেষভাবে উঠে আসে শ্রী স্বপন মজুমদারের নাম। উপস্থিত সদস্যরা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং দাবি করেন, সংগঠনের প্রশাসনিক কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন তুললে নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। সাংবাদিকদের সামনে কিছু নথি, তথ্য ও প্রমাণও তুলে ধরা হয় বলে জানা গেছে। যদিও অভিযোগগুলির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বপন মজুমদারের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উপস্থিত ছিলেন একাধিক সদস্য (Bengali Cinema)
এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন EICA-এর সদস্য শ্রী নুপুর মল্লিক, শ্রী অঞ্জন কুমার পাল, শ্রী সুকান্ত দেবনাথ, শ্রী রূপতাপস ওঝা এবং শ্রী রতন মণ্ডল সহ আরও অনেকে। উপস্থিত সদস্যরা একযোগে দাবি করেন, সংগঠনের ভিতরে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা জরুরি। তাঁদের বক্তব্য, টলিউড ইন্ডাস্ট্রির টেকনিশিয়ানদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার জন্যই এই প্রতিবাদ এবং সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
টলিউড টেকনিশিয়ান মহলে বাড়ছে চাপানউতোর (Bengali Cinema)
এই ঘটনার পর টলিউডের টেকনিশিয়ান মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে চলা অসন্তোষ এবার প্রকাশ্যে চলে আসায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, এই অভিযোগগুলি যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তা টলিউডের টেকনিশিয়ান সংগঠনগুলির ভাবমূর্তির উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসায় আগামী দিনে বিষয়টি আরও কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর এখন ইন্ডাস্ট্রির একাংশের।
আরও পড়ুন: Smart Border: স্মার্ট বর্ডার প্রকল্পে জোর শাহের, ‘প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করতে হবে’
স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি
সাংবাদিক সম্মেলনের শেষে উপস্থিত সদস্যরা সংগঠনের যাবতীয় আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যকলাপের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। পাশাপাশি, তাঁরা বলেন, ভয়ভীতি বা চাপের রাজনীতি নয়, বরং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই সংগঠন পরিচালিত হওয়া উচিত। টলিউডের বিভিন্ন টেকনিশিয়ান সংগঠন এবং কলাকুশলীদের একাংশের মতে, এই বিতর্ক শুধু একটি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, বরং গোটা ইন্ডাস্ট্রির কাজের পরিবেশ ও পেশাগত নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।



