Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রবল বৃষ্টিতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে (Brazil Rain) দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজ়িল। সোমবার থেকে শুরু হওয়া টানা ও অস্বাভাবিক ভারী বর্ষণে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের একাধিক প্রদেশ। অবিরাম বৃষ্টির জেরে নদীর জলস্তর হু হু করে বাড়তে শুরু করে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বহু নদী দু’কূল ছাপিয়ে প্লাবিত করে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। তৈরি হয়েছে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি। বহু জায়গায় ভূমিধসও নেমেছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃত্যু (Brazil Rain)
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে (Brazil Rain), এখনও পর্যন্ত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৪৬ জনের। আহত হয়েছেন ৩৯ জন। পাশাপাশি নিখোঁজ রয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্রাজ়িলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রদেশ মিনাস গেরিয়াস। প্রবল বর্ষণের ফলে প্রদেশের একাধিক নদী বিপজ্জনক স্তরের অনেক উপরে বইতে শুরু করেছে।

টানা বৃষ্টির জেরে বড়সড় ভূমিধস (Brazil Rain)
নদীর জল ঢুকে পড়েছে শহর ও জনবসতিপূর্ণ (Brazil Rain) এলাকায়। বিশেষ করে প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহর জুইজ় ডি ফোরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রশাসনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধুমাত্র এই শহরেই অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একাধিক এলাকা সম্পূর্ণ জলের তলায় চলে গিয়েছে। রাস্তাঘাট, সেতু, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া উবা শহরেও পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সেখানে এখনও পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এক রাতের মধ্যেই নদীর জল বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। হড়পা বানের মতো জল ঢুকে পড়ে আবাসিক এলাকায়। বহু কাঁচা ও আধাপাকা বাড়ি ভেসে গিয়েছে বা ধসে পড়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলে টানা বৃষ্টির জেরে বড়সড় ভূমিধস নেমেছে, যার ফলে বহু মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর (Brazil Rain)
প্রশাসন সূত্রে খবর, বন্যা ও ভূমিধসের জেরে জুইজ় ডি (Brazil Rain) ফোরা এবং উবা শহর মিলিয়ে অন্তত ৩৬০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্কুল, কমিউনিটি হল ও সরকারি ভবনগুলিকে অস্থায়ী ত্রাণ শিবির হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ২০০-রও বেশি মানুষকে উদ্ধার করেছে দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। তবে এখনও বহু এলাকা জলমগ্ন থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন বহু অঞ্চল, ফলে রাতের অন্ধকারে উদ্ধারকাজে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলকে।

ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ শুরু করার নির্দেশ (Brazil Rain)
দমকল বিভাগের আধিকারিক মাজ দেমেত্রিয়াস গউলার্ট জানিয়েছেন, জুইজ় ডি ফোরার পাহাড়ি এলাকায় অন্তত ১২টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা। ভারী যন্ত্রপাতি এনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ড্রোনের সাহায্যে আকাশপথে নজরদারি চালানো হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে। দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রাজ়িলের প্রেসিডেন্ট লুই ইন্যাসিও লুলা দা সিলভা। তিনি মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য প্রশাসনের পাশে রয়েছে। জুইজ় ডি ফোরায় আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে।
জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বহু হাসপাতাল
জুইজ় ডি ফোরার মেয়র মারগারিদা সালমাও জানিয়েছেন, মাত্র দু’দিনে শহরে ৫৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। তাঁর দাবি, শহরের পাঁচ লক্ষেরও বেশি বাসিন্দা কোনও না কোনওভাবে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বহু হাসপাতাল, স্কুল ও সরকারি কার্যালয়। পরিস্থিতির জেরে সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পঠনপাঠন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: Mao Leader Surrender: ছত্তিশগড়ে বড় সাফল্য নিরাপত্তা বাহিনীর, কাঁকেরে আত্মসমর্পণ মাওবাদী নেতার
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অস্বাভাবিক মাত্রার বৃষ্টিপাত এবং অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ জলধারণ ক্ষমতার অভাব—এই দুইয়ের মিলিত ফলেই তৈরি হয়েছে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি। উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৪ সালে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিল ব্রাজ়িল। সেই সময়ের বন্যা ও ভূমিধসে ২০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ব্রাজ়িলের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সেটিই ছিল অন্যতম বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ। নতুন করে এই বিপর্যয় ফের উদ্বেগ বাড়িয়েছে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজ কত দ্রুত এগোয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।


