Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
বিশেষ প্রতিবেদন: ত্রয়ণ চক্রবর্ত্তী কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী রইল বিধানসভা। দীর্ঘদিন সংগঠনের দায়িত্ব সামলানো, একাধিক নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নেওয়া বিজেপি নেতা (Rahul Sinha) অবশেষে সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশের দোরগোড়ায়। বৃহস্পতিবার তিনি বিধানসভায় গিয়ে রাজ্যসভার একমাত্র বিজেপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন। যদিও সেই মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিল নাটকীয়তা, উদ্বেগ এবং খানিক আবেগের ছোঁয়া।

সময়ের চাপ ও দেরির জল্পনা (Rahul Sinha)
সকাল প্রায় ১১টা ২০ মিনিটে বিধানসভায় পৌঁছন রাহুল সিনহা (Rahul Sinha) । বিরোধী দলনেতার কক্ষে মনোনয়ন সংক্রান্ত নথি যাচাই চলছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু সময় যত গড়াচ্ছিল, ততই বাড়ছিল উদ্বেগ। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল বিকেল তিনটে। এরই মধ্যে শোনা যায়, কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রস্তুত হয়নি। ফলে উপস্থিত বিজেপি নেতাদের মধ্যে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে বেলা দু’টোর কিছু পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পূর্ণ হলে, শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে মনোনয়ন জমা দেন রাহুল সিনহা। যদিও দেরির কারণ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। তাঁর দাবি, মাঝখানে দু’দিন ছুটি থাকায় একটি নথি জমা দিতে বিলম্ব হয়েছে, তবে প্রস্তুতিতে কোনও ঘাটতি ছিল না।
এবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সুযোগ (Rahul Sinha)
রাহুল সিনহার রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ সংগ্রামের। তিনি নয়বার লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, কিন্তু জয়ের মুখ দেখেননি। শেষবার ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হাবড়া কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক-এর বিরুদ্ধে লড়ে পরাজিত হন। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। যেহেতু কোনও আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে না, তাই তাঁর জয় কার্যত নিশ্চিত। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে প্রথমবার বিনা লড়াইয়ে জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। শুক্রবার রয়েছে মনোনয়নের স্ক্রুটিনি, এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর সংসদীয় যাত্রা শুরু হবে।
মনোনয়ন ফর্মে ভুল (Rahul Sinha)
মনোনয়ন পত্র পূরণের সময় বারবার ভুল করছিলেন রাহুল সিনহা এই দৃশ্য উপস্থিতদের নজর এড়ায়নি। কপালে ঘাম, হাতে সামান্য কাঁপুনি যেন পরীক্ষার হলে বসা এক ছাত্র! বহুদিনের রাজনৈতিক সৈনিকের এমন স্নায়ুচাপ অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হয়েছে। শেষমেশ পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্য। খুঁজে বের করা হয় শমীক ভট্টাচার্যের আগেকার রাজ্যসভা মনোনয়ন ফর্ম। সেটি দেখে দেখে নিজের ফর্ম পূরণ করেন রাহুল সিনহা। নির্দিষ্ট সময়ের খানিক পরে হলেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন জমা সম্পন্ন হয়। এই ঘটনাকে অনেকে দেখছেন তাঁর আবেগ ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার ফল হিসেবে। নয়বার ব্যর্থতার পর অবশেষে সংসদে যাওয়ার সুযোগ স্বাভাবিকভাবেই আবেগঘন মুহূর্ত।

ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা (Rahul Sinha)
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর রাহুল সিনহা বলেন, তিনি মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা সংসদে তুলে ধরবেন। তবে একইসঙ্গে তাঁর দাবি, “দুই মাস পর নির্বাচন হলে সরকার পরিবর্তন হবে, বিজেপি ক্ষমতায় আসবে, তখন আর মানুষের কষ্ট থাকবে না।” অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য আরও রাজনৈতিক। তাঁর দাবি, বিজেপি চাইলে আরও একজন প্রার্থী দিয়ে ক্রস ভোটিংয়ের পথে যেতে পারত। তাঁর মতে, তৃণমূলের অন্তত ৬০ জন বিধায়ক বিজেপিকে ভোট দিতেন। তবে বিজেপি সেই পথে হাঁটেনি। এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
ক্রস ভোটিং বিতর্ক ও শুভেন্দুর মন্তব্য (Rahul Sinha)
এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি চাইলে আরও একজন প্রার্থী দিয়ে ক্রস ভোটিংয়ের পথে যেতে পারত। তৃণমূলের অন্তত ৬০ জন বিধায়ক বিজেপিকে ভোট দিতেন বলেও দাবি করেন তিনি। এমনকি হুমায়ুন কবীরের নামও উল্লেখ করেন। তবে বিজেপি সেই পথে হাঁটেনি বলেই দাবি শুভেন্দুর। তাঁর মতে, ক্রস ভোটিংয়ের রাজনীতি তৃণমূলই করে থাকে, আর সেই ভয়েই তারা বাড়তি প্রার্থী দেয়নি। বিজেপি পাঁচটি নাম পাঠালেও গুরুত্ব দিয়ে রাহুল সিনহার নামই চূড়ান্ত করা হয়।

আরও পড়ুন: US Iran: ইরানে সামরিক অভিযান আমেরিকার, আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
রাজনৈতিক প্রতীকী মুহূর্ত
এই পুরো ঘটনাটি শুধুমাত্র মনোনয়ন ফর্মে ভুল করার ঘটনা নয়। এটি এক রাজনৈতিক প্রতীক। একজন অভিজ্ঞ নেতা, যিনি বহু নির্বাচনে লড়েছেন, তিনিও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মানবিক দুর্বলতা দেখাতে পারেন। আবার দলের সহকর্মীরা এগিয়ে এসে তাঁকে সহায়তা করেন এটিও দলীয় ঐক্যের বার্তা বহন করে। সব মিলিয়ে, রাজ্যসভার এই মনোনয়ন শুধুমাত্র একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।



