Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানে (IED Recover) ফের বড় সাফল্য পেল সেনাবাহিনী ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। বুধবার পুঞ্চ জেলার গনি জঙ্গলে যৌথ তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, সময়মতো এই উদ্ধার না হলে বড়সড় নাশকতার ঘটনা ঘটতে পারত। সেনাবাহিনীর হোয়াইট নাইটস কর্পস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুরু হয় এই অভিযান। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পর একটি প্রাকৃতিক গুহার ভিতর থেকে উদ্ধার হয় দু’টি আইইডি। যার মধ্যে একটি প্রায় সাড়ে চার কেজি ওজনের এবং অন্যটি প্রায় ৮০০ গ্রাম। বিস্ফোরকগুলির শক্তি ও পরিমাণ দেখে অনুমান, জনবহুল এলাকায় বড় আঘাত হানার ছক ছিল জঙ্গিদের।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা (IED Recover)
আইইডি ছাড়াও উদ্ধার হয়েছে দু’টি চাইনিজ গ্রেনেড (IED Recover), একটি পিস্তল এবং ২৪ রাউন্ড গুলি। সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, অত্যন্ত কৌশলে গুহার ভিতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল এই অস্ত্র ও বিস্ফোরক। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, মেন্দাহার থানা এলাকার কোনও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা ছিল। আইইডি নিষ্ক্রিয় করার জন্য বিশেষ বোম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। এরপর গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে শুরু হয় চিরুনি তল্লাশি। আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে আরও বিস্ফোরক বা অস্ত্র মজুত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জঙ্গি কার্যকলাপ বাড়ানোর চেষ্টা (IED Recover)
নিরাপত্তা বাহিনীর এক আধিকারিক (IED Recover) জানিয়েছেন, সম্প্রতি উপত্যকায় জঙ্গি কার্যকলাপ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। সীমান্ত পার করে অনুপ্রবেশ এবং স্থানীয় মডিউল সক্রিয় করার ছকও থাকতে পারে বলে সন্দেহ। সেই কারণেই গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত রবিবার কিশতওয়ার জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে খতম হয় পাকিস্তান-সমর্থিত তিন জঙ্গি। মৃতদের মধ্যে ছিল জঙ্গি সংগঠন জৈশ-ই-মহম্মদ-এর শীর্ষ কমান্ডার সইফুল্লা বালোচ। ‘অপারেশন ত্রাশি-১’ নামে ওই অভিযানে সেনা ও পুলিশের যৌথ বাহিনী অংশ নেয়।
নজরদারি আরও জোরদার
গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে জঙ্গিদের সম্ভাব্য লুকিয়ে থাকার জায়গা ঘিরে ফেলা হয়। দীর্ঘক্ষণ গুলির লড়াইয়ের পর তিন জঙ্গি নিকেশ হয়। ওই অভিযানের পর থেকেই সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। গত কয়েক দিনে উপত্যকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিক সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের সঙ্গে পাকিস্তানে থাকা জঙ্গি সংগঠনগুলির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তাদের কাছ থেকেও উদ্ধার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং বিস্ফোরক তৈরির সামগ্রী।

আরও পড়ুন: PM Modi On Instagram: ইনস্টাগ্রামে ১০ কোটির গণ্ডি পেরিয়ে ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, জঙ্গি নেটওয়ার্ককে পুরোপুরি ভেঙে দিতে ধারাবাহিক অভিযান চলবে। সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনও তথ্য থাকলে প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। উপত্যকায় শান্তি বজায় রাখতে সেনা, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।


