Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে এখনই থামাতে চাইছেন না (Donald Trump)। হামলা-পাল্টা হামলার এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি ইতিমধ্যে পাঁচ দিন পূর্ণ করেছে, এবং প্রতিদিন নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। শুক্রবার বিকেলে ট্রাম্প পারমাণবিক আলোচনায় তার অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইসহ দেশের বহু শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলার নির্দেশ দেন।

আঞ্চলিক উত্তেজনার বিস্তার (Donald Trump)
এই হামলার প্রতিশোধে ইরান বাহরিন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ইরাকের মার্কিন দূতাবাস এবং সেনাঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চ করে। মার্কিন বাহিনীর প্রথম আক্রমণে ইরানের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রেক্ষিতে ইরানও প্রতিহামলা শুরু করে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী হামলার প্রথম ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে, যা ভারতীয় টাকায় প্রায় ৬,৯০০ কোটি টাকা।
অস্ত্রভান্ডারের চাপ ও ঘাটতির আশঙ্কা (Donald Trump)
ট্রাম্প ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ অন্তত এক মাস বা তার বেশি সময় পর্যন্ত চলতে পারে, অর্থাৎ খরচ আরও বাড়বে। পেন্টাগন জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনীর কাছে আরও ১০ দিন অভিযান চালানোর পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের ঘাটতি খুব দ্রুত দেখা দিতে পারে। গত বছরের ইরান সংঘাতে মার্কিনিরি THAAD ইন্টারসেপ্টরের ২৫ শতাংশ ব্যবহার করেছিল। JDAM স্মার্ট বোমা, SM-3 অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং অন্যান্য উন্নত প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুত এখন কমে গেছে। ইরান প্রতি মাসে ১০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম, যেখানে মার্কিনিরি মাত্র ৬–৭টি ইন্টারসেপ্টর উৎপাদন করতে পারে।

বহুমুখী সামরিক সহায়তা (Donald Trump)
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইজরায়েল ও ইউক্রেনকে বড় পরিমাণ সামরিক সহায়তা দেওয়ার কারণে মার্কিন অস্ত্রভান্ডার অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েছে। যদি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়, তবে অস্ত্রের পুনঃমজুদ করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হবে। পেন্টাগন জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনীর কাছে আরও ১০ দিন পর্যন্ত অভিযান চালানোর পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ নেই। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইন্টারসেপ্টর মিসাইল — যা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র আটকাতে ব্যবহার হয় — খুব দ্রুত ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
অর্থনীতির উপর সম্ভাব্য প্রভাব (Donald Trump)
গত বছরের ইরান সংঘাতের সময় মার্কিনিরি THAAD ইন্টারসেপ্টরের ২৫ শতাংশ ব্যবহার করেছিল। JDAM স্মার্ট বোমা, SM-3 অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং অন্যান্য উন্নত প্রতিরক্ষা অস্ত্রের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ইরান প্রতি মাসে ১০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম, যেখানে মার্কিনিরি মাত্র ৬–৭টি ইন্টারসেপ্টর উৎপাদন করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইজরায়েল ও ইউক্রেনকে বিপুল পরিমাণ সামরিক সহায়তা দেওয়ার কারণে মার্কিন অস্ত্রভান্ডার অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েছে। এই ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
কূটনীতি বনাম সামরিক কৌশল (Donald Trump)
মার্কিনিরি হামলার প্রথম ২৪ ঘণ্টার খরচ প্রায় ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬,৯০০ কোটি ভারতীয় টাকা)। USS Gerald R Ford-সহ ‘ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ’ পরিচালনার দৈনিক খরচ প্রায় ৬.৫ মিলিয়ন ডলার। যুদ্ধজাহাজ পাঠানো, বিমান মোতায়েন এবং আঞ্চলিক ঘাঁটি সক্রিয় করার খরচ প্রায় ৬৩০ মিলিয়ন ডলার। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধ অন্তত এক মাস বা তার বেশি সময় চলতে পারে, ফলে এই খাতে খরচ আরও বৃদ্ধি পাবে।
আরও পড়ুন: US Iran: ইরানে সামরিক অভিযান আমেরিকার, আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত মার্কিন অর্থনীতি এবং সামরিক প্রস্তুতিকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, পারমাণবিক আলোচনায় তিনি সন্তুষ্ট নন। অন্যদিকে, ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, মার্কিন হামলা বন্ধ না হলে তাদের প্রতিহামলা চলবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করছেন, চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে আরও বিস্তৃত উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
এছাড়া মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে, যদি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে মিসাইল ও অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র পুনরায় মজুদ করার খরচ বিপুল হবে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান অস্ত্রঘাটি এবং উচ্চ খরচের কারণে এই সংঘাত দ্রুত সমাধান না হলে মার্কিনিরি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রভাবিত হবে।



