Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কর্নাটকের ইয়াদগির জেলা–র এক স্থানীয় আশ্রমে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা ঘিরে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে (Karnataka)। শ’য়ে শ’য়ে ভক্তের উপস্থিতিতে এক স্বঘোষিত ধর্মগুরু নাবালিকাকে জাপটে ধরে তাঁর ঠোঁটে চুম্বন করছেন এমনই একটি ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি ‘আশীর্বাদ’-এর নামে প্রকাশ্য অশালীনতা ও শিশু-নির্যাতনের শামিল। ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। অভিযুক্ত ধর্মগুরুর নাম মল্লিকার্জুন মুতায়া। তাঁর বিরুদ্ধে শিশু সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের হয়েছে, তবে তিনি এখনও পুলিশের নাগালের বাইরে।

জনসমক্ষে বিতর্কিত আচরণ (Karnataka)
সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আশ্রমের ভক্তদের ভিড়ের মধ্যেই এক নাবালিকাকে টেনে নিয়ে তাঁর ঠোঁটে চুম্বন করছেন ওই ‘বাবা’। উপস্থিত জনতার কেউ কেউ বিষয়টিকে ‘আশীর্বাদ’ বলে মেনে নিলেও, ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, ঘটনাটি নাবালিকার বাবা-মায়ের সামনেই ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে ধর্মীয় আবেগ, অন্ধবিশ্বাস বা সামাজিক চাপে কি পরিবার সেই মুহূর্তে প্রতিবাদ করতে পারেনি?
পকসো আইনে মামলা, তবুও অধরা অভিযুক্ত (Karnataka)
ঘটনার পর কর্নাটক পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে POCSO Act–এ মামলা দায়ের করেছে। এই আইনে নাবালিকাদের প্রতি যৌন অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নাবালিকাটি মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। ‘বাবার আশীর্বাদ’ পেতে পরিবারটি কর্নাটকে এসেছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। আশ্রমে উপস্থিত বহু ভক্তের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। তবুও এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

‘পালাইনি’ দাবি ধর্মগুরুর, তবু খোঁজ মিলছে না (Karnataka)
অভিযুক্ত মল্লিকার্জুন মুতায়ার দাবি, তাঁর উদ্দেশ্য খারাপ ছিল না। তিনি নাকি ‘অপত্য স্নেহে’ নাবালিকাকে আশীর্বাদ করছিলেন। তাঁর আরও দাবি, তিনি পালিয়ে যাননি; বরং নিজের এলাকায় গণবিবাহের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে যদি তিনি পালিয়ে না গিয়ে থাকেন, তাহলে পুলিশ কেন তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারছে না? প্রশাসনিক গাফিলতি, না কি প্রভাবশালীদের ছত্রছায়া এই নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
আরও পড়ুন: Sikandar Raza: রোহিতকে টপকে রাজাই ‘সিকান্দার’
অন্ধবিশ্বাস বনাম আইনশাসন
ভারতে বহু ক্ষেত্রে স্বঘোষিত ধর্মগুরুরা ভক্তদের অন্ধবিশ্বাসকে পুঁজি করে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেন। ধর্মীয় আবেগ ও সামাজিক প্রভাবের জেরে অনেক সময় ভুক্তভোগীরা সরাসরি প্রতিবাদ করতে পারেন না। কিন্তু আইন স্পষ্ট নাবালিকার সম্মতি আইনত গ্রহণযোগ্য নয়, এবং এ ধরনের আচরণ গুরুতর অপরাধ। এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়, ধর্মীয় আবহে ঘটলেও কোনও অপরাধই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। শিশু সুরক্ষা আইনের কঠোর প্রয়োগই পারে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে।



