Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ওয়েব সিরিজ ও ডিজিটাল কনটেন্টের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার যুগে আবারও কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্রীয় সরকার (OTT Platforms)। ‘অশ্লীল’ ও নীতিবিরুদ্ধ কনটেন্ট প্রদর্শনের অভিযোগে পাঁচটি ওটিটি অ্যাপকে ভারতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সরকারের দাবি, একাধিক সতর্কবার্তার পরও সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলি কনটেন্ট নীতিতে সংশোধন আনেনি, ফলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া আর কোনও পথ খোলা ছিল না। নিচে বিষয়টি প্রবন্ধ আকারে বিশদে আলোচনা করা হল।

ডিজিটাল বিনোদনের বিস্তার (OTT Platforms)
গত এক দশকে ভারতে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের প্রসার অভূতপূর্ব। স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা, সস্তা ইন্টারনেট এবং ঘরে বসে বিনোদনের সুবিধা সব মিলিয়ে ওয়েব সিরিজ আজ কোটি কোটি দর্শকের নিত্যসঙ্গী। সিনেমা বা টেলিভিশনের তুলনায় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাধীনতা থাকায় নির্মাতারা নানা সাহসী ও প্রাপ্তবয়স্ক বিষয় নিয়ে কাজ করছেন। তবে এই স্বাধীনতার সুযোগে অনেক ক্ষেত্রে সীমা লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠছে। বিশেষত, অতিরিক্ত যৌন দৃশ্য, উসকানিমূলক উপস্থাপনা এবং স্পষ্ট ভাষার ব্যবহার নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। সরকার মনে করছে, কিছু প্ল্যাটফর্ম ইচ্ছাকৃতভাবে দর্শক টানতে ‘অশ্লীলতা’কে হাতিয়ার করছে।
কোন পাঁচটি অ্যাপ নিষিদ্ধ? (OTT Platforms)
সরকারি তালিকা অনুযায়ী যে পাঁচটি ওটিটি অ্যাপ নিষিদ্ধ হয়েছে, সেগুলি হল, মুড এক্স ভিআইপি, কোয়েল প্লেপ্রো, ডিজি মুভিপ্লেক্স, ফিল, জুগুনু, অভিযোগ, এই প্ল্যাটফর্মগুলিতে ধারাবাহিকভাবে এমন কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছিল যা ভারতীয় আইন অনুযায়ী অশোভন বা সমাজবিরোধী বলে গণ্য হতে পারে। বিশেষত নাবালকদের সহজে এই কনটেন্টে প্রবেশের সুযোগ থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সরকার।

প্রশাসনিক পদক্ষেপ (OTT Platforms)
এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং ২০২১ সালের আইটি (Intermediary Guidelines and Digital Media Ethics Code) বিধির আওতায়। ওই বিধিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিকে নির্দিষ্ট নৈতিক ও আইনি মানদণ্ড মেনে চলতে হবে। সরকারি সূত্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট অ্যাপগুলিকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। কনটেন্ট অপসারণ বা সংশোধনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্দেশ অমান্য করায় শেষপর্যন্ত এই কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
২০২৪ সালের নজির (OTT Platforms)
এই ধরনের পদক্ষেপ নতুন নয়। ২০২৪ সালেও একই আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে ১৮টি ওটিটি প্ল্যাটফর্মকে নিষিদ্ধ করেছিল কেন্দ্র। সেই সময় ১৯টি ওয়েবসাইট, ১০টি অ্যাপ এবং ৫৭টি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল। ফলে স্পষ্ট, ডিজিটাল মাধ্যমে বেআইনি বা অশ্লীল কনটেন্ট রুখতে সরকার ধারাবাহিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে।

সামাজিক দায়বদ্ধতা (OTT Platforms)
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে মতভেদও তৈরি হয়েছে। একাংশের মতে, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সৃজনশীল স্বাধীনতা থাকা প্রয়োজন। সমাজের নানা বাস্তবতা, সম্পর্ক ও মনস্তত্ত্ব তুলে ধরতে গেলে অনেক সময় প্রাপ্তবয়স্ক বিষয় আসতেই পারে। অন্যদিকে, বিরোধী মত বলছে স্বাধীনতার নামে সীমাহীন অশ্লীলতা গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে যখন তা সহজলভ্য হয়ে উঠছে কিশোর-তরুণদের জন্য। ফলে একটি সুস্পষ্ট নিয়ন্ত্রণ কাঠামো অপরিহার্য।
আরও পড়ুন: Suniti Kum ar Chatterjee: মহাগ্রন্থের শতবর্ষ! ‘ও-ডি-বি-এল’এই বই বাঙালির আত্মপরিচয়ের শিকড়
ডিজিটাল যুগে নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ
প্রশ্ন উঠছে শুধু নিষেধাজ্ঞা কি সমস্যার সমাধান? বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে প্রয়োজন কার্যকর রেটিং ব্যবস্থা, বয়সভিত্তিক কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং শক্তিশালী গ্রিভ্যান্স রেড্রেসাল মেকানিজম। একইসঙ্গে দর্শকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করাও জরুরি। ডিজিটাল পরিসর ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। এই বাস্তবতায় সরকার, প্ল্যাটফর্ম এবং দর্শক তিন পক্ষের সম্মিলিত দায়িত্বেই গড়ে উঠতে পারে একটি সুস্থ ও দায়িত্বশীল বিনোদন পরিবেশ।



