Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আকাশপথে সামরিক উড়ান বরাবরই উচ্চঝুঁকিপূর্ণ (Turkey)। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, কঠোর প্রশিক্ষণ এবং উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সত্ত্বেও মাঝেমধ্যেই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সম্প্রতি তুরস্কে এমনই এক ঘটনায় ভেঙে পড়েছে একটি F-16 Fighting Falcon যুদ্ধবিমান। উড়ানের কয়েক মিনিটের মধ্যেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে সেটি আছড়ে পড়ে। এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন পাইলট মেজর ইব্রাহিম বোলাত। দুর্ঘটনার কারণ এখনও অস্পষ্ট, তবে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা দপ্তর।

গভীর রাতে উড়ান, আচমকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন (Turkey)
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১২টা ৫৬ মিনিট নাগাদ যুদ্ধবিমানটি বালিকেসির বিমানঘাঁটি থেকে উড়ান নেয়। এটি ছিল নিয়মিত প্রশিক্ষণমূলক উড়ান বলেই প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। কিন্তু আকাশে ওড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাডার থেকেও হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায় সেটি। সামরিক উড়ানের ক্ষেত্রে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক সংকেত। প্রথমে প্রযুক্তিগত সমস্যার আশঙ্কা করা হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই খবর আসে বিমানটি ভেঙে পড়েছে।
ইস্তানবুল–ইজমির হাইওয়ের কাছে ভয়াবহ পতন (Turkey)
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, যুদ্ধবিমানটি ইস্তাম্বুল-ইজমির হাইওয়ের কাছে আছড়ে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কপথের নিকটে দুর্ঘটনা ঘটায় মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা আকাশ ছুঁতে দেখা যায়। বিমানটি মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাতে আগুন ধরে যায়। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ, দমকল ও উদ্ধারকারী দল। তবে আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে উদ্ধারকাজে যথেষ্ট বাধার সৃষ্টি হয়।

পাইলটের করুণ পরিণতি (Turkey)
এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে পাইলট মেজর ইব্রাহিম বোলাতের। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিমানটি ভেঙে পড়ার পর আগুনে দগ্ধ হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি তুরস্ক বায়ুসেনার একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ পাইলট ছিলেন। সহকর্মী ও সামরিক মহলে তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক নেমে এসেছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, দুর্ঘটনায় পাইলট নিহত হয়েছেন এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।
শক্তিশালী অথচ ঝুঁকিপূর্ণ (Turkey)
F-16 Fighting Falcon বিশ্বের অন্যতম বহুল ব্যবহৃত মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত এই বিমান বহু দেশের বায়ুসেনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তুরস্কও দীর্ঘদিন ধরে এই মডেলের বিমান ব্যবহার করে আসছে এবং ন্যাটো জোটের সদস্য হিসেবে নিয়মিত সামরিক মহড়া পরিচালনা করে। যদিও এফ–১৬ অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন, তবু উচ্চগতির সামরিক উড়ানে ঝুঁকি সবসময়ই থেকে যায়। বিশেষ করে রাতের উড়ান, জটিল কৌশলগত মহড়া বা আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটির ক্ষেত্রে বিপদের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ (Turkey)
এই মুহূর্তে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করছেন, ইঞ্জিন বা যান্ত্রিক ত্রুটি, বৈদ্যুতিক বা নেভিগেশন সিস্টেম বিকল হওয়া, হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন, মানবিক ত্রুটি, প্রযুক্তিগত সফটওয়্যার সমস্যা, তদন্তকারী দল বিমানের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা, রাডার ডাটা বিশ্লেষণ এবং পাইলটের শেষ যোগাযোগের তথ্য খতিয়ে দেখছে। যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে ফ্লাইট ডাটা বিশ্লেষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও অনেক সময় জাতীয় নিরাপত্তার কারণে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয় না।

আরও পড়ুন: Delhi: রাজধানীর নাম ‘ইন্দ্রপ্রস্থ’ করতে শাহকে চিঠি বিজেপি সাংসদের
সামরিক উড়ানের ঝুঁকি ও বাস্তবতা
সামরিক বিমানচালনা সাধারণ বাণিজ্যিক উড়ানের তুলনায় অনেক বেশি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। যুদ্ধবিমান অত্যন্ত উচ্চগতিতে ও জটিল কৌশলে পরিচালিত হয়। ফলে সামান্য ত্রুটিও মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এই দুর্ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল, প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, মানবজীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবসময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ।



