Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আন্তর্জাতিক জ্বালানি (Venezuela Oil) বাজারে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। ভেনেজুয়েলা থেকে ভারতের উদ্দেশে এবার বিশ্বের বৃহত্তম তেলবাহী জাহাজ, ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার -এ করে পাঠানো হচ্ছে অপরিশোধিত তেল। প্রতিটি ভিএলসিসি প্রায় ২০ লক্ষ ব্যারেল পর্যন্ত তেল বহনে সক্ষম। ফলে রফতানির পরিমাণ, গতি এবং খরচ—তিন ক্ষেত্রেই বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ (Venezuela Oil)
সাম্প্রতিক সময়ে কারাকাস ও ওয়াশিংটনের মধ্যে (Venezuela Oil) সরবরাহ সংক্রান্ত সমঝোতা কার্যকর হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন সঞ্চার দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার ফলে ভেনেজুয়েলার তেল আবারও বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বড় আন্তর্জাতিক ট্রেডিং সংস্থাগুলি দ্রুত সক্রিয় হয়েছে। মার্চ মাসেই ভাইটল এবং ট্রাফিগুরা তিনটি ভিএলসিসি ভাড়া করে। জোসে টার্মিনাল থেকে তেল তুলে সেগুলি ভারতের বিভিন্ন বন্দরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। বাজার সূত্রে জানা গেছে, ‘অলিম্পিয়ান লেওন’ নামের আরও একটি বৃহৎ ট্যাঙ্কার ভেনেজুয়েলার পথে রয়েছে এবং তার সম্ভাব্য গন্তব্য ভারত।

কেন ভিএলসিসি গুরুত্বপূর্ণ? (Venezuela Oil)
ভিএলসিসি ব্যবহারের ফলে একাধিক সুবিধা (Venezuela Oil) মিলছে। যেমন প্রতি ব্যারেল পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে, একবারে বড় কার্গো পাঠানো সম্ভব, সরবরাহ চক্র দ্রুত হয়, বন্দরে লোডিং-আনলোডিং কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার মতো দেশের ক্ষেত্রে যেখানে উৎপাদন পুনরুদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গে স্টক জমে থাকে, সেখানে বড় ট্যাঙ্কার ব্যবহার কৌশলগতভাবে কার্যকর। এতে অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ মজুত সরানো যায়।
ভেনেজুয়েলার অন্যতম প্রধান ক্রেতা (Venezuela Oil)
২০১৯ সালে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারির আগে ভারত ছিল (Venezuela Oil) ভেনেজুয়েলার অন্যতম প্রধান ক্রেতা। সেই সময় ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির একটি উল্লেখযোগ্য অংশই আসত ভেনেজুয়েলা থেকে। নিষেধাজ্ঞার জেরে সেই প্রবাহ কার্যত থেমে যায় এবং ভারত বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকে পড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো—এই দুই লক্ষ্য সামনে রেখেই ভারত আবার ভেনেজুয়েলার দিকে ঝুঁকছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

হেভি ক্রুড সরবরাহ (Venezuela Oil)
সম্প্রতি মার্কিন জ্বালানি সংস্থা শেভ্রন প্রায় ছয় (Venezuela Oil) বছর পর সরাসরি বসক্যান হেভি ক্রুড সরবরাহ করেছে Reliance Industries-কে। এই লেনদেন আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধরা হচ্ছে। এর পাশাপাশি Indian Oil Corporation, Bharat Petroleum এবং HPCL Mittal Energy-সহ একাধিক ভারতীয় রিফাইনারি ট্রেডিং সংস্থার মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার হেভি ক্রুড সংগ্রহ করছে।
অনিশ্চয়তা এখনও পুরোপুরি কাটেনি
ভেনেজুয়েলার হেভি ক্রুড সাধারণত ডিসকাউন্টে পাওয়া যায়। ভারতীয় রিফাইনারিগুলির অনেকগুলিই হেভি ও সাওয়ার গ্রেড প্রক্রিয়াকরণের উপযোগী। ফলে তুলনামূলক কম দামে কাঁচা তেল কিনে উচ্চ মার্জিনে পরিশোধিত পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়। তবে বাজারদর, পরিবহন ব্যয় এবং বীমা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। বিশ্লেষকদের মতে, বড় কার্গো পরিবহণের মাধ্যমে মোট খরচ কাঠামো ভারসাম্যে রাখা সম্ভব হতে পারে।

সরবরাহ স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভেনেজুয়েলার দৈনিক তেল রফতানি প্রায় ৮০ লক্ষ ব্যারেলের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা আগের মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ কিছুটা কমতেই উৎপাদন ও রফতানি—দুই ক্ষেত্রেই গতি ফিরে এসেছে। এই বাণিজ্যিক পুনরুজ্জীবন কেবল অর্থনৈতিক নয়, ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্কের বরফ গলছে, অন্যদিকে ভারত তার জ্বালানি নিরাপত্তা কৌশল আরও বৈচিত্র্যময় করছে। বৃহৎ ট্যাঙ্কার ব্যবহারের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টাও স্পষ্ট।
আরও পড়ুন: Arijit Singh: প্লেব্যাকে ফের অরিজিৎ, সঙ্গে সারপ্রাইজের ডালি!
সব মিলিয়ে বলা যায়, বৃহৎ ট্যাঙ্কার, নতুন সমঝোতা, সক্রিয় আন্তর্জাতিক ট্রেডিং সংস্থা এবং ভারতীয় রিফাইনারিগুলির আগ্রহ—এই সব উপাদান একসঙ্গে মিলেই ভারত–ভেনেজুয়েলা তেল সম্পর্ককে নতুন গতি দিচ্ছে। আগামী মাসগুলিতে এই প্রবণতা আরও জোরদার হবে কি না, এখন সেটাই নজরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের।


