Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক পরিচিত ও দীর্ঘদিনের সক্রিয় মুখ রাহুল সিনহা (Rahul Sinha)। সংগঠনমুখী রাজনীতি, স্পষ্টভাষী অবস্থান এবং দলীয় আদর্শের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা এই তিন বৈশিষ্ট্যই তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর এবার তাঁর কেরিয়ারে এল এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে দিল্লির উচ্চকক্ষে পা রাখতে চলেছেন তিনি।

শুরুর দিন: সংঘ থেকে পদ্মশিবিরে (Rahul Sinha)
আটের দশকে মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি আরএসএসের মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করেন। সেই সময় পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সংগঠন ছিল অত্যন্ত দুর্বল। কিন্তু আদর্শনিষ্ঠ এক তরুণ কর্মী হিসেবে তিনি ধীরে ধীরে দলের ভিত গড়ার কাজে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত করেন। সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে কাজ করতে করতে তিনি রাজ্য ও জাতীয় নেতৃত্বের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন মূলত সংগঠনকেন্দ্রিক মাঠে নেমে আন্দোলন, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং দলীয় বিস্তার সব ক্ষেত্রেই সক্রিয় ছিলেন তিনি।
রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব ও সাংগঠনিক বিস্তার (Rahul Sinha)
২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। এই সময়েই রাজ্যে বিজেপির সাংগঠনিক ভিত দৃঢ় হতে শুরু করে। তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যখন দলটি বিরোধী রাজনীতির এক প্রান্তিক শক্তি, তখন রাহুল সিনহার নেতৃত্বে বিজেপি বিভিন্ন ইস্যুতে সরব হয় এবং জনআন্দোলনে অংশ নেয়। তাঁর নেতৃত্বকালে রাজ্যে বিজেপি নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে তোলে এবং ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে। স্পষ্টভাষী মন্তব্য এবং সরকারের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন।
নির্বাচনী লড়াই ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ (Rahul Sinha)
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি হাবড়া কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। সেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। যদিও সেই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন, তবু দলীয় রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা থেমে থাকেনি। নির্বাচনী পরাজয়ের পর কিছু সময় তিনি কোনও স্থায়ী সাংগঠনিক পদে না থাকলেও দলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও সক্রিয়তা অটুট ছিল।
রাজ্যসভায় মনোনয়ন: নতুন দায়িত্ব (Rahul Sinha)
দোলের দিন বিজেপি একাধিক রাজ্যে রাজ্যসভার প্রার্থী ঘোষণা করে। পশ্চিমবঙ্গে একটি মাত্র আসনে প্রার্থী করা হয় রাহুল সিনহাকে। আগামী ১৬ মার্চের নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হতে চলেছেন। এই মনোনয়ন তাঁর দীর্ঘ সংগঠনমুখী রাজনৈতিক জীবনের স্বীকৃতি বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাজ্য স্তর থেকে এবার জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষে তাঁর উপস্থিতি দলীয় কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

আরও পড়ুন: US Iran: ইরানে সামরিক অভিযান আমেরিকার, আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
সমসাময়িক প্রেক্ষাপট
এই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস আগেই চার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বাবুল সুপ্রিয়, রাজীব কুমার, কোয়েল মল্লিক এবং মেনকা গুরুস্বামী। অন্যদিকে, বিহার থেকেও বিজেপি গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে রয়েছেন নীতীন নবীন। বিভিন্ন রাজ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় নিশ্চিত হওয়ায় রাজনৈতিক সমীকরণ স্পষ্ট হয়েছে।



